সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে শান্তিনিকেতন | Santiniketan as a Historical Tourism Centre

ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে শান্তিনিকেতন   শান্তিনিকেতন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুরে অবস্থিত । কলকাতা থেকে এর দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ১৬০ থেকে ২১২ কিমি । এবং ট্রেন পথে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার । এখানে   মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর নির্মিত বাড়িটির নাম ছিল শান্তিনিকেতন। পরবর্তীকালে এই বাড়ির নামে পুরো জায়গাটার নাম হয় যায় শান্তিনিকেতন । দেবেন্দ্রনাথের পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময় শান্তিনিকেতনের বিস্তার ঘটে। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও গড়ে ওঠে । বর্তমানে শান্তিনিকেতন বিশ শতকের জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন, সাংস্কৃতিক উৎকর্ষতা, ব্রাহ্ম আন্দোলন,   এবং রবীন্দ্রনাথ সহ বিভিন্ন গুণীজনের স্মৃতি বিজড়িত একটি স্থান । শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে UNESCO ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের মর্যাদা দিয়েছেন । হেরিটেজ ট্যুরিজম ও ঐতিহাসিক পর্যটনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে শান্তিনিকেতন বাংলার প্রথম সারিতে অবস্থান করে ।   ১৮৬১-১৮৬৩ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বীরভূম জেলার বোলপুরের  রায়পুর অঞ্চলে  ভূবনডাঙ্গার কাছে জমিদার ভুবন সিংহ কাছ থেকে ২০ একর জমি এবং দুটি ছাতিম...

কোণার্ক সূর্য মন্দির | Konark Sun Temple

কোণার্ক সূর্য মন্দির | Konark Sun Temple  ভারতের পূর্ব দিকে উড়িষ্যায় বঙ্গোপসাগরের উপকূলে পুরী থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে এবং ভুবনেশ্বর থেকে ৬৫ কি মি দক্ষিণ পূর্বে চন্দ্রভাগা বীচের কাছে অবস্থিত কোণার্ক সূর্য মন্দির ভারতের একটি অন্যতম Built Heritage এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থল। কোণার্ক সূর্য মন্দির প্যাগোডা স্টাইলে নির্মিত রথের আকৃতির একটি মন্দির। তেরো শতকে উড়িষ্যার গঙ্গা রাজাদের দ্বারা নির্মিত এই মন্দির কলিঙ্গ স্থাপত্য রীতির চুড়ান্ত নিদর্শন। এই মন্দির বিদেশী বণিক ও নাবিকদের কাছে ব্ল্যাক প্যাগোডা নামেও পরিচিত। এই মন্দিরের নির্মাণ শৈলি ও মন্দিরগাত্রে রিলিফ ভাস্কর্য একে বিশেষজ্ঞ ও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পুরীতে ভ্রমণকারী প্রায় সমস্ত রকমের পর্যটকদের ভ্রমনসূচিতে কোণার্ক সূর্য মন্দির অবশ্যই যুক্ত থাকে।  কোণার্ক কথাটি ভাঙলে হয় কোণ + অর্ক । কোণ বলতে সম্ভবত 'কোন' বা 'কর্নার' বোঝায় এবং সূর্যদেবের আরেক নাম অর্ক । অর্থাৎ, অর্থ দাঁড়ায় সূর্যের বিভিন্ন কোনের অবস্থান। খুব সম্ভবত  মন্দিরটি সূর্যের বিভিন্ন অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে, তাই এমন নামকরণ।...

ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং ঐতিহাসিক পর্যটনস্থল হিসেবে ইলোরা গুহার গুরুত্ব | The Importance of the Ellora Caves as a Heritage Site and Historical Tourism Destination

ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং ঐতিহাসিক পর্যটন স্থল হিসেবে ইলোরা গুহার গুরুত্ব মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ শহরের (পরিবর্তিত নাম  ছত্রপতি সাম্ভাজিনগর ) প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে চালিসগাঁও যাওয়ার পথে অবস্থিত ইলোরা গুহা ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যবাহী স্থান। এর স্থানীয় নাম  ভেরুল লেণি । ইলোরায় প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যাসল্ট পাথরের পাহাড় খাড়াভাবে কেটে পাশাপাশি ৩৪টি মঠ ও মন্দির নির্মিত হয়েছে। সম্ভবত স্থপতিরা পাথরের প্রাকৃতিক  স্তর ও খাঁজগুলিকে কাজে লাগিয়ে খননকার্য সহজ করেছিলেন। এই গুহাগুলোর নির্মাণ আনুমানিক ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছিল।  ইলোরার বিশেষত্ব শুধু এর প্রাচীনত্বে নয়, একই স্থানে বৌদ্ধ, ব্রাহ্মণ্য এবং জৈন ধর্মের মঠ ও উপাসনালয় পাশাপাশি অবস্থান করছে। ইলোরা প্রাচীন ভারতের শিল্প, স্থাপত্য, ধর্মীয় সহাবস্থান, প্রযুক্তি ও সামাজিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। UNESCO-র ভাষায়, এটি একদিকে অনন্য শিল্পসৃষ্টি ও অসাধারণ প্রযুক্তিগত কীর্তি, অন্যদিকে প্রাচীন ভারতের ধর্মীয় সহনশীলতার প্রতীক। প্রত্নতাত্বিক প্রমানের ভিত্তিতে ইলোরার ন...

ঐতিহাসিক পর্যটনস্থল হিসাবে অজন্তা গুহা | Ajanta Caves as a Historical Tourist Destination

 অজন্তা গুহা  মহারাষ্ট্রের জালগাঁও শহর থেকে ৫৯ কিলোমিটার দূরে, ঔরঙ্গাবাদ থেকে ১০৭ কিলোমিটার উত্তরে ওয়াঘোরা নদীর তীরে, পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় পূর্বঢালে অজন্তা পাহাড়ে অবস্থিত ভারতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান ও প্রত্নক্ষেত্র  তথা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হল অজন্তার গুহামন্দির। ঘোড়ার খুরের মতো বাঁকানো অজন্তা পাহাড়ের গায়ে পাথর কেটে এই গুহাগুলি তৈরি করা হয়েছে। এখানে মোট ৩০টি বৌদ্ধ গুহা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু গুহার নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়েছিল এবং কিছু অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছে।  অজন্তা প্রাচীন ভারতের সমাজ, ধর্ম, স্থাপত্য, পোশাক, অলংকার, সামাজিক রীতিনীতি এবং রাজনৈতিক জীবনের নানা তথ্য জানতে সাহায্য করে।  অজন্তার শৈল্পিক সৌন্দর্য, ধর্মীয় গুরুত্ব এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিকে নজর রেখে   ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে অজন্তা গুহাকে UNESCO-র World Heritage Site-এর  স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে এটি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকেন্দ্র । ১৮১৯ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মাদ্রাজ রেজিমেন্টের এক সেনা কর্মকর্তা জন স্মিথ শিকারে বেরিয়ে এই গুহাগুলি আবিষ্কার ...

ভিমবেটকার গুহাবাস | Rock Shelter of Bhimbetka

ভীমবেটকার গুহাবাস | Rock Shelter of Bhimbetka মধ্যপ্রদেশের ভোপাল শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে হোসাঙ্গাবাদের পথে এবং ওবেইদুল্লাগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ৯ কিমি দূরে বিন্ধ্য পর্বতের দক্ষিণ ঢালে রাইসেন জেলায় অবস্থিত ভীমবেটকার প্রত্নক্ষেত্র। ভীমবেটকায় প্রাগৈতিহাসিক যুগের আদিম মানুষের গুহাবাসের প্রমান পাওয়া গেছে, যার সূচনা পুরাপ্রস্তর যুগের অ্যাসুলিয় পর্বে। ভীমবেটকায় পুরাপ্রস্তর যুগ, মধ্যপ্রস্তর যুগ এমনকি তার পরেও ধারাবাহিক গুহাবাসের প্রমান রয়েছে। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৩ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রত্নস্থলটিতে ৭০০-রও বেশি গুহাবাস রয়েছে, যার মধ্যে ৪০০-রও বেশি গুহাবাসে প্রস্তরযুগীয় গুহাচিত্র পাওয়া গেছে। ভীমবেটকার প্রত্নক্ষেত্র কেবল  প্রাচীনতম মানববসতির নিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এখানকার গুহাচিত্র, প্রস্তরায়ুধ এবং বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাগৈতিহাসিক মানুষের জীবনযাত্রা, শিল্পচেতনা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ধারাবাহিকতার পরিচায়ক। তাই ভীমবেটকা একই সাথে  প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, ভারতের প্রাক-ইতিহাস এবং ঐতিহাসিক পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। ভীমবে...