সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ঐতিহাসিক পর্যটনক্ষেত্র হিসাবে নালন্দা মহাবিহার | Nalanda Mahavihara as a Historical Tourism Site

ঐতিহাসিক পর্যটনক্ষেত্র হিসাবে নালন্দা মহাবিহার ভারতীয় উপমহাদেশ তথা সমগ্র বিশ্বের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অন্যতম হল নালন্দা মহাবিহার। বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত নালন্দা জেলায় এই প্রতিষ্ঠানের প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ আবিস্কৃত হয়েছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই নিদর্শনটি দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ ঐতিহ্য , বৌদ্ধ জ্ঞানচর্চা এবং এখানকার প্রাচীন শিক্ষা ব্যবস্থার সাক্ষ্য বহন করছে। ' নালম ' কথার অর্থ পদ্ম। পদ্ম বৌদ্ধ ঐতিহ্যে জ্ঞানের প্রতীক। ' দা ' কথার অর্থ প্রদান করা। এই অর্থে নালন্দা হল জ্ঞান প্রদানের স্থল অর্থাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রচলিত ভাষায় একে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ও বলা হয়। নালন্দার ধংসাবশেষ বহু দিন ধরেই প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গবেষণার একটি আকর্ষণীয় বিষয়। দেশ বিদেশের গবেষকদের পাশাপাশি এখানে বৌদ্ধ ধর্মের টানে বহু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পর্যটক এবং সাধারণ পর্যটক এখানে ভিড় জমায়। পর্যটকদের ভ্রমনসূচীর মধ্যে রাজগীর , নালন্দা ও বোধগয়া সংযুক্ত থাকে।     বিশ শতকে ASI- এর তত্ত্বাবধানে প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখননের কাজ শুরু হওয়ার বহু আগে থেক...

ধোলাভিরাঃ একটি ঐতিহাসিক পর্যটন ক্ষেত্র | Dholavira: A Historical Tourism Site

ধোলাভিরাঃ একটি ঐতিহাসিক পর্যটন ক্ষেত্র   গুজরাটের কচ্ছ উপকূলে খাদির বেট নামক এক উচ্চভূমিতে অবস্থিত ধোলাভিরায় হরপ্পা সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর কেন্দ্র আবিষ্কৃত হয়েছে। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দ থেকে দ্বিতীয় সহস্রাবদের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এখানে হরপীয় বসতি গড়ে উঠেছিল। উৎখননের ফলে এখানে দুর্গপ্রাচীর, জলাধার, জল নিকাশি ব্যবস্থা এবং শহরসুলভ রাস্তাঘাট, আবাসস্থল, সমাধিক্ষেত্র প্রভৃতির অবশেষ পাওয়া গেছে, যা নগর জীবনের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়। ২০২১ সালে UNESCO-এর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় ধোলাভিরার স্থান হয়েছে। এর ফলে ধোলাভিরার ঐতিহ্যগত গুরুত্ব এবং পর্যটন আকর্ষণ আন্তর্জাতিকভাবে বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রত্নতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক ও শিক্ষামূলক পর্যটনের পাশাপাশি সাধারণ পর্যটকদের কাছেও ধোলাবিরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে (Tourist Gaze) পরিণত হয়েছে।  ১৯৬৭ ৬৮ সালে ধোলাভিরার প্রত্নতাত্ত্বিক সম্ভাবনাকে প্রথম চিহ্নিত করেন প্রত্নতত্ত্ববিদ জে. পি যোশী। এরপর আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)-র উদ্যোগে প্রত্নতাত্ত্বিক আর. এস...

আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০–১৯৩৪) | Civil Disobedience Movement (1930–1934)

  আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০–১৯৩৪) ১. পটভূমি ভারতের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে আইন অমান্য আন্দোলন (Civil Disobedience Movement) ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। ১৯২০-২২ সালের অসহযোগ আন্দোলনের পর কিছুদিন রাজনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিলেও ১৯২০-এর দশকের শেষভাগে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ১৯২৭ সালে সাইমন কমিশন ভারতে আগমন করলে তার বিরুদ্ধে সর্বত্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, কারণ কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য ছিল না। একই সময়ে নেহরু রিপোর্ট (১৯২৮), জিন্নাহর চৌদ্দ দফা এবং সাংবিধানিক প্রশ্নে মতপার্থক্য ভারতীয় রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বর মাসে লাহোর অধিবেশনে জওহরলাল নেহরুর সভাপতিত্বে কংগ্রেস “পূর্ণ স্বরাজ”-কে জাতীয় লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে। সিদ্ধান্ত হয় যে ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস পালন করা হবে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার ভারতের স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। ফলে গান্ধিজি আন্দোলনের পথ বেছে নেন। তিনি ভাইসরয় লর্ড আরউইনকে ১১ দফা দাবি সম্বলিত চিঠি পাঠান। দাবিগুলি উপেক্ষিত হলে তিনি আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২. লবণ সত্যা...

দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কালে ভারতে শ্রমিক আন্দোলন (১৯১৯-১৯৩৯) | Working Class Movement in India During the Inter-War Period (1919–1939)

দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কালে ভারতে শ্রমিক আন্দোলন ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কাল (১৯১৯-১৯৩৯) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর পরিবর্তন ঘটে। যুদ্ধকালীন মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিকদের কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। অন্যদিকে রুশ বিপ্লব (১৯১৭)-এর প্রভাব, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উত্থান ভারতীয় শ্রমিকদের সংগঠিত হতে অনুপ্রাণিত করে। ফলে এই সময়ে শ্রমিক আন্দোলন শুধু অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী বছরগুলিতে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নতুন জোয়ার এবং রুশ বিপ্লবের সাফল্য শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা জাগিয়ে তোলে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা নিজেদ...

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে ভারতের রাজনৈতিক সংগঠন | Political Organizations in India Before the Establishment of the Indian National Congress

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে ভারতের রাজনৈতিক সংগঠন উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশে আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠনের উত্থান ঘটে। ইংরেজি শিক্ষার প্রসার, পাশ্চাত্য উদারনৈতিক চিন্তাধারার প্রভাব, সংবাদপত্রের বিকাশ, রেল ও টেলিগ্রাফের সম্প্রসারণ এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নীতির ফলে শিক্ষিত ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। এই নতুন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি উপলব্ধি করতে শুরু করে যে বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন না করে সংগঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব। ফলে বিভিন্ন প্রদেশে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে, যেগুলি পরবর্তীকালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। ভারতে আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠনের ইতিহাস শুরু হয় জমিদার সভা (Landholders’ Society) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ১৮৩৭ সালে রাজা রাধাকান্ত দেবের নেতৃত্বে গঠিত এই সংগঠন বাংলার, বিহারের ও উড়িষ্যার জমিদারদের স্বার্থরক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও এটি সাধারণ মানুষের সংগঠন ছিল না, তবুও প্রথমবারের মতো ভারতীয়রা সাংবিধানিক উপায়ে সরকারের নিকট নিজেদের দাবি-দাও...