সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

DSE-A-1 লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কোম্পানির শাসনে ভারতে পুলিশ ব্যবস্থার বিকাশ | Indian Police under the Company Rule

কোম্পানির শাসনে ভারতে পুলিশ ব্যবস্থার বিকাশ  ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অন্যতম স্তম্ভ ছিল পুলিশ বিভাগ। পুলিশের প্রাথমিক কাজ ছিল ইংরেজ অধিকৃত অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা তথা ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা যে কোন ধরনের প্রতিবাদ আন্দোলনকে প্রতিহত করা। প্রাথমিক ব্যবস্থা ও হেস্টিংস-এর সংস্কার ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানির অধিকার পায়। তখন মুঘল পুলিশ ব্যবস্থা ফৌজদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। প্রতিটি সরকার বা জেলা তাদের অধীনে থাকত। কোতোয়ালরা থাকতেন শহরগুলি দেখভালের দায়িত্বে। গ্রামের চৌকিদারদের নিয়ন্ত্রণ করতেন জমিদাররা। মুর্শিদাবাদের নায়েব নাজিম রেজা খাঁর তদারকিতে এই পুরনো ব্যবস্থাই বেশ কিছুদিন কোম্পানি চালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ১৭৭০ এর দুর্ভিক্ষের পর আইনশৃঙ্খলাজনিত অবনতির প্রেক্ষাপটে কোম্পানি সরকার পুলিশ বিভাগীয় প্রশাসনকে ইউরোপীয় তদারকির অধীনে আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ইতি মধ্যে দ্বৈত শাসনের অবসান হয়। ১৭৮১ পর্যন্ত এই পুরানো ফৌজদারী ব্যবস্থায়ই চলেছিল। ওয়ারেন হেস্টিংস তাতে সামান্য কিছু সংস্কার এনেছিলেন। তিনি ফৌজদারদের সরিয়ে তাদের জায়গায...

পাবনা বিদ্রোহ | Pabna Rebellion

 পাবনা বিদ্রোহ | Pabna Rebellion ১৮৭২-৭৩ খ্রিস্টাব্দে পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহাকুমাতে এক জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয় এই বিদ্রোহ পাবনা বিদ্রোহ নামে পরিচিত। একসময় সিরাজগঞ্জ ছিল নাটোরের রাজ পরিবারের জমিদারির অধীনে। কিন্তু রাজস্ব সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ১৮৬০ এর দশকে এই জমিদারি নিলামে ওঠে এবং মুৎসুদ্দি শ্রেণীর হাতে চলে যায়। সিরাজগঞ্জ মহাকুমার শাসক পি. নোলান তার প্রতিবেদনে লিখেছেন, সিরাজগঞ্জের জমিদাররা ছিলেন অত্যধিক সক্রিয় ও উদ্যমশীল। চাষবাসের উন্নতির কাজে এরা কোনরূপ সক্রিয়তা দেখাত না; কিন্তু অসঙ্গত ও অবৈধ উপায়ে কৃষকদের শোষণ ও জমিচ্যুত করার কাজে তারা ছিল সুকৌশলী। বিভিন্ন অবৈধ কর বা আবওয়াব, যেমন পার্বণী, তীর্থ কর, সেলামি, ডাক খরচা, বিবাহ খরচা, নজরানা ইত্যাদি আদায় করত। এমনকি জমি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রেও এরা কৃষকদের ঠকিয়েছিল। যে নল ব্যবহার করে তারা নাটোরের জমিদারের কাছ থেকে সিরাজগঞ্জের জমিদারি কিনেছিল তার মাপ ছিল ২৩ থেকে পৌনে ২৪ ইঞ্চি। কিন্তু কৃষকদের বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে যে নল ব্যবহার করা হয়েছিল তার মাপ ছিল মাত্র ১৮ ইঞ্চি। অর্থাৎ কৃষকের জমি কমে গেল কিন্তু খাজনার চাপ...

হেস্টিংসের ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা | Five Years &One Year Settlement

হেস্টিংসের ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা ১৭৬৫ সালে ইংরেজি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভের পর সেখান থেকে কিভাবে রাজস্ব আদায় করা হবে সেই ছিল একটা বড় প্রশ্ন। প্রথমে নায়েব নাজিম মোহাম্মদ রেজা খাঁকে নায়েব দেবান পদে নিযুক্ত করে তার ওপর ভূমি রাজস্ব আদায়ের সমস্ত দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। রেজা খাঁ ভূমি রাজস্ব আদায়ের জন্য আমিলদের নিযুক্ত করেন এবং যারা সবথেকে বেশি রাজস্ব দেবার প্রতিশ্রুতি দিত তারাই আমিল হিসেবে বহাল থাকার ব্যাপারে অগ্রাধিকার পেত। কোম্পানির নতুন গভর্নর ভারেলেস্ট ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে ভূমি রাজস্ব আদায়ের জন্য সুপারভাইজার বা কালেক্টর নিয়োগ করেন। এরা রাজস্ব আদায়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে জেলার বাণিজ্যের উপরে একচেটিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠাতেই বিশেষ মনোযোগী ছিল, যার ফলে কালেক্টর ব্যবস্থাও অকেজো প্রমাণিত হয়। এই সময় ১৭৭২ এর দুর্ভিক্ষ ইংরেজ কর্তৃপক্ষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এই পরিস্থিতিতে গভর্নর জেনারেল হিসাবে ওয়ারেন্ট হেস্টিংস বাংলা শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং রাজস্ব সংক্রান্ত নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। হেস্টিংস মুর্শিদাবাদের নায়ক দেওয়ান রেজার খাকে...

কর্নওয়ালিস কোড | Cornwallis Code

Cornwallis Code / কর্নওয়ালিস কোড/কর্নওয়ালিসের বিচারবিভাগীয় সংস্কার ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের বিভিন্ন এলাকা দখলের পর কোন ধরনের প্রশাসন যন্ত্র গড়ে তুলবে তাই নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। প্রথমদিকে ক্লাইভ সরাসরি ব্রিটিশ কর্মচারীদের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে জুড়তে চাননি। তিনি দেশীয় কর্মচারীদের মাধ্যমে শাসন পরিচালনাকে সঠিক বলে মনে করতেন। অন্যদিকে ওয়ারেন্ট হেস্টিংস দেশীয় এবং ইউরোপীয় শাসকদের মিলিত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। কিন্তু কর্নওয়ালিস উপরোক্ত দুই পরিকল্পনাকে বাতিল করে সম্পূর্ণ ইউরোপীয় রীতিতে এবং কেবল ইউরোপীয় কর্মচারীদের দ্বারাই শাসন পরিচালনার পক্ষপাতী ছিলেন। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য তিনি একটি শাসন সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রস্তুত করেন, যা 'কর্নওয়ালিস কোড' নামে পরিচিত। কর্নওয়ালিস কোড-এর প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি যুক্তি ও পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ না হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার বিঘ্নিত হয়। তিনি আরো দেখান বিচার ব্যবস্থার রাজনীতিকরণের জন্যই উৎপা...

বাংলার ইতিহাসে রক্তপাতহীন বিপ্লব | Nawab Mir Zafar

বাংলার ইতিহাসে রক্তপাতহীন বিপ্লব মুর্শিদাবাদের দরবারে সিরাজ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রধানতম মুখ ছিলেন মীরজাফর। মীরজাফর ছিলেন সিরাজেরই মির বকশি। সিরাজ এই ষড়যন্ত্রতে মীরজাফরের যুক্ত থাকার কথা জানতে পেরেও তাকে ক্ষমা করে দেন এবং তাকেই পলাশীর যুদ্ধের মূল দায়িত্ব অর্পণ করেন। শেষমেষ মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় সিরাজের পরাজয় ঘটে এবং পূর্বপরিকল্পনামাফিক ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ষড়যন্ত্রকারীরা মীরজাফরকে বাংলার মসনদে বসান(১৭৫৭)। মীরজাফর সিংহাসন লাভের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ক্লাইভকে এবং প্রতিষ্ঠানগতভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করেছিলেন। ক্লাইভ একাই নিয়েছিলেন প্রায় ২০ লক্ষ এর উপরে টাকা। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ কোম্পানি ও অন্যান্য ইংরেজ ব্যবসায়ীরা নিয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। এছাড়া কোম্পানি লাভ করে কলকাতা সংলগ্ন চব্বিশটি পরগনার জমিদারি, যার আয় ছিল প্রায় ৮৮০ বর্গমাইল বছরের। শুধু অর্থ প্রদান নয় বিভিন্নভাবে মীরজাফর ইংরেজ কোম্পানির উপরে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। একদিকে রাজকোষের সংকট অন্যদিকে পরাধীনতা, উভয় সমস্যা মীরজাফরকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এই প্রেক্ষা...

DSE-A-1 Honours (Bengal) CU Question Paper 2021

  Question Papers 2021  HISTORY  —  HONOURS  Paper  :  DSE-A-1 (Bengal)  Full  Marks  :  65   Candidates  are  required  to  give  their  answers  in  their  own  words as  far  as  practicable.  1. Write  short  notes  on  any  three (250  words)   :  5×3 (a) What  was  the  significance  of  Faruksiyar  Farman  of  1717?  (b) What  is  meant  by  Plassey  plunder?  (c) What  was  the  significance  of  the  battle  of  Buxar?  (d) What  do  you  mean  by  de-industrialisation?  (e) Write  a  short  note  on  the  role  of  Rammohan  Roy  in  the  abolition  of  Sati.  (f) Give  a  b...

রাজা রামমোহন রায় এবং সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণ। Rammohan and Satidah Movement

 রাজা রামমোহন রায় ও সতীদাহ আন্দোলন 19 শতকে বঙ্গীয় নবজাগরণের অগ্রদূত ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। তাকে 'ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। গোঁড়া ব্রাহ্মণ পরিবারে রামমোহনের জন্ম হলেও প্রাচ্য দেশীয় এবং পশ্চিমী জ্ঞান -বিজ্ঞানের উপর গভীর অধ্যায়নের পর তিনি সনাতন ভারতীয় সমাজের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তার কর্ম প্রচেষ্টা ছিল বহুমাত্রিক। একদিক থেকে তিনি যেমন হিন্দু ধর্মের পৌত্তলিকতা (মূর্তি পূজা), পুরোহিততন্ত্র এবং বহুঈশ্বরবাদের কঠোর সমালোচনা করে উপনিষদীয় একেশ্বরবাদ প্রতিষ্টায় সচেষ্ট হন।অন্যদিকে সতীদাহ এবং অন্যান্য সামাজিক কূ- প্রথার বিরুদ্ধে তিনি খড়্গহস্ত। মৃত স্বামীর চিতায় স্ত্রীর আত্মাহুতি দেওয়ান নাম হল সতীদাহ ও সহমরণ। এইভাবে একজন নারীর সতীত্ব রক্ষা হয় এবং সতীত্ব প্রমাণিত হয়। মহাভারতের মাদ্রি সহমৃতা হয়েছিলেন। সতীদাহ কোনো আবশ্যিক কর্তব্য ছিল না। বিষয়টি ছিল ঐচ্ছিক। কিন্তু কালের প্রভাবে এর সাথে বিভিন্ন কায়েমী স্বার্থ যুক্ত হয়ে সতীদাহ সনাতন হিন্দু সমাজে একটি নিয়মিত আচারে পরিণত হয়। সতীদাহ একটি পারিবারিক সম্মান রক্ষারও বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মধ্যযুগের বহু শ...

CU DSE-A-1 Honours Syllabus

 Paper 1 DSE-A-1 SEM -5: History of Bengal (c.1757-1905) I. Political history of Bengal under the Nawabs: Rise of British power in Bengal from the battle of Plassey to Buxar.  II. .Administrative history: 1765--1833  III. Colonial economy: - Agriculture, trade and industry.  IV. Cultural changes and Social and Religious Reform Movements: Christian missionaries- The advent of printing and its implications, education: Indigenous and western - Hindu and Muslim religious revivalist movements.  V. Social Reforms and the women’s question.  VI. Protest movements and insurgencies against the Raj: The Fakir and Sannyasi revolts, Indigo Revolt (1859-1860), Pabna Peasant Uprisings (1873-76)  VII. Partition of Bengal 1905: Curzon and the administrative blueprint. Paper 1 DSE-A-1 SEM -5: বাংলার ইতিহাস(১৭৫৭-১৯০৫ খ্রীঃ) নবাবী আমলে বাংলা, পলাশী থেকে বক্সার পর্যন্ত বাংলায় ব্রিটিশ শক্তির উত্থান প্রশাসনিক পুনর্গঠন(১৭৬৫-১৮৩৩) ঔপনিবেশিক অর্থনীতি কৃষি বাণিজ্য শিল্পায়ন সা...

বক্সারের যুদ্ধ: প্রেক্ষাপট, কারণ ও গুরুত্ব | Battle of Buxar: Background & Importance

বক্সারের যুদ্ধ: প্রেক্ষাপট, কারন ও গুরুত্ব  পলাশীর যুদ্ধে সিরাজকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মীরজাফরকে বাংলা নবাব করেছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই মীরজাফর এর সঙ্গে ইংরেজদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তখন তারা মীর জাফরের জামাতা মীর কাসিমের সাথে গোপন চুক্তি করে তাকে বাংলার মসনদে বসান(১৭৫৯)। বিনা যুদ্ধে এহেন রাজা বদল এর ঘটনা বাংলার ইতিহাসে রক্তপাতহীন বিপ্লব নামে পরিচিত। মসনদে অধিষ্ঠিত হয়ে মীর কাসেম চুক্তিমতো ইংরেজদের সমস্ত পাওনা মিটিয়ে দেন। মেদিনীপুর, বর্ধমান ও চট্টগ্রামের জমিদারি, নগদ দশ লক্ষ টাকা এবং উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের 29 লক্ষ টাকা উপঢৌকন দিয়ে দেন। এরপর তিনি রাজ্যের শক্তি বৃদ্ধির দিকে নজর দেন। অবাধ্য কর্মচারী বিহারের দেওয়ান রাম নারায়নকে পদচ্যুত করে হত্যা করেন। রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে বিহারের মুঙ্গেরে স্থানান্তর করেন। সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য সেনাবাহিনীকে ইউরোপীয় প্রথায় শিক্ষিত করার উদ্যোগ নেন। সমরু, মার্কার ও জেন্টিল নামে তিন ইউরোপীয় সেনাপতি কে নিয়ে আসা হয়। মুঙ্গেরে একটি কামান ও বন্দুকের কারখানাও খোলেন। জগত সেঠ ও তার মতো অসৎ ব্যাংকারদের নতুন ব্যবস্...

ওয়াহাবি বিদ্রোহ ও তার চরিত্র | Wahabi Movement and it's Charecter

ওয়াহাবি বিদ্রোহ ও তার চরিত্র ওয়াহাবি আদর্শের প্রকৃত নাম 'তরিকা ই মহম্মদিয়া' অর্থাৎ মহম্মদের আদর্শিত পথ। আরব দেশে আব্দুল ওয়াহাবের নেতৃত্বে ইসলাম ধর্মাবলম্বী দের মধ্যে যে অ- ইসলামিক রীতিনীতি প্রচলিত ছিল অর্থাৎ 'বিদ-আত' তা দূরীকরণের জন্য যে শুদ্ধিকরণ আন্দোলন শুরু হয়েছিল তাই তরিকা ই মুহাম্মদিয়া নামে পরিচিত। যেহেতু আব্দুল ওয়াহাবের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল তাই এই আন্দোলন ওয়াহাবি আন্দোলন নামেও পরিচিত। ওয়াহাবি আন্দোলনের সূচনা ভারতবর্ষে হয় শাহ ওয়ালীউল্লাহ এর হাত ধরে। কিন্তু বিস্তার লাভ করে সৈয়দ আহমেদ বারেলির নেতৃত্বে। বঙ্গদেশে তিতুমীরের নেতৃত্বে ওয়াহাবি আন্দোলন একটি ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের রূপ নিয়েছিল। সৈয়দ আহমেদ বারেলির নেতৃত্বে সিন্ধু এলাকায় যে ধর্মীয় আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল তাতে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক চিন্তার ছাপ ছিল। একদিকে তারা শির্ক ও বিদআতের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করত এবং মোহাম্মদের নির্দেশিত পথে চলার পরামর্শ দিত। অন্যদিকে তিনি ইংরেজ শাসিত ভারতকে দার উল হারব শত্রু দেশ হিসাবে অভিহিত করেন এবং মোহাম্মদের অনুগামীদের ভারতকে দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য আহবান ক...

বাংলায় অর্থনৈতিক নিষ্ক্রমণ (1757-1857) | Economic Drain in Bengal (1757–1857)

বাংলায় অর্থনৈতিক নিষ্ক্রমণ (1757-1857) বাংলায় উপনিবেশিক অর্থনীতির প্রত্যক্ষ ফলশ্রুতিতে সম্পদ নিষ্ক্রমণ। ১৮ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজির ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরোক্ষভাবে হলেও বাংলার রাজনীতিতে অধিপত্য স্থাপন করে। রাজনৈতিক অধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুবাদে ইংরেজরা নানা কৌশলে বাংলা থেকে প্রচুর সম্পদ নিজ দেশে চালান করে। এর প্রতিদানে বাংলা কিছুই পাইনি, বাংলা থেকে নিয়মিত একমুখী সম্পদ নিঃসরণকে ঐতিহাসিক ও সমাজবিজ্ঞানীগণ আর্থিক নিষ্ক্রমণ বা Economic drain বলে উল্লেখ করেছেন।  ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, বাংলা থেকে আর্থিক নিষ্ক্রমণ মূলত দুটি ধারায় হয়েছিল। ১. ব্যক্তিগত বাণিজ্যে লিপ্ত বণিকদের মাধ্যমে। ২. কোম্পানির অনুসৃত আর্থিক ও বাণিজ্যিক নীতির মাধ্যমে। পলাশী পরবর্তী বাংলায় নবাব বদলের ব্যবসা করে ইংরেজ কর্মচারীরা প্রচুর অর্থ লাভ করেছিল। এই অর্থ এসেছিল মূলত উপঢৌকান এবং নজরানা আদায়ের মাধ্যমে। এভাবে অবৈধ উপায়ে সম্পদ সংগ্রহের ব্যাপারে রবার্ট ক্লাইভের নাম উল্লেখযোগ্য।  পলাশী পরবর্তী বাংলায় কোম্পানির কর্মচারীরা ব্যক্তিগত বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেছিল। ওরা এই কাজে দস্তকের...

Deindustrialization debate | অবশিল্পায়ন বিতর্ক

অবশিল্পায়ন বিতর্ক Global contribution in World GDP অবশিল্পায়ন বলতে সব্যসাচী ভট্টাচার্য বুঝিয়েছেন, যদি দেশের মানুষ শিল্পকর্ম ছেড়ে চাষাবাদের জীবিকা অর্জন শুরু করে অর্থাৎ জাতীয় আয়ে কৃষিজ অংশ বাড়তে থাকে এবং শিল্পজ অংশ কমতে থাকে তাকে অবশিল্পায়ন বলে। ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অন্যতম ফলশ্রুতি ছিল অবশিল্পায়ন। যদিও ঔপনিবেশিক ঐতিহাসিকগণ অবশিল্পায়ন তত্ত্ব মানতে চান না। মুঘল যুগ থেকে কুটির শিল্পে ভারত বিশ্বে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করেছিল। বিশেষ করে বস্ত্র শিল্পের খ্যাতি ছিল জগৎজোড়া। ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব হয়েছিল। তার নেগেটিভ প্রভাব পড়েছিল ভারতে। শিল্প বিপ্লব এবং ঔপনিবেশিক শাসন নীতির যৌথ আঘাতে ভারতে কুটির শিল্পের অবক্ষয় সূচিত হয়। অনেক ঐতিহাসিক অবশ্য অবশিল্পায়নের পশ্চাতে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব বা ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেন না। তাদের মতে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, যেমন বর্গী আক্রমণ, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ প্রভৃতি ঘটনা কুটির শিল্পের অগ্রগতির পথে অন্তরায় হয়েছিল। ডি. আর. গ্যাডগিল মনে করেন, আঠারো উনিশ শতকে দেশীয় রাজাদের ক্ষমতা হারানোর ফলে তাদে...

Farman of 1717 | ফারুখশিয়রের ফরমান

Farman of 1717 | ফারুখশিয়রের ফরমান ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যাত্রা শুরু হয় ১৬০০ সালে ৩১শে ডিসেম্বর একটি রাজকীয় সনদের মাধ্যমে। ভারতে ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে পর্তুগিজরা প্রথম এ দেশে এসেছিলেন। ১৬১৩ সাল থেকে ইংরেজ কোম্পানি এদেশের রীতিমতো ব্যবসাপত্র শুরু করে দেয়। মুঘল বাদশাহ জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে কোম্পানি যে ফরমান পায় তাতে তারা ভারতে বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন পায়। সুরাটে ছিল তাদের প্রথম কারখানা। ইংরেজদের প্রতিনিধি ও দৃত হিসেবে স্যার টমাস রো রাজ দরবারে অভ্যর্থনা পান। ক্রমে কোম্পানির ব্যবসা বাড়তে থাকে। কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজ- এই তিনটি বানিজ্যঘাটিঁর মধ্যে কলকাতা ছিল তাদের প্রধান কর্মকেন্দ্র। পরবর্তীকালে তারা যে ক্রমাগত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছিল তার সূচনা হয়েছিল বাংলা থেকে। বণিকের মানদণ্ড রাজদণ্ডে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল ১৭১৭ সালে মুঘল সম্রাট ফারুকশিয়ারের ফরমান। বাংলা, বিহার, ওড়িশা কে নিয়ে গঠিত বাংলা সুবা ছিল আইনত  দিল্লির বাদশাহের অধীনে। ১৬৯০ সালে ঔরঙ্গজেব এক আদেশনামায় কোম্পানিকে বছরে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশে বিনামূল্যে বাণিজ্য...

1770 Bengal Famine | ছিয়াত্তরের মন্বন্তর

1770 Bengal Famine | ছিয়াত্তরের মন্বন্তর 18 শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা তথা ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হল ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। ইতিপূর্বে যতগুলি দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তা এক ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। বাংলা সাল ১১৭৬ বঙ্গাব্দে এই ঘটনা ঘটেছিল বলে একে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বলা হয়। মন্বন্তরের প্রধান কারণ হলো খাদ্যভাব। খাদ্যভাবের ব্যাপারটি ছিল এরকম যে, চালের অস্বাভাবিক দামের জন্য তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। মাঝে মাঝে বাজার থেকে খাদ্যদ্রব্য একেবারে উধাও হয়ে যেত। দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম ও শহর উভয়কেই আক্রান্ত করেছিল। বঙ্কিমের আনন্দেমঠে দুর্ভিক্ষ কবলিত গ্রামের ছবি আমরা পাই। এক ব্রিটিশ রেসিডেন্টের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায় যে, জীবন্ত মানুষ মৃত মানুষের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিল। খাদ্যভাবে সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল মুদ্রাভাব। বাংলার বাজার থেকে রুপার মুদ্রা সিক্কা কমে যাওয়ায় লেনদেন প্রায় অচল হয়ে গিয়েছিল। এই খাদ্যভাব ও অর্থনৈতিক সংকটের পশ্চাতে কে দায়ী ছিল তা অনুসন্ধানের জন্য কোম্পানির নির্দেশকরা চেষ্টা দেখিয়েছিলেন। দুর্নীতি ও খাজনার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে রেজা খাঁকে তার নায়ে...

১৭৬৫ এর দেওয়ানী লাভ / 1765 Diwani of Bengal

১৭৬৫ এর দেওয়ানী লাভ / 1765 Diwani of Bengal দেওয়ানী ব্যবস্থা ভারতে মোগল শাসন পদ্ধতি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিটি প্রদেশের সরকারি ক্ষমতা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিলঃ দেওয়ানী ও নিজামত। প্রথমটির অধীনে ছিল রাজস্ব আদায় ও ভূমি সংক্রান্ত মামলা এবং দ্বিতীয়টির অধীনে ছিল শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও ফৌজদারি মামলা। তবে মুঘল শাসনের শেষের দিকে এই দুই ক্ষমতা একই ব্যক্তির হাতে চলে আসে। নবাব আলীবর্দী খাঁ ছিলেন একাই ছিল বাংলার দেওয়ান ও সুবাদার। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভ করে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একই সাথে বাংলা, অযোধ্যা ও দিল্লি কে পরাস্ত করেছিল। কোম্পানী পরাজিত অযোধ্যার রাজা সুজা-উদ্দৌলার সাথে এলাহাবাদের প্রথম চুক্তি (১৭৬৫) স্বাক্ষর করে। এলাহাবাদ ও কারা এবং ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে। কোম্পানীর এর পরবর্তী পদক্ষেপ ছিল মুঘল বাদশাহ-র কাছ থেকে বাংলা বিহার ও উড়িশার দেওয়ানীর অধিকার আদায় করা। কোম্পানী এলাহাবাদ ও কারা  বাদশাহের হাতে অর্পণ করলে উৎফুল্ল বাদশাহ কোম্পানিকে বছরে ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িশার দেওয়ানির অধিকার অর্পণ করল। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ান...

বাংলায় দ্বৈত শাসন | Diarchy in Bengal

বাংলায় দ্বৈত শাসন| Diarchy in Bengal ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় দেওয়ানীর অধিকার লাভ করার ফলে যে ধরনের শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয় তাকে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বলা হয়। বক্সারের যুদ্ধে মুঘল বাদশাহ শাহআলম পরাজিত হন। তাই বাস্তবিক বাধ্যবাধকতা থেকে তিনি ১৭৬৪ সালে এলাহাবাদের দ্বিতীয় সন্ধির মাধ্যমে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কে বছরে ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বাংলা, বিহার ,উড়িষ্যায় দেওয়ানীর অধিকার দেন। ইতিপূর্বে নবাব আলীবর্দী খাঁ পর্যন্ত বাংলার নবাবেরা একই সঙ্গে দেওয়ানী অর্থাৎ রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত অধিকার এবং সুবাদারি অর্থাৎ আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধিকার ভোগ করতেন। কোম্পানির দেওয়ানি লাভ এর ফলে দেওয়ানী অধিকার নবাবের হাতছাড়া হল। অর্থসংক্রান্ত অধিকার নবাবের হাতে না থাকায় নবাব ক্ষমতাহীন দায়িত্বধারীতে পরিণত হলেন। অন্যদিকে কোম্পানি দায়িত্বহীন, কিন্তু চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী হল। কোম্পানি তার কাজের জন্য রেজা খাঁ ও সিতার রায় কে নিযুক্ত করল। দৈত্য শাসন মুঘল যুগের নতুন নয়। শক্তিশালী মুঘল শাসকের প্রাদেশিক  শাসননীতিরই অঙ্গ ছিল  দেওয়ান ও সুবাদর হিসেবে আলাদা লোক নিযুক্ত করা। তবে...

বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত / Permanent Settlement in Bengal

বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও জমিদার দের সাথে জমিস্বত্ব ও রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত একটি চুক্তি, যার মাধ্যমে জমিদাররা শর্তসাপেক্ষে জমির উপর চিরকালীন স্বত্ব লাভ করেছিল। প্রথমে বাংলা, বিহার ও উড়িশার উপর এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয় এবং পরবর্তীকালে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সীর উত্তর অংশে প্রযুক্ত হয়। চিরস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রামবাংলার সমকালীন সমাজ ও অর্থনীতিকে দারুনভাবে প্রভাবিত করে।  প্রেক্ষাপট মুঘল আমল থেকে বঙ্গদেশে জমিদাররা রাজস্ব আদায়ের কাজে যুক্ত থাকত। মুঘল দেওয়ান ও তার অধীনস্ত জাগিরদাররা রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে জমিদারদের উপর নির্ভরশীল ছিল। ১৭৬৫ সালে বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর মুঘল বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলা বিহার ও উড়িশার দেওয়ানীর অধিকার পায়। কোম্পানির অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল পর্যাপ্ত পরিমানে রাজস্ব বাবদ আয় বৃদ্ধি। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছিল না, যার অন্যতম কারণ দ্বৈতশাসন অর্থাৎ পৃথক ফৌজদারের উপস্থিতি। তাই ১৭৭০ এর ভয়ানক দুর্ভিক্ষের দায় রেজা খা ও সিতাব রায়ের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়। কোম্পানীর কলকাতা প্রেসিডেন্সির গভ...

Battle of Plassey | পলাশীর যুদ্ধ

Battle of Plassey | পলাশীর যুদ্ধ  Siraj Ud Daulla আষ্টাদশ শতকে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী  রাজনৈতিক ঘটনা হল ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ। বাংলায় নবাবী শাসনের সূচনা হয়েছিল মুর্শিদকুলি খাঁর হাত ধরে। কাগজে কলমে বাংলার নবাবী মুঘলদের অধীনে হলেও কার্যত বাংলা স্বাধীন ভাবেই চলত। নবাব আলিবর্দির মৃত্যুর পর তার নাতি সিরাজ উদ্দৌলা বাংলার নবাব হন। নানা কারনে সিরাজের সাথে ইংরেজ বনিক, দরবারি লোকজন এবং দেশীয় ব্যাঙ্কার ও ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক খারাপ হয়, যা যুদ্ধে পরিণতি লাভ করে।  পলাশীর যুদ্ধের পটভূমি পলাশীর যুদ্ধের পটভূমি আলোচনা করতে গেলে প্রধানত দুটি দিকে গুরুত্ত দিতে হবে। প্রথম হল নবাব সিরাজের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধ ও দ্বিতীয়টি নবাবের বিরুদ্ধে তাঁর দরবারের মানুষজনের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। প্রথম কারণটি জন্য তৎকালীন বৃটিশ ঐতিহাসিকেরা সিরাজকে প্রধানত দায়ী করেছেন। ঐতিহাসিকদের মধ্যে অন্যতম  এস সি হিল ও ডড ওয়েল । আধুনিককালের ঐতিহাসিক পিটার মার্শাল ও ক্রিস বেইলি ও এই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন। ডডওয়েল  মনে করেন দাক্ষিণাত্যে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বের ঘটনায় সিরাজ উদ্বিগ্ন ছিলেন। কলকাত...

Murshid Quli Khan | মুর্শিদকুলি খাঁ

Please visit our Homepage and Follow us. Murshid Quli Khan | মুর্শিদকুলি খাঁ অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে ভারতের রাজনৈতিক সংকটকালে যে সমস্ত ব্যক্তি নানান দুর্যোগ অতিক্রম করে ক্ষমতার শিখরে পৌঁছে ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাংলার নবাব  মুর্শিদকুলি খাঁ । প্রথমে হায়দ্রাবাদ ও ১৭০০খ্রিস্টাব্দে বাংলার দেওয়ান পদে নিযুক্ত হন, ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে উড়িষ্যার সুবাদার ও তার পরের বছর বিহারের দেওয়ান পদ লাভ করেন। সম্রাট  ঔরংজেব তাকে  মুর্শিদকুলি খাঁ  উপাধি দিয়েছিলেন। ১৭১৩ সালে তিনি বাংলার ডেপুটি সুবাদার ও 1717 সালে তিনি বাংলার সুবাদার পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন তার উপাধি হয়েছিল আলাউদ্দিন জাফর খান বাহাদুর। মুর্শিদকুলি খানের রাজস্ব ব্যবস্থা মুর্শিদকুলি খানের জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো বাংলার ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার।মুর্শিদকুলি খানের ভূমি রাজস্ব সংস্কার সম্পর্কে আমরা জানতে পারি সালিমউল্লাহ রচিত  তারিখ-ই-বঙ্গালাহ ও জেমস গ্রান্টের Analysis of the finances of Bengal থেকে।  স্যার যদুনাথ সরকার মুর্শিদকুলি খাঁর ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার বিস্তৃত আলোচনা করেছেন, রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য ম...