সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

AncientIndia লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মধ্য পুরাপ্রস্তর যুগ | Middle Paleolithic Age | Mousterian Culture

মধ্য পুরাপ্রস্তর যুগ নিম্নপুরা প্রস্তর যুগের পরবর্তী স্তর মধ্য পুরা প্রস্তর যুগ নামে পরিচিত। মধ্য পুরা প্রস্তর যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃতির নাম হল মৌস্টেরিয়ান সংস্কৃতি। ফ্রান্সের লা মুস্তের এলাকায় প্রথম মধ্য পুরাপ্রস্তর যুগের সাক্ষ্য পাওয়া গেছে বলে এই সংস্কৃতি মৌস্টেরিয়ান সংস্কৃতি নামে পরিচিত। মৌস্টেরিয়ান সংস্কৃতির সূচনা আজ থেকে প্রায় এক লক্ষ আটাশ হাজার বছর আগে। ভূতাত্বিক প্লেইস্টোসিন পর্বে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে এবং একের পর এক তুষার যুগের আবির্ভাব হয়। দুটি তুষার যুগের মাঝে অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর একটি পর্ব থাকে। এরকম শেষ তুষার যুগের আগের যে উষ্ণতর পর্ব সেই পর্বেই মৌস্টেরিয়ান সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল। Remain of Neanderthal Skull মৌস্টেরিয়ান সংস্কৃতির শ্রষ্ঠা হল নিয়েন্ডার্থাল মানব। নিয়েন্ডার্থাল মানব পশু শিকারে পারদর্শী ছিল। তাদের স্বীকার করা পশুগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল বাইসন, ঘোড়া, লাল হরিণ এবং বলগা হরিণ। মাছ এবং সামুদ্রিক প্রাণীই তাদের খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর আবহাওয়ার জন্য বহু সমুদ্র উপকূল জলস্রোত এবং নদী তৈরি হয়েছিল এবং সেখান থেকে...

উপমহাদেশে নব্যপ্রস্তর যুগ | Neolithic Period in the Indian Subcontinent

উপমহাদেশে নব্যপ্রস্তর যুগ শুধু  ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস এই নয়, সমগ্র মানবজাতির ইতিহাসে নব্য প্রস্তর যুগ এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। উপমহাদেশে নব্য প্রস্তর যুগের সবচেয়ে ভালো নিদর্শন পাওয়া যাবে মেহেরগড়ে। মানব সভ্যতার এই স্তরে হাতিয়ার তৈরীর কৌশল উন্নততর হওয়ার পাশাপাশি সমাজে একাধিক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিল, যার দিকে নজর রেখে জি. চাইল্ড নব্য প্রস্তর যুগকে বিপ্লব বলে অভিহিত করেছেন। এই পর্বে মধ্য প্রস্তর যুগের ক্ষুদ্রাশ্মীয় আয়ুধের ব্যবহার অব্যহত ছিল, তবে তার বৈচিত্র্য ক্রমশ বৃদ্ধি পেল। নব প্রস্তর যুগের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো কৃষির উন্মেষ। এশিয়ার জেরিকোতে ৮ হাজার কিংবা ৭ হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রথম কৃষির প্রকাশ দেখা গিয়েছিল। উপমহাদেশেও এর রেশ দেখা গেল।  কৃষির অবিস্কারের ফলে মানুষ খাদ্য সংগ্রাহক থেকে হয়ে গেল খাদ্য উৎপাদক। এই ঘটনা মানুষের জীবনযাত্রায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনল। চাষের জন্য বীজ বোনা থেকে ফসল কাটা পর্যন্ত সমগ্র প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিনের ব্যাপার। তাই মানুষ এবার ক্রমশ স্থায়ী বসতি গড়ে তুলল। কৃষি উৎপাদন সঞ্চয় করে রাখা যায়। শিকার নির্ভর ও পশুপালন নির্ভর জীবনে সামাজিক...

বৈদিক যুগের অথনীতির রুপান্তরঃ পশুচারন অর্থনীতি থেকে কৃষি অর্থনীতি | Transformation of Vedic Economy: From Pastoral to Agrarian

বৈদিক যুগের অথনীতির রুপান্তর বৈদিক সাহিত্য ধর্মীয় সাহিত্য হলেও বেদের বহু প্রার্থনা একান্তভাবে পার্থিব কামনায় উচ্চারিত। তাই বৈদিক সাহিত্য থেকে এই পর্বের অর্থনৈতিক জীবনের পরিচয় পাওয়া যায়। বৈদিক যুগের প্রথম অর্ধ সহস্রাব্দ সময়কাল ঋক বৈদিক যুগ হিসাবে পরিচিত। এই পর্বে অর্থনীতির মেরুদন্ড ছিল পশুচারন। তখনও পাকাপাকি কৃষিব্যবস্থার পত্তন হয় নি। কিন্তু পরবর্তী বৈদিক যুগে সমাজে এক ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়। এই পর্বে অর্থনীতি পশুপালন নির্ভর থেকে কৃষিভিত্তিক হয়ে ওঠে। ১. ঋক বৈদিক যুগের পশুচারণ নির্ভর অর্থনীতি ঋক বেদে পশুপালন ও কৃষি দুই-ই উল্লিখিত কিন্তু পশুপালন সংক্রান্ত শব্দ অনেক বেশি পরিমাণে উল্লিখিত। গো অর্থাৎ গবাদি পশু এবং তার ব্যুৎপত্তি জাত শব্দের উল্লেখ হয়েছে মোট ১৭৬ বার আর কৃষি বিষয়ক শব্দের উল্লেখ হয়েছে মাত্র ২১ বার। এর থেকেই অনুমান করা যায় অর্থনীতিতে গবাদি পশুর গুরুত্ব ছিল সবথেকে বেশি। একজন সম্পন্ন ব্যক্তিকে বোঝাতে গোমান শব্দ ব্যবহৃত হত। অর্থাৎ গবাদি পশুই ছিল সমাজের ধনসম্বল। রাজাকে বলা হচ্ছে গোপতি অর্থাৎ গবাদি পশুর মালিক, যুদ্ধকে বলা হত গাবিষ্টি  , অর্থাৎ গবাদি পশুর বাসনায় যুদ্ধ হত। গোস...

প্রতিবাদী ধর্ম হিসাবে আজীবিক ধর্ম | Ajivika as Protestant Religion

আজীবিক ধর্ম খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে উত্তর ভারতে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের বিরুদ্ধে বহু প্রতিবাদী ধর্মমতের উদ্ভব হয়। এগুলির সংখ্যা ছিল আনুমানিক ষাট বা তার বেশি। এদের মধ্যে আজীবিক ধর্ম বেশি জনপ্রিয় ছিল। অশোকের শিলালিপি থেকে এ কথা জানা যায়। গুপ্ত যুগেও আজীবিকদের গুহা বা গুম্ফার কথা জানা যায়। আজীবিক ধর্মের প্রবক্তা ছিলেন গোশাল মঙ্খলিপুত্ত। তিনি জৈন ধর্মের প্রবর্তক বর্তমান মহাবীরের সমসাময়িক ছিলেন। গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুর অল্পকাল আগে সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ৪৮৪ অব্দে তার মৃত্যু হয়েছিল। অবশ্য উপকথা অনুসারে তিনি আরও আগের লোক ছিলেন বলে কেউ কেউ মনে করেন। আজিবিকদের ধর্মীয় কোন গ্রন্থ পাওয়া যায়নি। জৈন বা বৌদ্ধ রচনায় আজিবিকদের সম্পর্কে যে উল্লেখ আছে তা থেকে আমরা তাদের সম্পর্কে জানতে পারি। আজীবিক ধর্মবিশ্বাসে নাস্তিক্যবাদের প্রভাব বিশেষভাবে দেখা যায়। যাগযজ্ঞ বা দেবদেবীর পূজার কোনো নিয়ম তারা মানতেন না। আজীবিকরা বিশ্বাস করতো যে মানুষের কর্ম অখন্ডনীয়। এর হাত থেকে তার পরিত্রাণ নেই। নিয়তি মানুষের ভবিষ্যৎকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। মানুষ বহু জন্ম সৎ ভাবে কাটাতে পারলে তবে নিয়তি বা কর্মফলের হাত থেকে নিস্তার পেতে প...

উপমহাদেশে প্রাচীন প্রস্তর যুগ | Paleolithic Age in the Subcontinent

উপমহাদেশে প্রাচীন প্রস্তর যুগ উপমহাদেশে মানুষের অস্তিত্বের যে প্রমাণ পাওয়া গেছে তা আফ্রিকা মহাদেশ, চীন বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় পরবর্তীকালের। পন্ডিতরা অনুমান করেন যে ভারতীয় উপমহাদেশে মানুষের আবির্ভাব ঘটেছিল অভিপ্রয়াণের মাধ্যমে, সম্ভবত আফ্রিকা থেকে। উপমহাদেশে আবিষ্কৃত প্রাচীনতম প্রস্তরায়ুধ গুলি পাওয়া যায় কাশ্মীররের সোয়ান উপত্যকায়, পাকিস্তানের পটোয়ার মালভূমি এবং হিমাচলের শিবালিক পার্বত্য এলাকায়। এগুলি আজ থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লক্ষ বছর পুরানো। এই পর্ব পুরাপ্রস্তর যুগ নামে পরিচিত, যা চলেছিল প্রায় ১০ হাজার খ্রিঃ পূঃ অব্দ পর্যন্ত। এই পর্বের মনুষ্য  ছিল সম্ভবত হোমো হাবিলিস বা হোমো ইরেকটাস প্রজাতির। এদের ব্যবহৃত প্রধান হাতিয়ার ছিল হাত কুঠার ও চপার। পুরাতত্ত্বিক পরিভাষায় এগুলিকে কোর টুল বলা হয়, কারণ প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত প্রস্তর খণ্ডের মূল অংশটি এক্ষেত্রে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এগুলি ভারী এবং আকারে বড় হাতিয়ার। পুরাতাত্ত্বিকগণ এই হাত কুঠার গুলিকে আশুলীয় সাংস্কৃতির পর্যায়েভুক্ত হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই ধরনের হাত কুঠারের ব্যবহার আরো পাওয়া যায় কর্নাটকের হু...

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় ধর্মীয় সাহিত্যের অবদান | Ancient Indian Religious Texts as Historical Sources

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় ধর্মীয় সাহিত্যের অবদান প্রাচীন ভারতে প্রাচীন গ্রিসের মত হেরোডোটাস বা থুকিডিডিস ছিলেন না। প্রাচীন ভারতে কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থ রচিত হয়নি। বেশিরভাগই রচনা ছিল সাহিত্য। সাহিত্য গুলির মধ্যে আবার বেশির ভাগই ধর্মককেন্দ্রীক। ধর্মীয় সাহিত্যসম্ভার মূলত ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রচিত হলেও এগুলি থেকে ইতিহাসের বহু তথ্য সংগ্রহ করা যায়।  প্রাচীন ভারতের প্রধান ধর্মীয় সাহিত্য হল বৈদিক সাহিত্য। বেদ চারটি: ঋক, সাম, যজু ও অথর্ব। প্রতিটি বেদের আবার সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ। এই নিয়ে মোট বৈদিক সাহিত্য সম্ভার। ঋকবেদের রচনাকাল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব 1500 থেকে খ্রিস্টপূর্ব 1000 অব্দ পর্যন্ত। ঋগ্বেদ থেকে এই পর্বের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় জীবনযাত্রার পরিচয় পাওয়া যায়। এই পর্বকে ঋক বৈদিক যুগ বলা হয়। পরবর্তী বেদগুলি রচিত হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব 1000 অব্দ থেকে 500 খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে। এই সময়কালকে পরবর্তী বৈদিক যুগ বলা হয়। পরবর্তী বৈদিক যুগের ইতিহাস চর্চায় পরবর্তী বৈদিক সাহিত্যগুলি অনুরূপভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। বৈদিক সাহিত্যের পরেই উল্লেখ কর...

ইন্দো-গ্রীক | Indo-greeks

 ইন্দো-গ্রীক মৌর্য শাসনের একেবারে শেষ দিকে পুষ্যমিত্রর রাজত্বকালে যবন বা গ্রিক রাজাদের দ্বারা সাকেত ও মধ্যমিকা জয়ের কথা আমরা জানতে পারি। এই গ্রিক শাসকগণ ছিলেন গ্রিসের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। আলেকজান্ডারের আক্রমণের সময়  আগত বহু গ্রীক উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে আলেকজান্ডারের সেনাপতি সেলুকাসের নেতৃত্বে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই সাম্রাজ্য সেলুকিড সাম্রাজ্য নামে পরিচিত ছিল। সেলুকিড সাম্রাজ্যের মূল কেন্দ্র ছিল সিরিয়া। ব্যাকট্রিয়া এবং পার্থীয়া ছিল এই সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত দুটি স্যাট্র্যাপি বা প্রদেশ। ২৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাগ অ্যান্টিওকাস-এর রাজত্বকালে উক্ত দু'টি প্রদেশ বিদ্রোহ করে। ব্যাকট্রিয়াতে এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন ডায়োডোটাস। অবশেষে ওই শতকের শেষ দিকে সেলুকিড শাসক তৃতীয় অ্যান্টিওকাস ব্যাকট্রিয়া ও পার্থীয়ার স্বাধীনতা স্বীকার করে নেন। এইভাবে ব্যাকট্রিয় গ্রিক শাসনের সূচনা হয়। ব্যাকট্রিয় শাখার গ্রিক শাসকগন ব্যাকট্রিয়া হাতছাড়া ( শকদের হাতে ) হওয়ার পর ভারতের উত্তর পশ্চিম দিকের বেশ কিছু এলাকার ওপরে শাসন কায়েম করেছিলেন বলে এদের ইন্দো-গ্রিক শাসকও বলা হয়। প্রথম ...

কলিঙ্গরাজ খারবেল | Kharavela of Kalinga

 কলিঙ্গরাজ খারবেল মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে কলিঙ্গ রাজ্য ছিল অশোকের নজরে একটি অবিজিত এলাকা। মৌর্যদের পতনের পর কাল ক্রমে কলিঙ্গে ক্ষমতাশালী রাজবংশের প্রতিষ্ঠিত হয়। এই রাজবংশ ছিল মহামেঘবান তথা চেদি বংশ। চেদি ছিল খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের অন্যতম মহাজনপদ। বর্তমান বুন্দেলখন্ড এলাকায় চেদি মহাজনপদের অস্তিত্ব ছিল। পরে কোন এক সময় এরা উড়িষ্যার কলিঙ্গে চলে আসে। কলিঙ্গে চেদি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মহামেঘবান এবং এই বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক হলেন খারবেল। খারবেল সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য আমরা পেয়ে থাকি প্রাকৃত ভাষায় রচিত ভুবনেশ্বরের নিকটস্থ হাতিগুম্ফা প্রশস্তি থেকে। খারবেল এর পিতা ছিলেন মহারাজবক্রদেব। খারবেল ছিলেন এই বংশের তৃতীয় শাসক। তবে মহামেঘবানের সাথে তার সম্পর্ক কি ছিল তা সঠিক জানা যায় না। খারবেলের রাজত্বকাল নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। খারবেল তার পঞ্চম রাজ্যবর্ষে তি বস শত পূর্বে নন্দ রাজা কর্তৃক নির্মিত একটি সেচ খাল সংস্কার করেছিলেন। এই তি বস শত কথাটিকে কাশি প্রসাদ জাসওয়াল 103 বছর অর্থে গ্রহণ করে খারবেল এর শাসনকাল চিহ্নিত করেছেন 223 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে। কিন্তু অধিক...

পুষ্যমিত্র শুঙ্গের রাজত্বকাল

পুষ্যমিত্র শুঙ্গের রাজত্বকাল মৌর্য পরবর্তী মগধ শাসকরা ছিলেন শুঙ্গ বংশীয়। শুঙ্গ রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পুষ্যমিত্র শুঙ্গ। মগধে মৌর্যদের শাসন 137 বছর স্থায়ী হয়েছিল। 232 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে অশোকের মৃত্যুর পর মৌর্য সাম্রাজ্য অবক্ষয় দেখা দিয়েছিল। মৌর্য সাম্রাজ্যের অসংহাতির সুযোগে মৌর্যদেরই সেনাধ্যক্ষ পুষ্যমিত্র শুঙ্গ শেষ মৌর্য শাসক বৃহদ্রথকে আনুমানিক 187 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে সিংহাসনচ্যুত ও হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। পুষ্যমিত্র সঙ্গের শাসনকাল 36 বছর স্থায়ী হয়েছিল। তবে তার রাজ্যসীমা মৌর্য শাসক দের মত অত বিস্তৃত ছিল না। জানা যায় যে দক্ষিনে নর্মদা নদী পর্যন্ত তার রাজ্য বিস্তৃত ছিল। এদিকে অযোধ্যা বিদিশা এবং পাটলিপুত্র এলাকায় তার কর্তৃত্ব ছিল। বৌদ্ধ গ্রন্থ দিব্যবদান এবং লামা তারানাথ এর রচনা থেকে জানা যায়, পশ্চিম ভারতে জলন্ধর এবং শাকল বা শিয়ালকোট তার রাজ্যভুক্ত ছিল। তবে এই তথ্য ঐতিহাসিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। পুষ্যমিত্র এর রাজত্বকালে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো দাক্ষিণাত্যে  বিদর্ভ বা বেরার রাজ্যের সঙ্গে সংঘাত। বিদর্ভ রাজ্যের সাথে মৌর্য শাসক দের আত্মীয়তা ছিল। তাই স্বাভাবিক কা...

মৌর্যত্তর ভারতের কৃষি ও কারিগরি অর্থনীতি

  মৌর্যত্তর ভারতের কৃষি অর্থনীতি মৌর্য পরবর্তী ভারতবর্ষের ইতিহাস অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মৌর্যদের পতনের পর উপমহাদেশে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সূচনা হয়। মৌর্যদের মত অত বড় সাম্রাজ্য আর কেউ স্থাপন করতে পারল না। উত্তর ভারতে শুঙ্গ, কান্ব, শক, পহ্লব, কুষান এবং দক্ষিণ ভারতে সাতবাহন, ইক্ষাকু প্রভৃতি রাজবংশ বিভিন্ন সময় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছিল। এদের মধ্যে কুষান এবং সাতবাহনদের শাসন ছিল অন্যদের তুলনায় আকারে এবং প্রকারে বৃহত্তর। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েন অর্থনৈতিক জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে নি। বরং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব হ্রাস পাওয়ার ফলে অর্থনৈতিক জীবনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হতে থাকে, যা অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে।   উত্তর ভারতে কৃষিই ছিল অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। আলোচ্য পর্বে কৃষি অর্থনীতির সুদৃঢ় ভিত্তি দক্ষিণ ভারতেও প্রসারিত হল। খাদ্যশস্যের মধ্যে অন্যতম ছিল ধান, গম ও যব। শালিধান রাজকীয় আহারের জন্য উপযুক্ত ছিল। অন্যদিকে অপরান্ত ও কুমুদভন্ডিকা ছিল দাস ও ভৃত্যদের জন্য। প্লিনির রচনা থেকে জানা যায় সে যুগে আখ ও তুলোর চাষ হত। দাক্ষিণাত্যের কালো মাটি তুলা চাষের জন্য...

দক্ষিণাত্যে শক-সাতবাহন দ্বন্দ্ব | Saka-Satabahana Rivalary

দাক্ষিণাত্যে শক-সাতবাহন দ্বন্দ্ব ভারতবর্ষের বাণিজ্য সমৃদ্ধ পশ্চিম উপকূল এবং খনিজ সমৃদ্ধ মালবকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ভারতে একাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ প্রাচীনকাল থেকে ঘটে এসেছে। এই সংঘর্ষের প্রথম উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হলো শক-সাতবাহন দ্বন্দ্ব। শক শাসকেরা ছিল বিদেশি। গ্রীকদের পর এরা ভারতে এসেছিল। ভারত ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজত্বকারী শকদের চারটি শাখা ছিল। একটি শাখা আফগানিস্তানের রাজত্ব করত, দ্বিতীয় শাখা পাঞ্জাবে, তৃতীয় শাখা মথুরায়, চতুর্থ শাখা পশ্চিম ভারতে। পশ্চিম ভারতের শক শাসন দীরঘস্থায়ী হয়েছিল। শক রাজাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন প্রথম রুদ্রদামন (১৩০-১৫০ খ্রীঃ)। দাক্ষিণাত্যে যারা প্রথম পরাক্রান্ত রাজশক্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল তারা হল সাতবাহন। সাতবাহন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সিমুক। পুরান-এ সাতবাহনদের অন্ধ্রভৃত্য বলা হয়েছে। তাই অনেকেই দাক্ষিণাত্যের পূর্বাংশকে সাতবাহনদের আদি বাসভূমি বলে মনে করেন। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে সাতবাহনদের উত্থান ঘটেছিল দাক্ষিণাত্যের পশ্চিম দিকে। এখানেই প্রতিষ্ঠান (পৈঠান) এলাকায় তাদের রাজধানী ছিল। গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী ছিলেন সাতবাহন বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ...