সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

গান্ধীবাদী জাতীয় আন্দোলনে নারী

 গান্ধীবাদী জাতীয় আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা আলোচনা কর।  ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ বলেছেন যে রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের ময়দানে নারীদের নিয়ে আসা ছিল গান্ধীজীর নারী জাগরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান। ইংরেজদের বেড়ি ছিঁড়ে বের হতে তিনি পুরুষদের পাশাপাশি চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ নারীদের ও মুক্ত আকাশের নিচে রাজপথে নামিয়ে এনেছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর সমাজ সংস্কার আন্দোলন এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে স্বদেশী আন্দোলনের মাধ্যমে নারীদের জন পরিসরে প্রবেশের যে ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল, তা 1920 এর দশকে গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ, আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সর্বভারতীয় রূপ লাভ করেছিল।  দক্ষিণ আফ্রিকায় সত্যাগ্রহ পরিচালনার সময় গান্ধীজী নারীদের আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নৈতিক মুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করেন এবং এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ভারতের নারীদের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেন। তার মতে অহিংসা সংগ্রামের জন্য ধৈর্য, সহানুভূতি, আত্মত্যাগ, আত্ম সংযম এর মত গুণাবলী গুলি বিশেষভাবে প্রয়োজন আর ভারতীয় নারীরা ঐতিহাসিকভাবে এই গুণাবলীর অধিকারী। এর...

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সমাজে নারীর অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা কর।

 ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সমাজে নারীর অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা কর। ঊনবিংশ শতকের ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থান ছিল গভীর বৈষম্য, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবর্তনশীলতার এক জটিল সমন্বয়। এই যুগের নারীজীবনকে কেবল সতীদাহ, বাল্যবিবাহ বা বিধবাজীবনের মতো কয়েকটি সামাজিক কুপ্রথার আলোচনায় সীমাবদ্ধ করলে প্রকৃত ঐতিহাসিক চিত্রটি সম্পূর্ণ বোঝা যায় না। নারীর অবস্থান নির্ধারিত হতো পিতৃতান্ত্রিক পরিবার, ধর্মীয় বিধিনিষেধ, জাতিভেদ, শ্রেণিগত অবস্থান, সম্পত্তির অধিকার, শ্রমের প্রকৃতি এবং আঞ্চলিক সামাজিক কাঠামোর দ্বারা। ফলে ঊনবিংশ শতকের ভারতীয় নারী বলতে কোনো একক ও অভিন্ন অভিজ্ঞতাকে বোঝায় না। উচ্চবর্ণের শিক্ষিত বা অভিজাত হিন্দু নারীর জীবন, কৃষক ও শ্রমজীবী নারীর জীবন, মুসলিম নারীর অভিজ্ঞতা, দলিত নারীর অবস্থান কিংবা কেরল ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু মাতৃতান্ত্রিক সমাজের নারীর জীবন একই ধরনের ছিল না। আধুনিক নারী-ইতিহাসচর্চা তাই ভারতীয় নারীকে একটি একক প্রতীক হিসেবে নয়, বহুবিধ সামাজিক বাস্তবতার মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর নারী হিসেবে বিশ্লেষণ করার উপর গুরুত্ব দেয়।নারীকে প্রধানত কন্যা, স্ত্রী এবং মাতা হিসেবে মূল্যায়ন ক...

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল | Victoria Memorial Hall

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল  ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাবেক রাজধানী কলকাতার কেন্দস্থলে তথাকথিত White Town-এ ময়দানে ৬৪ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল ও উদ্যান ভারতে স্থাপিত ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। পৃথিবীর ইতিহাসে এর থেকে বড় কোনো সৌধ কোনো শাসকের উদ্দ্যেশ্যে নির্মিত হয়নি। এই স্থাপত্য ইন্দো-সারাসেনিক রীতির অনন্য নিদর্শন এবং পরবর্তীকালে অন্যান্য স্থাপত্য নির্মাণের (যেমন যোধপুরের উমাইদ ভবন) অনুপ্রেরনা। কলকাতা ভ্রমনের সূচীতে সব্রাগ্রে স্থান করে নেয় এই ভিক্টরিয়া মেমোরিয়াল হল। স্থানীয় অর্থাৎ কলকাতা ও তার সন্নিহিত এলাকার লোকজনের বৈকাল ভ্রমনের জন্য প্রথম পছন্দ হল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, অন্যান্য রাজ্য থেকে এবং বিদেশ থেকে, বিশেষ করে পশ্চিমের পর্যটকগন এখানে আসতে এবং ঔপনিবেশিক শাসনের ঐতিহ্যকে পরখ করতে পছন্দ করে।  ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল বড়লাট লর্ড কার্জনের মস্তিস্কপ্রসূত। ১৮৫৮-এর ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ইংল্যান্ডের রানী ভিক্টোরিয়া (১৮৭৬-১৯০১ খ্রিঃ) ভারতের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যেরও সম্রাজ্ঞী। ১৯০১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্মরনে একটি সৌ...

ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে বেলুড় মঠ

ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে বেলুড় মঠ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা লাগোয়া হাওড়া জেলার হাওড়া শহরের বেলুড় নামক এলাকায় গঙ্গার তীরে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রধান কার্যালয় হল বেলুড় মঠ। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের আদর্শে তাঁর বিশ্বনন্দিত শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। ৪০ একর জমি জুড়ে বিস্তৃত প্রাঙ্গনে রামকৃষ্ণ, সারদা দেবী এবং বিবেকানন্দের স্মৃতি সম্বলিত এই বেলুড়মঠ পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রধান পর্যটন আকর্ষণ এবং ভক্তদের কাছে তীর্থ ক্ষেত্র।     ১৮৯৭ সালে বিদেশ থেকে ফিরে বিবেকানন্দ দুটি মঠের গোড়াপত্তন করেন; একটি আলমোড়ার নিকট হিমালয়ে অবস্থিত মায়াবতীতে অদ্বৈত আশ্রম ও অপরটি কলকাতার সন্নিকটস্থ বেলুড়ে রামকৃষ্ণ মিশন । এই মঠদুটি স্থাপনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল রামকৃষ্ণ মিশনে যোগদানে ইচ্ছুক যুবকদের গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ এবং তাদের মিশনের কাজকর্মের উপযুক্ত করে তোলা। এই বছরেই দুর্ভিক্ষের সময় জনসেবার মাধ্যমে মিশনের কাজের সূচনা হয়। বিবেকানন্দ তাঁর পরিব্রাজক জীবনে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন স্থাপত্যশৈলীর সাথে পরিচিত হন। তিনি ইন্দো-সারসনীয়,  ইন্দো-পারসিক তথা মুঘল ও রাজ...

বিষ্ণুপুরের ঐতিহাসিক পর্যটন | Historical Tourism of Bishnupur

ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে বিষ্ণুপুর পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর ( ২২.৩৮° উত্তর ৮৮.২৭° পূর্ব ) বিখ্যাত তার টেরাকোটা মন্দির ঐতিহ্যের জন্য। পূর্বভারতের মধ্যযুগীয় মন্দির স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এখানকার মন্দিরগুলি। সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকের মধ্যে  মল্ল রাজারা তাঁদের রাজধানী বিষ্ণুপুরে এই নির্মাণ সম্পন্ন করেছিলেন। মন্দিরগুলিতে  অসাধারন  স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও আখ্যানধর্মী অলঙ্করণের অপূর্ব সমন্বয় ধরা পড়ে। ১৯৯৭-এ বিষ্ণুপুরের মন্দির UNESCO থেকে World Heritage- এর মর্যাদা পেয়েছে। মল্ল রাজাদের ইতিহাস, অসাধারন মন্দির স্থাপত্য, টেরাকোটা আর্ট এবং ঐতিহ্যবাহী বালুচরি শাড়ি বিষ্ণুপুর-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে।    খ্রিঃ সপ্তম শতকে মল্ল রাজবংশের উত্থান। এই বংশের প্রথম রাজা আদিমল্ল। মল্ল কথার অর্থ মল্লযোদ্ধা। জনশ্রুতি অনুশারে রাজা আদিমল্ল প্রারম্ভিক জীবনে মল্লযুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং আদি মল্ল বা অদ্বিতীয় যোদ্ধা হিসাবে সমাজে স্বীকৃতি লাভ করেন। এর পর জয়পুরের কাছে পদমপুরের রাজার কাছ থেকে লাউগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের উপর আধি...