সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

Mughal India লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মুঘল রাষ্ট্রের প্রকৃতি | The Nature of the Mughal State

 মুঘল রাষ্ট্রের প্রকৃতি  ভারতে মুঘল শাসনের প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। বিতর্কের প্রধানতম দিক মুঘল রাষ্ট্র কি ধর্মাশ্রয়ী বা Theoeracy? যদি না হয় তাহলে কি স্বৈরাচারী? আর যদি স্বৈরাচারী হয় তাহলে সেটা কি নিরঙ্কুশ নাকি জনকল্যাণমূলক?  মুঘল রাষ্ট্র কতটা সামরিক ও কতটা অভিজাততান্ত্রিক তা-ও বিতর্কের বিষয়। ঐতিহাসিক শ্রীরাম শর্মা এবং ইশতিয়াক হুসেন কুরেশি মুঘল রাষ্ট্র ব্যবস্থার সাম্প্রদায়িক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শ্রীরাম শর্মা তাঁর The Religious Policy of Mughal Emperor গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে মুঘল শাসকরা প্রত্যেকে ছিলেন ধর্ম গোঁড়া একমাত্র আকবর ছাড়া। তিনি সবচেয়ে বেশি আঙ্গুল তুলেছেন অরঙ্গজেবের দিকে। ধর্মীয় বিদ্বেষবসত কারণে আকবর থেকে ঔরঙ্গজেব সকলেই শাসনব্যবস্থায় হিন্দুদের নিয়োগ করতে চাইতেন না। তাই দরবারে হিন্দুর সংখ্যা ছিল কম। হিন্দুদের কাছ থেকে নিপীড়নমূলক জিজিয়া আদায় করতেন এবং মন্দির ধ্বংস সহ হিন্দুদের নানা অকারণ হেনস্তার শিকার হতে হত। কিন্তু আলীগড় ঐতিহাসিক আতাহার আলি উক্ত গ্রন্থের সমালোচনা করে যা প্রকাশিত হয়েছে  ইরফান হাবিব সম্পাদিত মধ্যকালীন ভারত- এর দ...

মুর্শিদকুলি খানের রাজস্ব সংস্কার | Murshid Quli Khan's Revenue Reforms

মুর্শিদকুলি খানের রাজস্ব সংস্কার মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের সময়ে মুর্শিদকুলি খাঁ বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিজ কৃতিত্বের সাক্ষ্য রাখেন। ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতা ও দলাদলির সুযোগে নিজে ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে থাকেন। ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি একই সাথে বাংলার দেওয়ান ও সুবাদার পদে নিযুক্ত হন। তিনি কার্যত স্বাধীনভাবেই রাজত্ব চালাতেন। তার হাত ধরে বাংলার ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যপক সংস্কার সাধিত হয়। এর ফলে বাংলার শক্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।  ক্ষমতা আরোহণের পরেই মুর্শিদকুলি খাঁ বাংলার রাজস্ব সংস্কারের কাজে হাত দেন। পূর্ববর্তী রাজস্ব ব্যবস্থায় মুঘল কর্মচারীদের জায়গীর জমি এত বেশি ছিল যে খালিশা জমি না থাকায় ভূমি রাজস্ব বাবদ আয় ছিল কিঞ্চিত মাত্র। মুর্শিদকুলি খাঁ এই অবস্থার মোকাবিলা করতে প্রথমে মুঘল কর্মচারীদের জায়গীর হিসেবে প্রাপ্ত সমস্ত জমিকে খালিশায় পরিণত করেন। এর ফলে খালিশা জমি থেকে রাষ্ট্রের আয় বাড়ে। এইসব জায়গীরহারা কর্মচারীদের উড়িষ্যার অনুন্নত ও জঙ্গল আবৃত অনুর্বর জমিতে নতুন ভাবে জায়গীর দেন। এর ফলে অনাবাদি জমি আবাদিতে পরিণত হবার প্রয়াস দেখা যায়।  ...

জায়গিরদারী সংকট | Jagirdari Crisis

জায়গিরদারী সংকট  সম্রাট আকবর সরকারি কর্মচারীদের সুসংগঠিত করার জন্য মনসবদারি ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। তখন থেকেই মনসবদাররা মুঘল শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। মনসবদারদের কিছু কিছু নগদ বেতন পেতেন। আর কিছু মনসবদার জমির অধিকার পেতেন; এঁরা জায়গীরদার নামে পরিচিত হতেন। জায়গীরদাররা তাদের জায়গীর থেকে রাষ্ট্র নির্ধারিত সমস্ত কর আদায় করতেন। জায়গীর জমি বাদে থাকত সম্রাটের অধীনস্থ কিছু খালিশা জমি এবং কিছু পাইবাকি জমি অর্থাৎ যেগুলি তখনও মনসবদারের কাছে বন্টিত হয়নি এমন কিছু জমি। বেশিরভাগ জমিই ছিল জায়গীরদারী জমি হিসাবে বন্ঠিত জমি। ভূমির উপর জায়গীরদারদের কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল না। সম্রাটের ইচ্ছামত তাদের বদলি করা যেত। এমন জায়গির তনখা জায়গীর নামে পরিচিত ছিল। আর যে জায়গীর গুলি বংশানুক্রমিকভাবে ভোগ করা যেত তাকে ওয়াতন জায়গীর বলা হত। এগুলি সম্রাট আকবরের সময় বিশেষ শর্তে সৃষ্টি করা হয়েছিল।   তনখা জায়গির গুলির বদলির রীতি কিরূপ জটিলতার সৃষ্টি করেছিল তা দেখিয়েছেন ইরফান হাবিব। কোনো জায়গীরদার যে অঞ্চলে থাকত সেখানে সেই সময়ে ভালো উৎপাদন না হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হত। বছ...

মুঘল যুগে নগরায়ন | Urbanization in the Mughal Era

মুঘল যুগে নগরায়ন নগরায়ন মধ্যযুগের আর্থ-সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। মুঘল আমলের বিবরণ গুলিতে সরাসরি নগরায়ন বিষয়ে উল্লেখ না থাকলেও রাজনৈতিক ও তার আনুসাঙ্গিক বিষয়ের বিবরণে নগরের উৎখান পতনের ইতিহাস পাওয়া যায়। সুলতানি যুগে নগরায়নের যে সূচনা হয়েছিল ২০০ বছরের মুঘল শাসনে তা অব্যাহত ছিল। সুলতানি যুগের পুরাতন শহর যেমন দিল্লী, লাহোর প্রভৃতির পুনরুত্থান ঘটেছিল, সেইসঙ্গে নতুন কিছু শহর যেমন এহালাবাদ, ফতেপুর সিক্রি, সুরাট, আর্কট, ফারিদাবাদ প্রভৃতির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। নগর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শাসক শ্রেণী ও মুঘল উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের পৃষ্ঠপোষকতা, উৎসাহ এবং সক্রিয় সহযোগিতা ছিল।  গ্রামবাসী কৃষিজীবীর পুরবাসীতে রুপান্তর অর্থাৎ বড় শহরে পরিবর্তন এবং বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে শহর গড়ে ওঠা, এইসব কতগুলি ধীর অথচ স্বাভাবিক সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের ফলে নগরায়ন সম্ভব হয়েছিল। প্রথম্‌ মুঘল রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক স্থিরতা মানুষকে অধিকতর নিরাপত্তা ও শান্তির আশ্বাস জনগণকে প্রাচীরবেষ্টিত দুর্গের অভ্যন্তরে ও বাইরে বাস করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মুঘল রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ফলে দেশে যে ম...

শিবাজীর অধীনে মারাঠা শক্তির উত্থান | Rise of the Maratha under Shivaji

শিবাজীর অধীনে মারাঠা শক্তির উত্থান  মহারাষ্ট্রে মারাঠা জাতির উত্থান ভারতের ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। যদুনাথ সরকার শিবাজীকে মারাঠা জাতির শ্রষ্ঠা বলে উল্লেখ করেছেন। তবে মারাঠাদের উত্থান শিবাজীর আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। মারাঠা জাতির উত্থানের পিছনে একটা অনুকূল পরিস্থিতি কার্যকর ছিল। শিবাজীর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব এর সাথে যুক্ত হয়ে উত্থানকে সম্ভব করেছিল।  মহারাষ্ট্রের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য মারাঠা জাতির উত্থান ও চরিত্র গঠনে যথেষ্ট সাহায্য করেছিল। মহারাষ্ট্র পাহাড়-পর্বত দ্বারা বেষ্টিত এবং নর্মদা ও তাপ্তি নদী একে ঘিরে রাখায় প্রাকৃতিক নিরাপত্তা পেয়েছে। অন্যদিকে অনুর্বর জমি মারাঠাদের কষ্টসহিষ্ণু ও সংগ্রামী করে তুলেছিল। মারাঠার ভৌগলিক পরিস্থিতি গেরিলা যুদ্ধের পক্ষে অনুকূল ছিল। ১৫-১৬ শতকের ধর্মীয় আন্দোলন মারাঠাদের মধ্যে জাগরণের পটভূমি তৈরি করেছিল। মারাঠা জাতির সামরিক ও শাসনতান্ত্রিক অভিজ্ঞতাও ছিল। ইতিপূর্বে বাহমনি, আহম্মদ নগর ও বিজাপুর সুলতানদের অধীনে সামরিক বিভাগে বহুদিন কাজ করে তারা এই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল।  এই পটভূমিতে শিবাজীর উত্থান। শিবাজীর পিতা সাহু...

তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ | The Third Battle of Panipat

তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ  মারাঠা জাতি তথা ভারতের ইতিহাসে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ একটি নির্ণায়ক ঘটনা। পেশোয়া বালাজি বাজিরাও পাঞ্জাব দখল করলে আফগান বীর আহমদ শাহ আবদালির সঙ্গে মারাঠাদের সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। আবদালি ১৭৫৮-তে পাঞ্জাব পুনর্দখল করে দিল্লির দিকে এগিয়ে যান। পথে বালাজি বাজিরাও তাঁর পুত্র বিশ্বাসরাও ও ভাই সদাশিবরাও-এর নেতৃত্বে বিরাট বাহিনী আহমদ শাহ আবদালিকে বাধা দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। মারাঠা সেনাপতি উত্তর ভারতের হিন্দু রাজাদের সাহায্য চেয়েছিলেন কিন্তু সাড়া পাননি। মারাঠারা দিল্লি দখল করলে আবদালিও দিল্লির দিকে অগ্রসর হন। ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত পানিপথের যুদ্ধে নিঃসঙ্গ মারাঠা বাহিনী পরাজিত হয়। বিপান চন্দ্রের মতে, যুদ্ধে ২৪ হাজার মারাঠা সেনা ও ২২ জন প্রধান সেনাপতি মারা যান। বিশ্বাসরাও এবং সদাশিবরাও-এর মৃত্যু ঘটে। পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে বালাজি বাজিরাও ওই বছরেই মারা যান। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের গুরুত্ব নিয়ে ঐতিহাসিকরা তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছেন। মারাঠা ঐতিহাসিকরা এই যুদ্ধকে গুরুত্বহীন ঘটনা হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চেয়েছেন। তাঁদের মতে, কয়েকজন প্রথম সারির মারাঠা সামরিক নেতা ছাড...

খানুয়ার যুদ্ধ

খানুয়ার যুদ্ধ ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রধান কৃতিত্ব বাবরের। যে তিনটি যুদ্ধ ছাড়া মুঘলদের ভারতে আধিপত্য কায়েম সম্ভব ছিল না সেগুলির মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ খানুয়া যুদ্ধ বলে ঐতিহাসিকগন মনে করেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হলেও আফগানরা নিশ্চিহ্ন হয়নি। তাঁর ভ্রাতা মামুদ লোদী আফগানদের সঙ্ঘবদ্ধ করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন। পানিপথের যুদ্ধের পর রাজপুত নেতা রানা সঙ্গ দিল্লি দখলের পরিকল্পনা করেন। তিনি ভেবেছিলেন বাবর, তৈমুরের মতো লুণ্ঠন করে ফিরে যাবে। কিন্তু যখন তিনি দেখলেন বাবর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তখন তিনি আফগানদের সঙ্গে আঁতাত করে বাবরকে ভারত ছেড়ে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা করেন। আবার অন্যদিকে বাবরও ভেবেছিলেন যে, রাজপুতদের পরাস্ত করতে না পারলে তার ভারতে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। তাই উভয়পক্ষই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে।  ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে ১৭ ই মার্চ উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ বাধে। আগ্রার অদূরে খানুয়ার প্রান্তরে প্রাথমিক পর্বে নির্ভীক দুঃসাহসী রাজপুতরা মুঘল বাহিনীকে চাপে ফেলে দেয়। কিন্তু বাবর এই প্রাথমিক ধাক্কা কাটি...

মুঘল আফগান সংঘর্ষ এবং মুঘলদের সাফল্যের কারণ

মুঘল আফগান সংঘর্ষ এবং মুঘলদের সাফল্যের কারণ   ষোড়শ শতক ভারতের রাজনৈতিক পালাবদল এর কাল। গতানুগতিক ইতিহাসচর্চায় যে দীর্ঘ সময়কালকে ইসলামিক যুগ বলে আখ্যা দেওয়া হয় তারই অন্তর্গত এই পর্ব। ধর্মীয় দিক থেকে মুঘল ও আফগানরা ইসলাম ধর্মালম্বী ছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উভয় গোষ্ঠী যথেষ্ট শত্রুভাবাপন্ন, কারণ এখানে ধর্ম নয়, ক্ষমতার দ্বন্দই ছিল বড়। ১৫ শতকের শেষ দিক থেকে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্য ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। লোদি সম্রাট ইব্রাহিম লোদির সময়ে কেন্দ্রীয় শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আফগান সর্দাররা ইব্রাহিম লোদির প্রতি রুষ্ট হয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। রাজপুতরাও পিছিয়ে ছিল না। এই পরিস্থিতি মধ্য এশিয়া থেকে বিতাড়িত বাবরের কাছে ভাগ্যের সন্ধানের নতুন দরজা খুলে দেয়।  মোঙ্গল ও তৈমুর বংশের মিশ্র বংশজাত বাবার নাবালক অবস্থায় তারই আত্মীয়-শত্রুদের দ্বারা পিতৃ রাজ্য ফারঘানা থেকে বিতাড়িত হন। তার পক্ষে মধ্য এশিয়ার অটোমান, সাফাবিদ ও উজবেগদের সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পেরে ওঠা সম্ভব হয়নি। যদিও তিনি সমরখন্দ দখলের স্বপ্ন বহুদিন বহন করেছিলেন। সামরখন্দ দখলের শেষ দুটি চ...

মুঘলদের পতন সংক্রান্ত ব্যখ্যা | Historical Debate on the Fall of Mughal Empire

মুঘলদের পতন  ১৫২৬ খ্রিঃ পানিপথের যুদ্ধে বাবরের জয়লাভের মাধ্যমে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের যাত্রা শুরু হয় এবং মহান আকবরের শাসনকালে মুঘল সাম্রাজ্য তার ভিত মজবুত করতে সক্ষম হয়। সপ্তদশ শতকে মুঘল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় শহর দিল্লি সমগ্র পূর্ব গোলার্ধের ক্ষমতার অন্যতম কেন্দ্র হিসাবে বিবেচিত হত। কিন্তু ১৭০৭ খ্রিঃ মহান ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর এই সাম্রাজ্যের ক্রমিক অবক্ষয়ের সূচনা হয় এবং আগামী ৫০ বছরের মধ্যে এর পড়ন্ত অবস্থার লক্ষনগুলি সুস্পষ্ট হয়ে যায়। উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে সাম্রাজ্যের সামরিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। মারাঠারা সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে লুঠপাঠ চালাতে থাকে। পরপর দুটি বিদেশি অক্রমণ প্রতিরোধে ব্যর্থতা, পারস্যের নাদির শাহের আক্রমণ (১৭৩৮-৩৯) এবং আহম্মদ শাহ আবদালির নেতৃত্ব আফগান আক্রমণ (১৭৫৬-৫৭) মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতাপ ও মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করে।   মুঘলদের পতনের কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে একসময় ব্যক্তিবিশেষের ভূমিকাকে বড় করে দেখা হত। মনে করা হত দুর্বল উত্তরাধিকারী, যোগ্য নেতৃত্বের অভাব, ঔরঙ্গজেবের ভ্রান্ত নীতি ইত্যাদি কারনে সাম্রাজ্যের অবনতি ঘটে। কিন্তু সাম্প্রতিক কালের ইতিহাস চর্চায় স...