সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

Medieval India লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মুঘল রাষ্ট্রের প্রকৃতি | The Nature of the Mughal State

 মুঘল রাষ্ট্রের প্রকৃতি  ভারতে মুঘল শাসনের প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। বিতর্কের প্রধানতম দিক মুঘল রাষ্ট্র কি ধর্মাশ্রয়ী বা Theoeracy? যদি না হয় তাহলে কি স্বৈরাচারী? আর যদি স্বৈরাচারী হয় তাহলে সেটা কি নিরঙ্কুশ নাকি জনকল্যাণমূলক?  মুঘল রাষ্ট্র কতটা সামরিক ও কতটা অভিজাততান্ত্রিক তা-ও বিতর্কের বিষয়। ঐতিহাসিক শ্রীরাম শর্মা এবং ইশতিয়াক হুসেন কুরেশি মুঘল রাষ্ট্র ব্যবস্থার সাম্প্রদায়িক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শ্রীরাম শর্মা তাঁর The Religious Policy of Mughal Emperor গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে মুঘল শাসকরা প্রত্যেকে ছিলেন ধর্ম গোঁড়া একমাত্র আকবর ছাড়া। তিনি সবচেয়ে বেশি আঙ্গুল তুলেছেন অরঙ্গজেবের দিকে। ধর্মীয় বিদ্বেষবসত কারণে আকবর থেকে ঔরঙ্গজেব সকলেই শাসনব্যবস্থায় হিন্দুদের নিয়োগ করতে চাইতেন না। তাই দরবারে হিন্দুর সংখ্যা ছিল কম। হিন্দুদের কাছ থেকে নিপীড়নমূলক জিজিয়া আদায় করতেন এবং মন্দির ধ্বংস সহ হিন্দুদের নানা অকারণ হেনস্তার শিকার হতে হত। কিন্তু আলীগড় ঐতিহাসিক আতাহার আলি উক্ত গ্রন্থের সমালোচনা করে যা প্রকাশিত হয়েছে  ইরফান হাবিব সম্পাদিত মধ্যকালীন ভারত- এর দ...

শিবাজীর অধীনে মারাঠা শক্তির উত্থান | Rise of the Maratha under Shivaji

শিবাজীর অধীনে মারাঠা শক্তির উত্থান  মহারাষ্ট্রে মারাঠা জাতির উত্থান ভারতের ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। যদুনাথ সরকার শিবাজীকে মারাঠা জাতির শ্রষ্ঠা বলে উল্লেখ করেছেন। তবে মারাঠাদের উত্থান শিবাজীর আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। মারাঠা জাতির উত্থানের পিছনে একটা অনুকূল পরিস্থিতি কার্যকর ছিল। শিবাজীর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব এর সাথে যুক্ত হয়ে উত্থানকে সম্ভব করেছিল।  মহারাষ্ট্রের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য মারাঠা জাতির উত্থান ও চরিত্র গঠনে যথেষ্ট সাহায্য করেছিল। মহারাষ্ট্র পাহাড়-পর্বত দ্বারা বেষ্টিত এবং নর্মদা ও তাপ্তি নদী একে ঘিরে রাখায় প্রাকৃতিক নিরাপত্তা পেয়েছে। অন্যদিকে অনুর্বর জমি মারাঠাদের কষ্টসহিষ্ণু ও সংগ্রামী করে তুলেছিল। মারাঠার ভৌগলিক পরিস্থিতি গেরিলা যুদ্ধের পক্ষে অনুকূল ছিল। ১৫-১৬ শতকের ধর্মীয় আন্দোলন মারাঠাদের মধ্যে জাগরণের পটভূমি তৈরি করেছিল। মারাঠা জাতির সামরিক ও শাসনতান্ত্রিক অভিজ্ঞতাও ছিল। ইতিপূর্বে বাহমনি, আহম্মদ নগর ও বিজাপুর সুলতানদের অধীনে সামরিক বিভাগে বহুদিন কাজ করে তারা এই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল।  এই পটভূমিতে শিবাজীর উত্থান। শিবাজীর পিতা সাহু...

তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ | The Third Battle of Panipat

তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ  মারাঠা জাতি তথা ভারতের ইতিহাসে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ একটি নির্ণায়ক ঘটনা। পেশোয়া বালাজি বাজিরাও পাঞ্জাব দখল করলে আফগান বীর আহমদ শাহ আবদালির সঙ্গে মারাঠাদের সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। আবদালি ১৭৫৮-তে পাঞ্জাব পুনর্দখল করে দিল্লির দিকে এগিয়ে যান। পথে বালাজি বাজিরাও তাঁর পুত্র বিশ্বাসরাও ও ভাই সদাশিবরাও-এর নেতৃত্বে বিরাট বাহিনী আহমদ শাহ আবদালিকে বাধা দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। মারাঠা সেনাপতি উত্তর ভারতের হিন্দু রাজাদের সাহায্য চেয়েছিলেন কিন্তু সাড়া পাননি। মারাঠারা দিল্লি দখল করলে আবদালিও দিল্লির দিকে অগ্রসর হন। ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত পানিপথের যুদ্ধে নিঃসঙ্গ মারাঠা বাহিনী পরাজিত হয়। বিপান চন্দ্রের মতে, যুদ্ধে ২৪ হাজার মারাঠা সেনা ও ২২ জন প্রধান সেনাপতি মারা যান। বিশ্বাসরাও এবং সদাশিবরাও-এর মৃত্যু ঘটে। পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে বালাজি বাজিরাও ওই বছরেই মারা যান। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের গুরুত্ব নিয়ে ঐতিহাসিকরা তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছেন। মারাঠা ঐতিহাসিকরা এই যুদ্ধকে গুরুত্বহীন ঘটনা হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চেয়েছেন। তাঁদের মতে, কয়েকজন প্রথম সারির মারাঠা সামরিক নেতা ছাড...

খানুয়ার যুদ্ধ

খানুয়ার যুদ্ধ ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রধান কৃতিত্ব বাবরের। যে তিনটি যুদ্ধ ছাড়া মুঘলদের ভারতে আধিপত্য কায়েম সম্ভব ছিল না সেগুলির মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ খানুয়া যুদ্ধ বলে ঐতিহাসিকগন মনে করেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হলেও আফগানরা নিশ্চিহ্ন হয়নি। তাঁর ভ্রাতা মামুদ লোদী আফগানদের সঙ্ঘবদ্ধ করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন। পানিপথের যুদ্ধের পর রাজপুত নেতা রানা সঙ্গ দিল্লি দখলের পরিকল্পনা করেন। তিনি ভেবেছিলেন বাবর, তৈমুরের মতো লুণ্ঠন করে ফিরে যাবে। কিন্তু যখন তিনি দেখলেন বাবর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তখন তিনি আফগানদের সঙ্গে আঁতাত করে বাবরকে ভারত ছেড়ে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা করেন। আবার অন্যদিকে বাবরও ভেবেছিলেন যে, রাজপুতদের পরাস্ত করতে না পারলে তার ভারতে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। তাই উভয়পক্ষই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে।  ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে ১৭ ই মার্চ উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ বাধে। আগ্রার অদূরে খানুয়ার প্রান্তরে প্রাথমিক পর্বে নির্ভীক দুঃসাহসী রাজপুতরা মুঘল বাহিনীকে চাপে ফেলে দেয়। কিন্তু বাবর এই প্রাথমিক ধাক্কা কাটি...

মুঘল আফগান সংঘর্ষ এবং মুঘলদের সাফল্যের কারণ

মুঘল আফগান সংঘর্ষ এবং মুঘলদের সাফল্যের কারণ   ষোড়শ শতক ভারতের রাজনৈতিক পালাবদল এর কাল। গতানুগতিক ইতিহাসচর্চায় যে দীর্ঘ সময়কালকে ইসলামিক যুগ বলে আখ্যা দেওয়া হয় তারই অন্তর্গত এই পর্ব। ধর্মীয় দিক থেকে মুঘল ও আফগানরা ইসলাম ধর্মালম্বী ছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উভয় গোষ্ঠী যথেষ্ট শত্রুভাবাপন্ন, কারণ এখানে ধর্ম নয়, ক্ষমতার দ্বন্দই ছিল বড়। ১৫ শতকের শেষ দিক থেকে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্য ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। লোদি সম্রাট ইব্রাহিম লোদির সময়ে কেন্দ্রীয় শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আফগান সর্দাররা ইব্রাহিম লোদির প্রতি রুষ্ট হয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। রাজপুতরাও পিছিয়ে ছিল না। এই পরিস্থিতি মধ্য এশিয়া থেকে বিতাড়িত বাবরের কাছে ভাগ্যের সন্ধানের নতুন দরজা খুলে দেয়।  মোঙ্গল ও তৈমুর বংশের মিশ্র বংশজাত বাবার নাবালক অবস্থায় তারই আত্মীয়-শত্রুদের দ্বারা পিতৃ রাজ্য ফারঘানা থেকে বিতাড়িত হন। তার পক্ষে মধ্য এশিয়ার অটোমান, সাফাবিদ ও উজবেগদের সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পেরে ওঠা সম্ভব হয়নি। যদিও তিনি সমরখন্দ দখলের স্বপ্ন বহুদিন বহন করেছিলেন। সামরখন্দ দখলের শেষ দুটি চ...

বিজয়নগর সাম্রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা বা নায়ক ব্যবস্থা অথবা নয়ঙ্কারা ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর?

 বিজয়নগর রাজ্যের সামরিক ব্যবস্থা ও ভূমিদান রীতির সাথে বিশেষভাবে জড়িত ছিল নায়ক বা নয়ঙ্কারা প্রথা। ‌ সংস্কৃত সাহিত্য 'নায়ক' অর্থে নেতা বা বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝানো হয়। কিন্তু বিজয়নগরের নায়ক প্রথা কিছুটা স্বতন্ত্র। নায়কদের অধিকার কর্তব্য, নায়ক প্রথার প্রকৃতি সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। অধ্যাপক অনিরুদ্ধ রায়ের মতে বিজয়নগরের নায়করা স্থানীয় নেতৃবর্গের থেকে স্বাধীন। বিজয় নগরের বিভিন্ন শিলালেখতে "অমরয়ঙ্কর" শব্দটি পাওয়া যায়। এখানে 'অমর' শব্দের অর্থ সৈন্যধাক্ষ, "নায়ক" অর্থে নেতা এবং 'কর' বলতে সরকারি কাজকে বোঝানো হয়েছে। এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে নায়ক প্রথার বৈশিষ্ট্য গুলো অনুধাবন করা যায়। অধ্যাপক নীলকন্ঠ শাস্ত্রী বলেন বিজয়নগর একটি 'যোদ্ধা রাজ্য' বা 'war state' এবং এই সাম্রাজ্যের গঠন তার সামরিক প্রয়োজনেই গড়ে উঠেছে। তার মতে বিজয়নগর সাম্রাজ্য ছিল অসংখ্য সামরিক নেতার মিলিত প্রয়াসের ফল। টি. ভি. মহালিঙ্গম বলেছেন বিজয় নগরের অভ্যন্তরীণ সংগঠনের প্রধান ভিত্তি ছিল নয়নঙ্কারা ব্যবস্থা। এই প্রথা অনুযায়ী রাজা নায়কদের ...

দিল্লির সুলতানি রাষ্ট্রের চরিত্র | Nature of Sultanate State

দিল্লির সুলতানি রাষ্ট্র কি ধর্মাশ্রয়ী/ ধরমনিরপেক্ষ/ জনকল্যানকামী? প্রায় ৩০০ বছর ধরে স্থায়ী দিল্লি সুলতানি রাষ্ট্রের প্রকৃতি নিয়ে আধুনিক ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে কুতুব‌‌উদ্দিন আইবকের সিংহাসন আরোহণ থেকে দিল্লি সুলতানি শাসনের সূচনা। তারপর থেকে দিল্লির রাজশক্তির আদর্শ বিভিন্নভাবে বিবর্তিত হয়েছে। দিল্লি সুলতানির রাজশক্তির তত্ত্ব বিষয়ে তিনটি দিক উঠে এসেছে। প্রথমত, দিল্লির সুলতানি ধর্মাশ্রয়ী না ধর্মনিরপেক্ষ, দ্বিতীয়ত, জনকল্যাণমুখী, নাকি কেবল স্বৈরাচারী, তৃতীয়ত, সার্বভৌম না খলিফা শাহীর অংশবিশেষ। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য এই বিষয়গুলি একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে সংযুক্ত যে এদের আলাদাভাবে আলোচোনা করা যায় না। ডঃ শ্রীবাস্তব, ডঃ ঈশ্বরীপ্রসাদ, শ্রীরাম শর্মা প্রমুখ আধুনিক ঐতিহাসিক সুলতানি রাষ্ট্রকে ধর্মাশ্রয়ী বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে সমকালীন ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারনি সুলতানি শাসনকে জাহান্দারী বা পার্থিব বলে উল্লেখ করেছেন। আধুনিক ঐতিহাসিক  কুরেশীও সুলতানি রাষ্ট্রকে‌ ধর্মাশ্রয়ী আখ্যা দিতে নারাজ।  সুলতান শব্দটির অর্থ ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব। এখানেই সুলতানি শাসনের স...

দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্য সুলতান ও অভিজাতদের সম্পর্ক আলোচনা করো।

 দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের প্রাথমিক পর্বে অভিজাত শ্রেণীর স্থান ছিল ঠিক সুলতানের পরেই। অভিজাতরা ছিল সুলতানের সবথেকে নির্ভরযোগ্য অবলম্বন।সুলতানি শাসন ব্যবস্থায় অভিজাত সম্প্রদায় উল্লেখযোগ্য ভাবে অংশগ্রহণ করত। অভিজাত শ্রেণীর মধ্যে তুর্কি উমরা গন‌ই ছিল অধিক সংখ্যক। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দ্বারা এই অভিজাত শ্রেণী গঠিত ছিল বলে তাদের মধ্যে কোন এক জাতীয় ভাব-ধারা গড়ে ওঠেনি। অভিজাতদের মধ্যে খান খেতাব ধারিরাই ছিল সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তবে প্রাথমিক পর্বে সুলতান ও অভিজাতরা একই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর ফলস্বরূপ দিল্লি সুলতানি যুগে অভিজাত বনাম রাজতন্ত্রের দীর্ঘদিন সংগ্রাম চলেছিল।   কুতুব উদ্দিন এর মৃত্যুর পর দিল্লির শিশু সুলতানি সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারত। কিন্তু দিল্লির শুভবুদ্ধি সম্পন্ন অভিজাত সম্প্রদায় ইলতুৎমিসকে মনোনীত করে দিকে যেমন দিল্লির শিশু সুলতানি সাম্রাজ্যের ভাগ্য ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেছিলেন অপরদিকে তেমনি নিজেদের মর্যাদার অভাবনীয় রূপে বৃদ্ধি করেছিলেন। ইলতুৎমিস সিংহাসন আরোহন করে অভিজাতদের গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েছিলেন। অভিজাতগণ এই মর্যাদা অটুট রাখার উদ্দেশ...

ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্য রীতি সম্পর্কে আলোচনা কর

 ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্য নীতি তুর্কিরা বাগদাদ- পারস্য সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গজনি হয়ে ভারতের ভূমিতে বহন করে এনেছিল। ওই সময় বাগদাদ পারস্য সংস্কৃতি ছিল উৎকর্ষের চরম শিখরে। এই তুর্কিরাই ভারতের দিল্লির সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করে এবং সাংস্কৃতিক বিকাশে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে। তুর্কিরা যখন ভারতে আসে তখন শাসন শিল্প ও স্থাপত্য সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা নিয়েই আসে। ভারতীয় উচ্চ মানের সাহিত্য, শিল্প ও স্থাপত্যের সঙ্গে তুর্কি জাতির শিল্প স্থাপত্যের উচ্চ ধারণার সংমিশ্রণে ভারতে এক নতুন স্থাপত্য শিল্পের বিকাশ ঘটে যাকে আমরা ইন্দো ইসলামিক বা ইন্দো পারসিক অথবা ইন্দো সেরাসেনিক স্থাপত্য রীতি বলি। এছাড়াও মঙ্গলদের আক্রমণে সেলজুক তুর্কি সাম্রাজ্য ভেঙে গেলে বহু তুর্কি ভারতে আশ্রয় নেন। শুধু পন্ডিত ও সংস্কৃতিবান লোক ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ কারিগররাও ভারতে এসেছিল যার ফলে সেলজুক শিল্প-সংস্কৃতি ভারতের প্রবেশ করে। যার চূড়ান্ত প্রতিফলন দেখা যায় মুঘল যুগের স্থাপত্য রীতিতে। ত্রয়োদশ শতাব্দি থেকে ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে এই শিল্প রীতি কে পাঁচটা ভাগে ভাগ করা যায় যুগ ও শৈলী অনুযায়ী।  প্রথমত- 1246 সাল পর্যন্ত দ্...

ওয়াজদারি ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

সুলতানি আমলে ইক্তা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বিবর্তনের মধ্যেই ওয়াজদারি ব্যবস্থার অনুপ্রবেশ ঘটে। ইলতুৎমিস প্রথম ইক্তা ব্যবস্থা কে প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে প্রবর্তন করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল প্রাচীনকাল থেকে যে সামন্ত প্রথা চলে আসছিল তা বিলুপ্ত করা এবং কেন্দ্রীয় শাসনের সঙ্গে দূরবর্তী অঞ্চলের যোগসূত্র স্থাপন করা। বলবন ও আলাউদ্দিন খলজি ইকতার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটান। কিন্তু গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ইক্তা ব্যবস্থায় তেমন পরিবর্তন ঘটাননি। আবার মোহাম্মদ বিন তুঘলক ইক্তাকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। কিন্তু ফিরোজ শাহ তুঘলক ইক্তা ব্যবস্থাকে অকার্যকারি করে তোলেন। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে ইক্তার উপর ইজারাদারি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এর ফলে ইক্তার মৌল বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু রাজস্ব আদায়কারী ইজারাদারদের সৈন্য ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হতো না। ইজারাদার শর্ত অনুযায়ী সুলতানের প্রাপ্য মিটিয়ে দিতেন। কিন্তু আমিরের সেনারা তার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য অন্যায় ভাবে চাপ সৃষ্টি করত। কারণ আমিররা সেনা পোষণ দায়িত্ব ছিলেন। এমনকি তথ্যে পাওয়া যায় অনেক ইজারাদার সুলতানের কাছে আমিরের ...

বাহমনি রাজ্যের চরম হিতৈষী হিসাবে মাহমুদ গাওয়ানের ভূমিকা আলোচনা কর।

মাহমুদ গাওয়ান মাহমুদ গাওয়ান ছিলেন দাক্ষিণাত্যের শাসকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ প্রশাসক। তিনি ছিলেন মধ্যযুগের অন্যতম তীক্ষ্ণবুদ্ধির সম্পন্ন দূরদর্শী রাজনৈতিক। তিনি প্রথম জীবনে ছিলেন ইরানের এক গ্রামের অধিবাসী। ৪৫ বছর বয়সে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে দাক্ষিণাত্যে আসেন এবং সুলতান দ্বিতীয় আলাউদ্দিন এই পরদেশীর গুনে আকৃষ্ট হয়ে তাকে রাজসভায় আমির পদে অভিষিক্ত করেন। সুলতান হুমায়ুন গাওয়ানকে Malik-ut-Tajjar উপাধিতে ভূষিত করেন। খাজা মাহমুদ গাওয়ান বাহমনি রাজ্যের তিনজন সুলতানের অধীনে কাজ করেন এবং তৃতীয় মুহাম্মদ এর রাজত্বকালে তিনি রাজ্যের প্রকৃত শাসনকর্তা ছিলেন। তিনি শাসনকার্যে ও সমর ক্ষেত্রে অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দিয়ে প্রজাদের প্রীতি ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। তিনি ক্ষমতার চরম শিখরে আরোহন করেছিলেন কিন্তু কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি।  ১৪৬১ খ্রিস্টাব্দে সুলতান হুমায়ূনের মৃত্যু হলে তার পুত্র নিজাম শাহ মাত্র ৮ বছর বয়সের সিংহাসন আরোহন করেন। এই নিজাম শাহের অভিভাবক নিযুক্ত হয়েছিলেন মাহমুদ গাওয়ান। যখন অভিভাবক নিযুক্ত হয়েছিলেন তখন বাহমনী রাজ্যের অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুন। রুশ ভ্র...

বাংলায় হুসেন শাহী বংশের অবদান আলোচনা কর

 ইলিয়াস শাহী বংশের পতনের পর হাবসি শাসন ছিল বঙ্গদেশের এক অন্ধকারময় যুগ। বঙ্গদেশের জনসাধারণ এই হাবসি শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। নিজামুদ্দিনের মতে মোজাফফর শাহের বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান উজির সৈয়দ হুসেন বাংলাদেশকে এই সংকট থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দেন। ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ হুসেন মোজাফফর কে হত্যা করে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা । আলাউদ্দিন হোসেন শাহ কুশাসন থেকে বঙ্গদেশ কে মুক্ত করে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করেছেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি হাবসি প্রাসাদ রক্ষী সেনাদলের ক্ষমতা সংকুচিত করে এবং তাদের বঙ্গদেশ থেকে বিতাড়িত করে, মুঘল ও আফগানদের উচ্চ পদে নিয়োগ করেন। পুরাতন আমলের কর্মচারীদের বরখাস্ত করে, তিনি সদর দপ্তরে নতুন ও নিজের অনুগত লোকদের নিয়োগ করে। দেশের সর্বত্র অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলতা কঠোর হাতে দমন করেন। বহু ধন সম্পত্তি উদ্ধার করে। ফিরিস্তার মতে তখন ধনী ব্যক্তিরা উৎসবে সোনার থালা ব্যবহার করতেন। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ এরকম প্রায় ১৩০০ সোনার থালা উদ্ধার করেন। তাঁর সিংহাসন আরোহণের সময় সমগ্র উত্তর ভারতে ব...