সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

CC13 লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০–১৯৩৪) | Civil Disobedience Movement (1930–1934)

  আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০–১৯৩৪) ১. পটভূমি ভারতের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে আইন অমান্য আন্দোলন (Civil Disobedience Movement) ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। ১৯২০-২২ সালের অসহযোগ আন্দোলনের পর কিছুদিন রাজনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিলেও ১৯২০-এর দশকের শেষভাগে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ১৯২৭ সালে সাইমন কমিশন ভারতে আগমন করলে তার বিরুদ্ধে সর্বত্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, কারণ কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য ছিল না। একই সময়ে নেহরু রিপোর্ট (১৯২৮), জিন্নাহর চৌদ্দ দফা এবং সাংবিধানিক প্রশ্নে মতপার্থক্য ভারতীয় রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বর মাসে লাহোর অধিবেশনে জওহরলাল নেহরুর সভাপতিত্বে কংগ্রেস “পূর্ণ স্বরাজ”-কে জাতীয় লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে। সিদ্ধান্ত হয় যে ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস পালন করা হবে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার ভারতের স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। ফলে গান্ধিজি আন্দোলনের পথ বেছে নেন। তিনি ভাইসরয় লর্ড আরউইনকে ১১ দফা দাবি সম্বলিত চিঠি পাঠান। দাবিগুলি উপেক্ষিত হলে তিনি আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২. লবণ সত্যা...

দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কালে ভারতে শ্রমিক আন্দোলন (১৯১৯-১৯৩৯) | Working Class Movement in India During the Inter-War Period (1919–1939)

দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কালে ভারতে শ্রমিক আন্দোলন ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কাল (১৯১৯-১৯৩৯) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর পরিবর্তন ঘটে। যুদ্ধকালীন মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিকদের কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। অন্যদিকে রুশ বিপ্লব (১৯১৭)-এর প্রভাব, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উত্থান ভারতীয় শ্রমিকদের সংগঠিত হতে অনুপ্রাণিত করে। ফলে এই সময়ে শ্রমিক আন্দোলন শুধু অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী বছরগুলিতে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নতুন জোয়ার এবং রুশ বিপ্লবের সাফল্য শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা জাগিয়ে তোলে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা নিজেদ...

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে ভারতের রাজনৈতিক সংগঠন | Political Organizations in India Before the Establishment of the Indian National Congress

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে ভারতের রাজনৈতিক সংগঠন উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশে আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠনের উত্থান ঘটে। ইংরেজি শিক্ষার প্রসার, পাশ্চাত্য উদারনৈতিক চিন্তাধারার প্রভাব, সংবাদপত্রের বিকাশ, রেল ও টেলিগ্রাফের সম্প্রসারণ এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নীতির ফলে শিক্ষিত ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। এই নতুন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি উপলব্ধি করতে শুরু করে যে বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন না করে সংগঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব। ফলে বিভিন্ন প্রদেশে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে, যেগুলি পরবর্তীকালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। ভারতে আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠনের ইতিহাস শুরু হয় জমিদার সভা (Landholders’ Society) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ১৮৩৭ সালে রাজা রাধাকান্ত দেবের নেতৃত্বে গঠিত এই সংগঠন বাংলার, বিহারের ও উড়িষ্যার জমিদারদের স্বার্থরক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও এটি সাধারণ মানুষের সংগঠন ছিল না, তবুও প্রথমবারের মতো ভারতীয়রা সাংবিধানিক উপায়ে সরকারের নিকট নিজেদের দাবি-দাও...

দাদাভাই নৌরজীর আর্থিক নিষ্ক্রমণ তত্ত্ব | Dadabhai Naoroji's Theory of Economic Drain

দাদাভাই নৌরজীর আর্থিক নিষ্ক্রমণ তত্ত্ব যে সমস্ত জাতীয়তাবাদী পণ্ডিত ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অর্থনীতির সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সফল ব্যবসায়ী দাদাভাই নৌরজি। তিনি তার রচিত Proverty and Unbritish Rule in India গ্রন্থে পরিসংখ্যান সহযোগে দেখিয়েছেন কিভাবে ব্রিটিশ উপনিবেশিক নীতির ফলশ্রুতি হিসেবে ভারতীয় সম্পদের একটা বিরাট অংশ ব্রিটেনে প্রেরিত হচ্ছে এবং তার ফলে ভারত দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর দেশে পরিণত হচ্ছে।  তার মতে ১৮৫৭-র পর থেকে ব্রিটিশ সরকার মার্কেনটাইলবাদ, লুটপাট, নজরানা আদায় ইত্যাদি শোষণের সোজাসাপ্টা ও পুরানো পথ গুলি ত্যাগ করে স্বল্প দৃশ্যমান অথচ অনেক বেশি পরিশীলিত নীতি গ্রহণ করে। ভারতকে কাঁচামাল সরবরাহকারী ও খাদ্য সরবরাহকারী এবং ব্রিটেনে তৈরি দ্রব্যাদির বাজারে পরিণত করা হয়। ভারতীয় মূলধন বিনিয়োগ করে ভারতে শিল্পায়ন ঘটানোর পরিবর্তে ভারতে বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগ করা হয়। এর ফলে লভ্যাংশ দেশের বাইরে চলে যায়। তার উপর হোম চার্জেস, ভারতে  কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ খরচ, ব্রিটেনের সাম্রাজ্য বিস্তারের খরচের একাংশ প্রভৃতি ভারতীয় সম্পদ নির্গমন কে তীব...

দাক্ষিনাত্য বিদ্রোহ | Deccan Uprising

 দাক্ষিনাত্য বিদ্রোহ উনিশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে ভারতে যেসব কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল ১৮৭৫ এর দাক্ষিণাত্য বিদ্রোহ তার মধ্যে অন্যতম। মহারাষ্ট্রের এই কৃষক অসন্তোষের পশ্চাতে ছিল ঔপনিবেশিক সরকার প্রবর্তিত রাওতওয়ারি ব্যবস্থা এবং মহাজনি শোষণ। রায়তওয়ারি ব্যবস্থায় রাজস্বের হার ছিল যথেষ্ট উঁচু। এই ব্যবস্থায় সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করত। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন গ্রামের প্যাটেল বা মোড়লরা। খরা প্রবন মহারাষ্ট্রে প্রায়ই উৎপাদনে ঘাটতি হত এবং এর ফলে কৃষকরা সরকারের খাজনার দাবি মেটাতে পারত না। তখন তারা মাড়োয়ারি মহাজন সাউকার এবং গুজরাটি মহাজন বনি 'র দ্বারস্ত হত। সাধারন কৃষকদের কুনবি বলা হত। সাউকার ও বনি' রা কুনবি দের জমি দেনার দায়ে গ্রাস করে নিতে সর্বদাই উৎসাহী থাকত। তবে অনেক পন্ডিত দাক্ষিণাত্য বিদ্রোহের পশ্চাতে এই মহাজনি শোষণকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চান না। তাঁদের মতে, N. Charlesworth তাঁর Myth of Deccan Riots  গ্রন্থে দেখিয়েছেন কৃষজমির কেবল ৫% মহাজনেদের হস্তগত হয়েছিল। আর এদের মধ্যে স্থানীয় মহাজনই বেশি ছিলেন। কিন্তু কৃষকরা বহিরাগত কৃষকদের আক্রমণের মুলত টার্গেট করেছিল। তিন...

মোপলা বিদ্রোহ | Malabar Rebellion

 মোপলা বিদ্রোহ | Malabar Rebellion উনিশ শতকের কৃষক বিদ্রোহগুলির মধ্যে অন্যতম হল মালাবার অঞ্চলের মোপলা বিদ্রোহ (১৮৪৯-৫২)। মোপলারা আরব ব্যবসায়ীদের উত্তরপুরুষ। মালাবার উপকূলে আগত আরব ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দেশে ফিরে না গিয়ে স্থানীয় নায়ার ও তিয়ার মহিলাদের সঙ্গে বিবাহ করে মালাবার এলাকাতেই থেকে যায় এবং কৃষিকাজকে পেশা হিসাবে বেছে নেয়। স্থানীয় দাস জাতি ছিল চেরুমা। ১৮৪৩ সালে দাস প্রথা অবলুপ্তি আইন পাশ হলে চেরুমা-রা মুক্তি পায় কিন্তু সমাজ তাদের ঠাঁই দেয় নি। ফলে এঁরা ইসলাম গ্রহণ করে। এভাবে মোপলারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। এরা বেশিরভাগই ছিল ভূমিহীন কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী বা জেলে। ১৭৯২ সালে মালাবার ব্রিটিশ অধিকারে আসে এবং মালাবার এলাকায় নতুন ভূমি ব্যবস্থা চালু হয়, যাতে স্থানীয় হিন্দু জেন্মিরা জমির মালিক হিসাবে পরিগনিত হন এবং কৃষক ও কনমদার (ভূমিস্বত্ব ভোগ দখলকারী) দের জমি থেকে উৎখাত করার অধিকার পেয়ে যান। এতদিন জেনমি, কনমদার ও কৃষকের  মধ্যে উৎপন্ন সমান সমান ভাগাভাগি হত। এই নতুন ব্যবস্থা মোপলা কৃষকদের চুড়ান্ত প্রতিকূলে যায় এবং এই শ্রেনীর মধ্যে বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়। উচ্চ কর হার এবং আইন বহির্ভূত কর আদায়, পুল...

TISCO | টাটা আয়রন এন্ড স্টিল কোম্পানি

  TISCO | টাটা আয়রন এন্ড স্টিল কোম্পানি আধুনিক ভারতে যে সকল আধুনিক শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল লৌহ ইস্পাত শিল্প তার মধ্যে অন্যতম। রেলপথ ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশের ফলে ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল। ১৮৭৫ খ্রিঃ বরাকরে বেঙ্গল আয়রন এণ্ড স্টিল কোম্পানি (BISCO) তৈরি হয়েছিল। ১৯০৩ সালে এই কোম্পানি ইস্পাত নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, কিন্তু তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ভারতের ইস্পাত শিল্পের ইতিহাস মুলত টাটা আয়রন এন্ড স্টিল কোম্পানির (TISCO) ইতিহাস। TISCO গড়ে ওঠার ইতিহাসে তিনজন ব্যক্তির নাম অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। এঁরা হলেন জামশেদজি টাটা, তাঁর পুত্র দোরাবজি টাটা এবং ভূতত্ত্ববিদ প্রেমনাথ বসু। ১৯০৩-৪ সালে প্রেমনাথ বসু ওড়িশার ময়ুরভঞ্জ এলাকায় আকরিক লোহার খনি আবিস্কার করেন। এই এলাকা ছিল বাংলার কয়লা খনি গুলির খুব কাছে অবস্থিত। এর পর জামশেদপুরকে বেছে নেওয়া হয় ইস্পাত কারখানা গড়ে তোলার জন্য। TISCO গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ভারতের ঔপনিবেশিক সরকারের গুরুত্ব কম নয়। ১৯০৫ সালে ভারত সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তর সরকারি রেলের তরফে টাটাদের সাথে এক দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে। ঠিক হয় যে আগামী ১০ বছরে রেল কোম্পানী টাটাদের কাছ থেকে ২০,...

Great Calcutta Killing | Jinnah's Direct Action Day | প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস |

Great Calcutta Killing | Jinnah's Direct Action Day | গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং | জিন্নাহ্'র প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস  (English Virsion) The Direct Action Day, also known as the Great Calcutta Killing, was an extremely violent incident in the history of Bengal, specifically in Calcutta (now Kolkata), during the pre-independence era of India. It was a consequence of the divide-and-rule policy introduced throughout India after the suppression of the 1857 Rebellion by the British rulers. The development of communal politics in India, fueled by the Muslim League, Arya Samaj, Hindu Mahasabha, and the R.S.S. led to the intensification of the struggle for India's independence along communal lines. Under the leadership of the Muslim League, the demand for the creation of a separate state, Pakistan, gained momentum. Mohammad Ali Jinnah, the leader of the Muslim League, advocated for the formation of Pakistan, which included Bengal also. However, only 48.3% of the population in Bengal was ...

ভারতীয় জাতীয়তাবাদ: সাবালটার্ন ইতিহাসচর্চা | Indian Nationalism: Subaltern Historiography

  ভারতীয় জাতীয়তাবাদ: সাবালটার্ন ইতিহাসচর্চা | Indian Nationalism: Subaltern Historiography স্বাধীন ভারতের বেশকিছু ঐতিহাসিক যারা মার্কসীয় তত্ত্বকে সরাসরি গ্রহণ না করলেও মার্কসীয় বিশ্লেষণ পদ্ধতিকে প্রয়োগ করে ইতিহাসের বিষয়বস্তুকে জড়বাদী দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। সমাজ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এরা ইতালির কমিউনিস্ট নেতা এন্টানিও গ্রামশিকে অনুসরণ করেছেন। ভারতীয় সমাজের যে মানব গোষ্ঠী গতানুগতিক ইতিহাস চিন্তার পর্দায় প্রতিফলিত হয়নি তারাই এই নতুন ধারার ইতিহাস চর্চার প্রধান বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই নতুন ধারার ইতিহাস চর্চার নাম হল ‘নিম্নবর্গের ইতিহাস’ বা Subaltern Studies । নিম্নবর্গের ইতিহাস চর্চায় মূল ধারার রাজনৈতিক ইতিহাসের চেয়ে অধিক গুরুত্ব পেয়েছে সাধারণ দরিদ্র মানুষের জীবনের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং  আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার কথা। বিংশ শতকের আট-এর দশকে নিম্নবর্গের ইতিহাস চর্চার সূচনা হয় অধ্যাপক রনজিৎ গুহ সম্পাদিত 'সাবালটার্ন স্টাডিজ' প্রকাশিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। অধ্যাপক গুহ জোরের সঙ্গেই বলেছিলেন উপনিবেশিক ভারতবর্ষের জাতীয়তাবাদের উত্থানের ইতিহাসকে শুধুমাত্র বুদ...

ভারতীয় জাতীয়তাবাদ: মার্ক্সবাদী ইতিহাসচর্চা | Indian Nationalism: Marxist Historiography

ভারতীয় জাতীয়তাবাদ: মার্ক্সবাদী ইতিহাসচর্চা | Indian Nationalism: Marxist Historiography ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে শ্রেণী চরিত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন মার্কসীয় পণ্ডিতগণ। এ প্রসঙ্গে প্রথম যার নাম উল্লেখযোগ্য তিনি হলেন মানবেন্দ্রনাথ রায়। কমিনটার্ন-এ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে এন এম গোল্ডবার্গ, রজনীপাম দত্ত, এ আর দেশাই প্রমুখের রচনায় ভারতের জাতীয়তাবাদের মার্কসীয় বিশ্লেষণ লক্ষ্য করা গেছে। এম. এন. রায় দুটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন: 'India in Transition' ও 'What do we want', যেখানে তিনি গান্ধীবাদকে প্রতিক্রিয়ার তীব্রতম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, গান্ধীজী ভূস্বামী এবং পুঁজিপতিদের স্বার্থে জনগণের বিপ্লবী শক্তি ও চেতনাকে প্রতিহত করতে চেয়েছিলেন। রায়ের মতে ভারতীয় পুঁজিবাদ ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের উপর নির্ভরশীল সুতরাং ভারতীয় পুঁজিপতিদের পক্ষে যথার্থ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম পরিচালনা করে একটি বিপ্লবী পরিস্থিতি তৈরি করা ছিল প্রায় অসম্ভব।  এন. এম. গোল্ডবার্গ মনে করেন ভারতের পুঁজিপতি শ্...

ভারতীয় জাতীয়তাবাদ: জাতীয়তাবাদী ইতিহাসচর্চা | Indian Nationalism : Nationalist Historiography

  ভারতীয় জাতীয়তাবাদ: জাতীয়তাবাদী ইতিহাসচর্চা | Indian Nationalism : Nationalist Historiography ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রথম সমালোচনামূলক গ্রন্থ রচনা করে যাঁরা জাতীয়তাবাদী ইতিহাস চর্চার সূচনা করলেন তাঁরা হলেন দাদাভাই নওরজি এবং রমেশ চন্দ্র দত্ত। দাদা ভাই নৌরোজির রচিত Poverty and Unbritish Rule in India এবং রমেশ চন্দ্র দত্ত রচিত Economic History of India গ্রন্থ দুটি উপনিবেশিক অর্থনীতির সমালোচনা করে ভারতের সম্পদ নিষ্কাশন ও অর্থনৈতিক অবক্ষয় এর উপর একটি জাতীয়তাবাদী তত্ত্ব নির্মাণ করেন। পরবর্তীকালে আরো অনেকেই যেমন পট্টভি সীতারামাইয়া, তারাচাঁদ, রমেশ চন্দ্র মজুমদার, আর এস মেহরোত্রা প্রমূখ পণ্ডিত জাতীয়তাবাদী রচনায় অংশগ্রহণ করেছেন। জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকরা ভারতে জাতি গঠনের প্ৰক্রিয়াটি বোঝার চেষ্টা করতেন প্রধানত জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। তারা মনে করতেন, জাতীয় চেতনাই এখানে মুখ্য, বাকি সব চেতনা (জাতিগত, সম্প্রদায়গত, শ্রেণীগত) তার কাছে বশ্যতা স্বীকার করে। উপনিবেশিক শাসনের প্রতি মূলগত অনীহা থেকেই এই ধরনের চেতনার জন্ম হয়। ভারতবর্ষের প্রাচীন পরম্পর...

ভারতীয় জাতীয়তাবাদ : কেমব্রিজ ইতিহাসচর্চা | Indian Nationalism : Cambridge Historiography

কেমব্রিজ ইতিহাসচর্চা | Indian Nationalism : Cambridge Historiography এ বিষয়ে অধিকাংশ ঐতিহাসিকই একমত যে, ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার আগে আধুনিক অর্থে কোন ভারতীয় রাজনৈতিক জাতির অস্তিত্ব ছিল না। এরকম কোনও ধারণা অবচেতনভাবে ভারতবর্ষের সভ্যতার মধ্যে লুকিয়ে ছিল কি না এবং কালক্রমে তার উদ্ভব ঘটেছিল কি না, তা নিয়ে অতীত এবং বর্তমানের জাতীয়তাবাদী নেতা এবং ঐতিহাসিকরা বিতর্কের জড়িয়ে থাকেন। তবে একটা ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে,  ভারতীয় জাতীয়তাবাদ এক সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল এবং ১৯৪৭ সালে জাতীয় রাষ্ট্র গঠনের মধ্য দিয়ে যার জয় সূচিত হয়েছিল । এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ছিল 'উপনিবেশিকজাত আধুনিকতা প্রসূত'। উপনিবেশিক পক্ষের বক্তব্য ছিল, তারা উপনিবেশকে সামাজিক অবক্ষয়ের অন্ধকার থেকে তুলে এনে আধুনিক স্তরে উন্নীত করবে। আবার উপনিবেশের অধীনস্থ মানুষের পক্ষেও পশ্চাদদামিতা দূর করে এ কথা প্রমাণ করে দেখানোর খানিকটা দায়ী ছিল যে আধুনিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে তারাও একত্রিত হয়ে শাসন কাজ পরিচালনা করার যোগ্য। কাজেই  জাতীয়তাবাদের দুটো ধাপ: প্রথমে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এবং তারপর আত্...

ভারতীয় জাতীয়তাবাদ: সাম্রাজ্যবাদী ও নব্য ঐতিহ্যবাদী ইতিহাসচর্চা | Indian Nationalism: Colonial Historiography

ভারতীয় জাতীয়তাবাদ: সাম্রাজ্যবাদী ও নব্য ঐতিহ্যবাদী ইতিহাসচর্চা | Indian Nationalism: Colonial Historiography ভারতীয় জাতীয়তাবাদ বলতে কি বোঝায়? এ বিষয়ে অধিকাংশ ঐতিহাসিকই একমত যে, ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার আগে আধুনিক অর্থে কোন ভারতীয় রাজনৈতিক জাতির অস্তিত্ব ছিল না। এরকম কোনও ধারণা অবচেতনভাবে ভারতবর্ষের সভ্যতার মধ্যে লুকিয়ে ছিল কি না এবং কালক্রমে তার উদ্ভব ঘটেছিল কি না, তা নিয়ে অতীত এবং বর্তমানের জাতীয়তাবাদী নেতা এবং ঐতিহাসিকরা বিতর্কের জড়িয়ে থাকেন। তবে একটা ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ এক সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল এবং ১৯৪৭ সালে জাতীয় রাষ্ট্র গঠনের মধ্য দিয়ে যার জয় সূচিত হয়েছিল । এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ছিল 'উপনিবেশিকজাত আধুনিকতা প্রসূত'। উপনিবেশিক পক্ষের বক্তব্য ছিল, তারা উপনিবেশকে সামাজিক অবক্ষয়ের অন্ধকার থেকে তুলে এনে আধুনিক স্তরে উন্নীত করবে। আবার উপনিবেশের অধীনস্থ মানুষের পক্ষেও পশ্চাদদামিতা দূর করে এ কথা প্রমাণ করে দেখানোর খানিকটা দায়ী ছিল যে আধুনিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে তারাও একত্রিত হয়ে শাসন কাজ পরিচালনা করার যোগ্য। কা...