সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

EARLYMEDIEVALINDIA লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

চোল রাজাদের বাণিজ্য নীতি | The Trade Policy of the Chola Kings

চোল রাজাদের বাণিজ্য নীতি আদিমধ্য যুগে দক্ষিণ ভারতে বাণিজ্যে, বিশেষ করে মহাসাগরীয় বাণিজ্যে চোল রাজারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। দুই মহান চোল রাজা রাজরাজ ও রাজেন্দ্র চোলের যোগ্য তত্ত্বাবধানে ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যে আরব বণিকদের প্রভাব ক্ষুন্ন করে নিজেদেরকে দেশীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিল।  রাজরাজের সময় করমন্ডল উপকূল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের সাথে বাণিজ্যের প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়। প্রথমদিকে মামল্লপুরম বন্দরের গুরুত্ব ছিল। নেগপত্তনমের উত্থান মামল্লপুরমের গুরুত্ব হ্রাস পায়। চোল রাজা রাজরাজ চীনে দূত পাঠান। চোলরা রাজারা নৌ-বাণিজ্যে আরবদের প্রভাব ক্ষুন্ন করতে উদ্যোগী হন। রোমিল থাপারের মতে এজন্যই পান্ড্য ও কেরল রাজ্য আক্রমণ করেন। কেরল জয় করে সেখানে আরব বণিকদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করে দেন। তিনি মালদ্বীপ দখল করেন। লাক্ষাদ্বীপ দখল করেন, সিংহল আক্রমণ করে অর্ধেকটা জয় করেন। এগুলি সবই ছিল আরব বণিকদের বাণিজ্যের ঘাঁটি।  রাজরাজের পুত্র রাজেন্দ্র চোলও ওই একই নীতি গ্রহণ করেন। সিংহল জয়ের অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রীবিজয় নামক স্বাধীন রাজ্যটি দক্ষিণ ...

পল্লব- চালুক্য দ্বন্দ্ব | Pallava-Chalukya Conflict

পল্লব- চালুক্য দ্বন্দ্ব গুপ্তোত্তর যুগের রাজনৈতিক ইতিহাসে দক্ষিণ ভারত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছিল। উত্তর ভারতে তখন বর্ধন রাজবংশের শাসন ছিল। দক্ষিণ ভারত একাধিক ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত। কিন্তু অপেক্ষাকৃত বৃহৎ রাজশক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল কাঞ্চীর পল্লব এবং বাতাপির চালুক্যরা। কৃষ্ণা-তোঙ্গভদ্রা দোয়াব অঞ্চলের উপর অধিকারকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের মধ্যে প্রায় ২০০ বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলেছিল।  দাক্ষিনাত্যে বাতাপিকে কেন্দ্র করে চালুক্যদের আবির্ভাব ঘটেছিল। বাতাপির অবস্থান বর্তমান কর্ণাটকের বিজাপুর জেলায়। এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম পুলকেশী (৫৩৬-৫৬৬ খ্রিঃ)। এই বংশের চতুর্থ শাসক ছিলেন দ্বিতীয় পুলকেশী (৬১১-৬৪২ খ্রিঃ) বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক এবং তাঁর রাজত্বকালেই পল্লবদের সাথে দ্বন্দ্বের সূচনা হয়েছিল। এদিকে পল্লবদের উতপত্তির ইতিহাস আজও রহস্যাবৃত। ষষ্ঠ শতকের শেষ দিকে সিংহবিষ্ণু এই রাজ বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পুত্র প্রথম মহেন্দ্রবর্মনের (৬০০-৬৩০ খ্রিঃ) রাজত্বকালেই পুলকেশীর সাথে দ্বন্দ্বের সূচনা হয়েছিল। চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশী (৬১১-৬৪২ খ্রিঃ) বেঙ্গি জয় করার পর পল্লব রাজা প্রথম মহেন্দ্রবর্...

চালুক্য রাজ দ্বিতীয় পুলকেশী | Chalukya King Pulakeshin II

 চালুক্য রাজ দ্বিতীয় পুলকেশী দ্বিতীয় পুলকেশী ছিলেন দক্ষিণ ভারতের চালুক্য রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক। তিনি হর্ষবর্ধনের সমসাময়িক ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক ইতিহাস জানার জন্য তাঁর সভাকবি রবিকীর্তি রচিত আইহোল লিপি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাদামির (বর্তমানে কর্ণাটকের বিজাপুর জেলায় অবস্থিত) চালুক্য রাজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম পুলকেশী (৫৩৫-৫৬৬ খ্রিঃ)। বাদামি দুর্গের প্রতিষ্ঠাতা তিনিই। তাঁর পরবর্তী শাসক ছিলেন মহারাজ প্রথম কীর্তিবর্মণ (৫৬৭-৫৯৮ খ্রিঃ)। তাঁর সময়ে দাক্ষিনাত্যের বিস্তৃত এলাকায় চালুক্যদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী শাসক মঙ্গলেশের (৫৯৮-৬১১ খ্রিঃ) রাজত্বকালের শেষদিকে এক গৃহযুদ্ধ আরম্ভ হয়। গৃহযুদ্ধে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় পুলকেশী সিংহাসন আরোহন করেন (৬১১ খ্রীঃ)।   গৃহযুদ্ধ চলাকালে চালুক্য রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অধীনস্থ নরপতিরা সুযোগ বুঝে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। এদিকে অপ্যায়িকা ও গোবিন্দ নামে দুজন শাসক ভীমা নদীর উত্তর তীর পর্যন্ত অগ্রসর হয়ে রাজধানীর কাছাকাছি এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। এই অবস্থায় পুলকেশী বৈদেশিক আক্রমণের মোকাবিলা করেন। ভেদনীতি অনুসরণ করে গোবিন্দকে নিজ পক্ষে টেনে ...

আদি মধ্যযুগে দক্ষিণ ভারতের বণিক সংঘ

  আদি মধ্যযুগে দক্ষিণ ভারতের বণিক সংঘ ‘ গিল্ড’ বলতে আমরা সাধারণত বুঝি এমন এক বাণিজ্যিক সংগঠন যা কতকগুলি নিয়মের দ্বারা পরিচালিত, যা সব সদস্য মেনে চলে। আদি মধ্যযুগে দক্ষিণ ভারতের বাণিজ্য সংগঠনগুলি এই শর্ত পূরণ করে না, যদিও ‘বার্নাজু ধর্ম’ নামক আচরণের এক ধরনের আদর্শ তাদের সামনে ছিল, যা গিল্ডের নিয়মাবলিকে মনে করায়। ড. আর. চম্পকলক্ষ্মী তাই এইসব প্রতিষ্ঠানকে ‘গিল্ড’ না বলে বাণিজ্য সংস্থা বা বাণিজ্যিক সমবায় বলার পক্ষপাতী। কার্যপরিধি অনুসারে তাদের মােটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ১। নগরম স্থানীয় বাণিজ্য সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করতে। সব বিপণন কেন্দ্রেই এদের অস্তিত্ব ছিল। এখানে ভ্রাম্যমাণ বণিকদের সঙ্গে স্থানীয় বণিকরা পণ্য বিনিময় করত। অন্তত চতুর্দশ শতক পর্যন্ত দক্ষিণ ভারতে, বিশেষত তামিলনাড়ুতে এদের অস্তিত্ব ছিল। দক্ষিণ ভারতে মুদ্রা কমই ব্যবহৃত হত। পণ্য বিনিময় ব্যবস্থা (barter system) অধিক প্রচলিত ছিল।কতকগুলি বিশেষ পণ্যের ক্ষেত্রে যেমন বস্ত্র বা তেল— নগরমের পক্ষ থেকে উপ-নগরমকে কেনাবেচার দায়িত্ব দেওয়া হত। সামুদ্রিক বাণিজ্যে নিযুক্ত বণিকদের ক্ষেত্রে আমরা ‘পারগলগরম’ শব্দের উল্লেখও পেয়েছি। ২। ...

আদি মধ্যযুগের ইতিহাস চর্চায় সাহিত্যিক উপাদান | Literary Sources in the Study of Early Medieval History

আদি মধ্যযুগের ইতিহাস চর্চায় সাহিত্যিক উপাদান সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত ভারতবর্ষে  আদি মধ্যযুগ। এই যুগে রচিত ইতিহাস গ্রন্থ বলতে একমাত্র রাজতরঙ্গিনী ।  তবে ইতিহাস গ্রন্থের অভাব থাকলেও ইতিহাস চর্চা অসাধ্য হয় নি। সাহিত্যিক উপাদানের বহুল উপস্থিতি এবং বহু লিপি ও মুদ্রা এই পর্বের ইতিহাস চর্চায় কাজে আসে। আদি মধ্যযুগের সবচেয়ে বড় উপাদান হল জীবনী সাহিত্য । এই পর্বে রাজার গুণকীর্তন করে প্রচুর জীবনচরিত লেখা হয়। চালুক্য রাজ ষষ্ঠ বিক্রমাদিত্যের  জীবন নিয়ে  বিক্রমাঙ্কদেবচরিত   রচনা করেছেন বিলহন। সন্ধ্যাকর নন্দী রচনা করেছিলেন রামচরিত । এটি দ্ব্যর্থক ভাষায় লেখা। এখানে পাল রাজা রামপাল এবং ভগবান রামচন্দ্রের কাহিনী দ্ব্যর্থক ভঙ্গিতে বর্ণিত হয়েছে। জৈন গুরু জয়সিংহ দ্বাদশ শতকের চালুক্য বংশীয় শাসক কুমার পালের জীবনী কুমারপালচরিত রচনা করেছিলেন। সিন্ধু রাজা নবশশাঙ্কের জীবনী নবশশাঙ্কচরিত রচনা করেছেন পদ্মগুপ্ত। এছাড়াও আছে চাঁদ বরদৈ রচিত পৃথ্বীরাজ রাসো । এই জীবন রচিত গুলির নিরপক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কারন এ ক্ষেত্রে প্রভুর প্রতি পক্ষপাতিত্ব থেকে যায়। তাই জীবনচরিতের তথ্...

আদি মধ্য যুগে রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রকৃতি | Early Medieval Indian State

 আদি মধ্য যুগে রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রকৃতি আদি মধ্য যুগে রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রকৃতি নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। বিশ শতকের গোড়ার দিকের ঐতিহাসিকগন যেখানে কেন্দ্রিভূত রাষ্ট্রের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করে ছিলেন সেখানে ঐ শতকের মাঝামাঝি সময় বেশ কিছু ঐতিহাসিক সামান্ততন্ত্রের তত্ত্ব খাড়া করেছেন। আবার সত্তরের দশকে আরও একটি নতুন তত্ত্ব উঠে এসেছে, সেটি হল বিভাজিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার তত্ত্ব। কোনো পক্ষই তাদের মতামতের সমর্থনে অকাট্য প্রমান হাজির করতে পারিনি বলেই কোনো তত্ত্বই আজও সম্পূর্ণ গ্রহনযোগ্য হয়ে ওঠে নি।  গুপ্ত শাসনের অবসানের পর উত্তর ভারতে একাধিক আঞ্চলিক রাজশক্তির বিকাশ ঘটেছিল। দক্ষিণ ভারতেও ছবিটা একই রকম ছিল। আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলির শাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থার চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে   A. S. Altekar, K. A. Nilkantha Sastri, R. K. Mukharjee প্রমুখ ঐতিহাসিক কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্রের কল্পনা করেছেন। কিন্তু মার্কসবাদী ঐতিহাসিকগন মার্ক্সের 'এশীয় উৎপাদন পদ্ধতি' তত্ত্বের দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রসমূহ কে নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ, স্বৈরাচারী শাসকের দ্বারা পরিচালিত, উদ্বৃত্ত শোষনকারী ...

আদি মধ্য যুগে কৃষি উৎপাদন ও ভূমি সম্পর্ক। Agriculture and Land Relation in 750-1200 C.E.

আদি মধ্য যুগে কৃষি উৎপাদন ও ভূমি সম্পর্ক ভারতবর্ষ বরাবরই কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষিই এদেশের মানুষের প্রধান জীবিকা প্রাচীনকাল থেকেই। ভারতের মাটি উর্বর; জলবায়ু অনুকূল; এবং এখানে পর্যাপ্ত শ্রমের কখনো অভাব ছিল না। প্রাচীনকাল থেকেই কৃষি উৎপাদনের অগ্রগতিতে কখনো বাধা আসে নি। 600 থেকে 1200 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালে সমসাময়িক ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায় কৃষির অগ্রগতি অপেক্ষাকৃত দ্রুত হয়েছিল। হিউয়েন সাং সপ্তম শতকে ভারত পরিভ্রমণ করে এক স্বচ্ছল কৃষি ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরেছেন।  আলোচ্য পর্বে বহু রকমের কৃষি উৎপাদনের পরিচয় পাওয়া যায়। পদ্মপুরাণ থেকে জানা যায় যে প্রাচীন বাংলায় প্রায় পঞ্চাশ রকমের চাল উৎপাদন হতো। মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন প্রকার শাক সবজি চাষ হতো। উপকূল ভাগের প্রচুর নারকেল উৎপন্ন হতো। দাক্ষিণাত্যে সুপারি ও পানের উৎপাদন ছিল লক্ষণীয়। গুজরাট ও দাক্ষিণাত্যে কার্পাস ও তৈলবীজ ব্যাপকহারে উৎপাদিত হতো। মালাবার অঞ্চল মশলা উৎপাদনে বিখ্যাত ছিল। কাশ্মীরে জাফরান হত। গুজরাটে কর্পূর, হিং, জায়ফল, জৈত্রী চাষের তথ্যও পাওয়া যায়। আলোচ্য পর্বে দুটি কৃষি বিষয়ক গ্রন্থও রচিত হয়েছিল: কৃষিসুক্তি ও কৃষি...

CC-5 (CU-HONS) এক ক্লিকেই সব উত্তর | Early Medieval India, 750-1206

 CC-5 (CU-HONS)-  Early Medieval India, 750-1206 ১. ইতিহাস রচনা ও ঐতিহাসিক বিতর্ক  ক) আদি মধ্য যুগের ইতিহাসের উপাদান হিসাবে সাহিত্যিক উপাদানের গুরুত্ত্ব  খ) আদি মধ্য যুগের ইতিহাসের উপাদান হিসাবে  প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের গুরুত্ত্ব  গ) আদিমধ্য যুগে সামন্ততন্ত্র বিতর্ক ঘ) রাজপুত দের উত্থান সংক্রান্ত বিতর্ক ঙ) আদিমধ্য যুগে রাষ্ট্রের চরিত্র ২. রাজনৈতিক ইতিহাস ক) ধর্মপালের রাজনৈতিক অবদান খ) দেবপালের রাজনৈতিক অবদান গ) কৈবর্ত বিদ্রোহ   ঘ) ত্রিশক্তি সংঘর্ষ ঙ) চোলদের সামুদ্রিক কার্যকলাপ চ) চোলদের স্থানীয় স্বশাসন  ছ) আরবদের সিন্ধু অভিযান ও তার তাৎপর্য জ) সুলতান মামুদের অভিযান ঝ) মহম্মদ ঘরির অভিযান ঞ) মামুদ ও ঘোরির অভিযানের মধ্যে পার্থক্য ট) সোমনাথ মন্দির লুন্ঠন ঠ) বক্তিয়ার খলজীর বঙ্গদেশ বিজয়   ৩. কৃষি কাঠামো ও সামাজিক পরিবর্তন  ক) কৃষির সম্প্রসারণ খ) ভূমি সম্পর্ক- ভুস্বামী ও কৃষক গ) জাতি ব্যাবস্থার সম্প্রসারণ ও অস্পৃশ্যদের অবস্থান ঘ) উপজাতি সম্প্রদায়ের কৃষি ব্যাবস্থায় অনুপ্রবেশ এবং বর্ণ ব্যাবস্থায় তাদের অবস্থান ৪. ব্যবসা বানিজ্...

আদিমধ্য যুগে সমুদ্র বাণিজ্য | Overseas Trade in Early Medieval India

আদিমধ্য যুগে সমুদ্র বাণিজ্য রামশরণ শর্মা ও তার অনুগামীগন মনে করেন যে, গুপ্ত যুগের শেষ দিকে রোম-ভারত বাণিজ্যের অবনতিজনিত কারণে খ্রিস্টীয় চতুর্থ থেকে সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনীতিতে সমুদ্র বাণিজ্যের গুরুত্ব কমে যায়। তিনি দেখিয়েছেন পঞ্চম শতাব্দীর শেষ দিক থেকে ক্রমশ স্বর্ণমুদ্রার মান নিম্নগামী হয়। উত্তর ভারতের অধিকাংশ রাজবংশে নামাঙ্কিত কোনো স্বর্ণমুদ্রা পাওয়া যায় নি। দক্ষিণ ভারতেও সাতবাহনদের পতনের পর থেকে মুদ্রার ব্যবহার কমে আসে। মুদ্রা ব্যবহারের যেটুকু প্রমান পাওয়া গেছে তা বেশিরভাগই তামার মুদ্রা, যা দিয়ে বহির্বাণিজ্য হয় না। তবে সপ্তম শতাব্দীর পর থেকে বাণিজ্যের  পুনরায় অগ্রগতি ঘটতে থাকে বলে তিনি মনে করেন। চতুর্থ থেকে সপ্তম শতকে ভারতের বহির্বাণিজ্য কতটা সজীব ছিল তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অষ্টম শতক থেকে সচল সমুদ্র বাণিজ্য সম্পর্কে কারো সন্দেহ নেই। রোম ভারত বাণিজ্য অবনতি ঘটলেও বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ফলে সমুদ্র বাণিজ্য কিছুটা চাঙ্গা হয়। ভারতের পশ্চিম উপকূলে পারস্য উপসাগরের মধ্য দিয়ে আরব সাগরীয় বাণিজ্যের অংশ নিত বাইজানটাইন বণিক ও ইরানের সাসানীয় বণিকেরা। এই দুই দেশের ব...

Guild | Early Medieval India | আদি মধ্যযুগে গিল্ড

আদি মধ্যযুগে গিল্ড  শিল্পী ও কারিগরদের সংগঠন কে গিল্ড  বলা হয়। ভারতে এগুলিকে শ্রেণি বা সংঘ বলা হত। সুপ্রাচীন কাল থেকে ভারতে শ্রেণী বা সংঘ গুলির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। গুপ্ত যুগ থেকে ভারতে আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছিল তার প্রভাব গিল্ড গুলির উপরেও পড়েছিল। তাই আদি মধ্যযুগের গিল্ড গুলির চরিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছিল। আদি মধ্যযুগের গিল্ডের গুরুত্ব কিছুটা কমে ছিল বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। লালন গোপাল মনে করেন যে, গিল্ড এই সময়ে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে মেনে নিয়েছিল। তাই যৌথ স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছিল। রমেশচন্দ্র মজুমদার দেখিয়েছিলেন যে, কর ফাঁকি, জুয়া খেলা ও বারাঙ্গনার উপস্থিতি ঘটলে রাজা গিল্ডে হস্তক্ষেপ করতে পারতেন-- এরকম আগে দেখা যায়নি। 12-13 শতকের সাহিত্যে শ্রেণীকরণের উল্লেখ আছে। শ্রেণিকরণ হলো প্রশাসনিক দপ্তর যা গিল্ডের তত্ত্বাবধান করত। বৃহৎ ধর্ম ও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ-এ শ্রেণীকে সংকর জাতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এগুলিকে শাস্ত্রকাররা ভালো চোখে দেখেননি। কুম্ভকার, তাঁতি, স্বর্ণকার, রজক প্রভৃতি হলো শুদ্ধ জাতি। চর্মকার, তেলি, ইক্ষু প্রেরণকারী, রঙ্গকার, কাসারি প্র...

তৃতীয় নগরায়ন | Third Urbanization in India

তৃতীয় নগরায়ন  ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম নগরায়ন হয়েছিল তাম্র ব্রোঞ্জ যুগে। ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিকে গড়ে ওঠা হরপ্পা সভ্যতা ছিল নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এখানে আজ পর্যন্ত ১৪০০ টি নগর কেন্দ্রের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। হরপ্পা সভ্যতার পতনের পর আর্যরা যে জনবসতি গড়ে তুলেছে তা ছিল গ্রামীণ পশুচারণ নির্ভর সংস্কৃতি। পশুচারণ অর্থনীতি কৃষি অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হলে এবং কৃষি উদ্বৃত্তকে সম্বল করে দ্বিতীয়বার নগরায়ন হতে প্রায় এক হাজার বছর সময় লেগে যায়। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ষোড়শ শতকে জনপদে দ্বিতীয় নগরায়ন হয়। আদি মধ্যযুগের যে নগরায়ন হয় তাকে তৃতীয় নগরায়ন বলা হয়। অধ্যাপক রামশরণ শর্মা তার আরবান ডিকে গ্রন্থে আদি মধ্যযুগে নগরের অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ নগর বিলুপ্তির পথে এগোতে থাকে। অল্পসংখ্যক শহর ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টিকেছিল। কিন্তু এর পর সেগুলিও ধবংসের পথে অগ্রসর হয়। এই পরিস্থিতি ১০০০ খ্রিস্টাব্দ পযন্ত চলে। তাঁর মতে গুপ্ত যুগের শেষ দিক থেকে অগ্রহার ব্যবস্থার প্রচলনের ফলে সামন্তব্যবস্থার বিকাশ ঘটে। কৃষির উপর অধ...

চোলদের নৌসাম্রাজ্য | The Naval Empire of the Cholas

চোলদের নৌসাম্রাজ্য খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ভারতবর্ষে যে কয়টি রাজ্য গুরুত্ব অর্জন করেছিল তার মধ্যে অন্যতম হল উদীয়মান চোল রাজ্য। দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে চোল রাজবংশ তার আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল। তারা দক্ষিণে সিংহল ও মালদ্বীপ জয় করেছিল। ওড়িশা ও তুঙ্গভদ্রা দোয়াব অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তৃত হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয়ে এটাই যে চোল রাজাদের একটি শক্তিশালী নৌবহর ছিল, যার সাহায্যে তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির ওপরে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল।   চোলরা দাক্ষিণাত্যের একটি প্রাচীন রাজবংশ। অশোকের শিলালিপি এবং প্রাচীন সঙ্গম সাহিত্যে চোলদের উল্লেখ রয়েছে। চোলরা দক্ষিণ ভারতের পল্লব, চালুক্য ও রাষ্ট্রকূটদের অধীনে সামন্ত রাজা হিসাবে কাজ করত। পরবর্তীকালে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র তারা গড়ে তুলতে তারা সক্ষম হয় যা উত্তরে কৃষ্ণা-তুঙ্গভদ্রা দোয়াব থেকে দক্ষিনে সমুদ্রতীর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।  চোল শাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সমুদ্রের উপর আধিপত্য স্থাপন করা। ভারত মহাসাগরের মালদ্বীপ, লাক্ষাদ্বী্‌ সিংহল প্রভৃতি অঞ্চল এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মাল...