সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ModernIndia লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০–১৯৩৪) | Civil Disobedience Movement (1930–1934)

  আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০–১৯৩৪) ১. পটভূমি ভারতের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে আইন অমান্য আন্দোলন (Civil Disobedience Movement) ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। ১৯২০-২২ সালের অসহযোগ আন্দোলনের পর কিছুদিন রাজনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিলেও ১৯২০-এর দশকের শেষভাগে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ১৯২৭ সালে সাইমন কমিশন ভারতে আগমন করলে তার বিরুদ্ধে সর্বত্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, কারণ কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য ছিল না। একই সময়ে নেহরু রিপোর্ট (১৯২৮), জিন্নাহর চৌদ্দ দফা এবং সাংবিধানিক প্রশ্নে মতপার্থক্য ভারতীয় রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বর মাসে লাহোর অধিবেশনে জওহরলাল নেহরুর সভাপতিত্বে কংগ্রেস “পূর্ণ স্বরাজ”-কে জাতীয় লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে। সিদ্ধান্ত হয় যে ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস পালন করা হবে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার ভারতের স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। ফলে গান্ধিজি আন্দোলনের পথ বেছে নেন। তিনি ভাইসরয় লর্ড আরউইনকে ১১ দফা দাবি সম্বলিত চিঠি পাঠান। দাবিগুলি উপেক্ষিত হলে তিনি আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২. লবণ সত্যা...

দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কালে ভারতে শ্রমিক আন্দোলন (১৯১৯-১৯৩৯) | Working Class Movement in India During the Inter-War Period (1919–1939)

দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কালে ভারতে শ্রমিক আন্দোলন ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কাল (১৯১৯-১৯৩৯) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর পরিবর্তন ঘটে। যুদ্ধকালীন মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিকদের কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। অন্যদিকে রুশ বিপ্লব (১৯১৭)-এর প্রভাব, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উত্থান ভারতীয় শ্রমিকদের সংগঠিত হতে অনুপ্রাণিত করে। ফলে এই সময়ে শ্রমিক আন্দোলন শুধু অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী বছরগুলিতে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নতুন জোয়ার এবং রুশ বিপ্লবের সাফল্য শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা জাগিয়ে তোলে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা নিজেদ...

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে ভারতের রাজনৈতিক সংগঠন | Political Organizations in India Before the Establishment of the Indian National Congress

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে ভারতের রাজনৈতিক সংগঠন উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশে আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠনের উত্থান ঘটে। ইংরেজি শিক্ষার প্রসার, পাশ্চাত্য উদারনৈতিক চিন্তাধারার প্রভাব, সংবাদপত্রের বিকাশ, রেল ও টেলিগ্রাফের সম্প্রসারণ এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নীতির ফলে শিক্ষিত ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। এই নতুন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি উপলব্ধি করতে শুরু করে যে বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন না করে সংগঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব। ফলে বিভিন্ন প্রদেশে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে, যেগুলি পরবর্তীকালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। ভারতে আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠনের ইতিহাস শুরু হয় জমিদার সভা (Landholders’ Society) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ১৮৩৭ সালে রাজা রাধাকান্ত দেবের নেতৃত্বে গঠিত এই সংগঠন বাংলার, বিহারের ও উড়িষ্যার জমিদারদের স্বার্থরক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও এটি সাধারণ মানুষের সংগঠন ছিল না, তবুও প্রথমবারের মতো ভারতীয়রা সাংবিধানিক উপায়ে সরকারের নিকট নিজেদের দাবি-দাও...

১৮৫৭ এর পূর্ববর্তী কৃষক ও উপজাতি সংগ্রাম | Peasant and Tribal Movements before 1857

  ১৮৫৭ এর পূর্ববর্তী কৃষক ও উপজাতি সংগ্রাম  ভারতের গ্রামীন সমাজ উপনিবেশিক শাসনের প্রবঞ্চনার জবাব দিয়েছিল উপনিবেশিক শাসনকে অস্বীকার করে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে। মুঘল আমলেও ভারতে কৃষক বিদ্রোহ হয়েছিল। যখন মুঘল কর্তাদের সাথে বোঝাপড়াকে ছাপিয়ে রাজস্ব ধার্য বেড়ে চলে, যখন কৃষকদের ন্যূনতম গ্রাসাচ্ছদনে হাত পড়ে এবং যখন আঞ্চলিক মুঘল আমলারা অত্যাচারী হয়ে ওঠে তখন কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। অত্যাচারের এই প্রবণতা আরও ছড়িয়ে পড়ে, যখন উপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, তার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং একের পর এক রাজস্বব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়। কাজেই উপনিবেশিক শাসনের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই কৃষক বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। ব্রিটিশ শাসনের প্রথম শতকেই বেশ কয়েকটি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল অসন্তুষ্ট স্থানীয় শাসক, মুঘল আধিকারিক কিংবা ভূমিহারা জমিদারদের নেতৃত্বে। এরা স্থানীয় কৃষক সম্প্রদায়ের সমর্থনও পেত, কারণ কৃষকরা চাইত পুরাতন আমলকে ফিরিয়ে আনতে। এধরনের বিদ্রোহগুলির মধ্যে রাজা চৈত সিং ও অযোধ্যার অন্যান্য জমিদারদের বিদ্রোহ (১৭৭৮-৮১), অযোধ্যার সিংহাসনচ্যুত নবাব ভিজিয়ের আলীর বিদ্রোহ (১৭৯৯)। এছাড়া রয়েছে ১...

দাদাভাই নৌরজীর আর্থিক নিষ্ক্রমণ তত্ত্ব | Dadabhai Naoroji's Theory of Economic Drain

দাদাভাই নৌরজীর আর্থিক নিষ্ক্রমণ তত্ত্ব যে সমস্ত জাতীয়তাবাদী পণ্ডিত ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অর্থনীতির সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সফল ব্যবসায়ী দাদাভাই নৌরজি। তিনি তার রচিত Proverty and Unbritish Rule in India গ্রন্থে পরিসংখ্যান সহযোগে দেখিয়েছেন কিভাবে ব্রিটিশ উপনিবেশিক নীতির ফলশ্রুতি হিসেবে ভারতীয় সম্পদের একটা বিরাট অংশ ব্রিটেনে প্রেরিত হচ্ছে এবং তার ফলে ভারত দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর দেশে পরিণত হচ্ছে।  তার মতে ১৮৫৭-র পর থেকে ব্রিটিশ সরকার মার্কেনটাইলবাদ, লুটপাট, নজরানা আদায় ইত্যাদি শোষণের সোজাসাপ্টা ও পুরানো পথ গুলি ত্যাগ করে স্বল্প দৃশ্যমান অথচ অনেক বেশি পরিশীলিত নীতি গ্রহণ করে। ভারতকে কাঁচামাল সরবরাহকারী ও খাদ্য সরবরাহকারী এবং ব্রিটেনে তৈরি দ্রব্যাদির বাজারে পরিণত করা হয়। ভারতীয় মূলধন বিনিয়োগ করে ভারতে শিল্পায়ন ঘটানোর পরিবর্তে ভারতে বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগ করা হয়। এর ফলে লভ্যাংশ দেশের বাইরে চলে যায়। তার উপর হোম চার্জেস, ভারতে  কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ খরচ, ব্রিটেনের সাম্রাজ্য বিস্তারের খরচের একাংশ প্রভৃতি ভারতীয় সম্পদ নির্গমন কে তীব...

ইঙ্গ ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণ ও পরিণাম | Causes and Consequences of Anglo-French Rivalry

ইঙ্গ ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণ ও পরিণাম  ইংরেজ ও ফরাসি এই দুই ইউরোপীয় শক্তি উপনিবেশিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভারতে আসেন এবং ভারতের বাণিজ্য ও সম্পদের উপর নিজেদের একছত্র অধিপত্য স্থাপন করার চেষ্টায় একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। করমন্ডল উপকূল ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অর্থাৎ কর্ণাটক এলাকা ১৭৪৪ থেকে ১৭৬৩ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ হয়। যা পর্যায়ক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কর্ণাটকের যুদ্ধ নামে পরিচিত।  মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের লগ্নে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতায় ইংরেজ ও ফরাসিরা তাদের স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ পেয়েছিল। হায়দ্রাবাদের নিজাম-উল-মুল্ক আসফ ঝাঁ-এর মৃত্যুর পর সমগ্র দক্ষিণ ভারতে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়, তার উপর মারাঠাদের আক্রমণ দক্ষিণ ভারতকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। এই অবস্থায় ইংরেজ ও ফরাসিরা পারস্পারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়। করমন্ডল উপকূলে বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারলে ভারতে তাদের সাম্রাজ্যের স্থাপনের কাজ সহজ হবে। তাছাড়া ১৭৪০ নাগাদ অস্ট্রিয়ায় উত্তরাধিকার নিয়ে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভারতে এই দুই বনিক গোষ্ঠীকে প্র...

দেওয়ানী লাভ ও তার তাৎপর্য | The Diwani Right and Its Significance

দেওয়ানী লাভ ও তার তাৎপর্য  দেওয়ানী ব্যবস্থা ভারতে মুঘল শাসন পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিটি প্রদেশে সরকারি ক্ষমতা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। দেওয়ানী ও নিজামত। প্রথমটির অধীনে ছিল রাজস্ব আদায় ও ভূমি সংক্রান্ত মামলা। দ্বিতীয়টির অধীনে ছিল শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও ফৌজদারি মামলা। তবে মুঘল শাসনের শেষ দিকে এই দুই ক্ষমতা একই ব্যক্তির হাতে চলে আসে। নবাব আলীবর্দী খাঁ একাই ছিলেন বাংলার দেওয়ান ও নাজিম। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভ করে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি  বাংলা, অযোধ্যা ও দিল্লিকে পরাস্ত করে উত্তর ভারত পর্যন্ত ক্ষমতা বিস্তার করেছিল। বাংলা সম্পর্কে ব্রিটিশের পরবর্তী পদক্ষেপই ছিল দেওয়ানির অধিকার আদায়, যা সমকালীন বাংলা তথা ভারতের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।  মীরজাফর, যিনি বক্সারের যুদ্ধের পর কিছুদিনের জন্য বাংলার নবাব হয়েছিলেন তার মৃত্যু ঘটলে তার পুত্র নজমউদ্দৌলা বাংলার নবাব হন। প্রচুর অর্থ কোম্পানিকে দিয়ে নবাব ও কোম্পানির মাঝে কোম্পানি মনোনীত একজন নায়েব সুবা নিয়োগ করা হয়, যার মাধ্যমে কোম্পানি তার শাসনতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সুবিধাগুলি আদ...