সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

নারীর উন্নতি সাধনে ব্রিটিশ সরকার।

  নারীর উন্নতি সাধনের ব্রিটিশ সরকার কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।  উনিশ শতকে ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিস্তার এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের সমান্তরালে ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় এক গভীর রূপান্তর ঘটে, যা তৎকালীন সমাজ ও নারীদের অবস্থানের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। হিন্দু ও মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস, কঠোর পুরুষতান্ত্রিক অনুশাসন এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে নারীরা সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, চিরবৈধব্য, বহুবিবাহ এবং পর্দাপ্রথার মতো চরম অমানবিক নিপীড়নের শিকার হতেন। এই প্রেক্ষাপটে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কেশবচন্দ্র সেন এবং জ্যোতিরাও ফুলের মতো ভারতীয় অগ্রণী সমাজসংস্কারকদের দীর্ঘ আন্দোলন ও দাবির মুখে ব্রিটিশ সরকার সামাজিক সংস্কার ও নারীদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়নে বাধ্য হয়। তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য-ঔপনিবেশিক শাসকেরা ভারতীয় নারীর দুরবস্থার সমালোচনা করলেও তাদের উদ্যোগের মধ্যে নিছক মানবিক উদ্বেগই কাজ করেনি। ভারতীয় সমাজকে 'পশ্চাৎপদ' এবং ব্রিটিশ সমাজকে 'উন্নত' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ শাসনের নৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠার ...

উনিশ শতকে নারী শিক্ষা

  উনিশ   শতকে নারী শিক্ষার বিস্তার সম্পর্কে আলোচনা কর।   লিঙ্গ বা সৌন্দর্য যার উপর আমাদের কোন হাত নেই, সে নিয়ে মানুষের ভেদাভেদ চিরকালের। মূলত প্রথম থেকেই নারীদের প্রতি সমাজের একটি ক্ষীণ দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যায় আর এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী নারীকে একেবারে সমাজের নিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়। প্রাচীন যুগে নারীদের শিক্ষার কিছু সুযোগ থাকলেও মধ্যযুগের শেষভাগ এবং বিশেষত উপনিবেশিক পূর্ববর্তী সময়ে সেই সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ, সাহিত্য, ধর্মীয় গ্রন্থ আলোচনা করলে দেখা যায় উপনিবেশিক শাসনের সূচনাকালে অধিকাংশ ভারতীয় নারী প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, ধর্মীয় কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, অন্দরমহল কেন্দ্রিক জীবন যাপন এবং লিঙ্গভিত্তিক শ্রম বিভাজন নারীদের শিক্ষা প্রদানে অন্তরায় ছিল। বিশেষত হিন্দু সমাজে এই বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে মেয়েরা বেশি পড়াশোনা করলে স্বামীর অকাল মৃত্যু ঘটতে পারে বা সংসারের অমঙ্গল হতে পারে। এই ধরনের কুসংস্কারকে কেন্দ্র করে কন্যাশিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করা হতো। ব্রিটিশরা ভারত শাসন প্রতিষ্ঠা করার পর ভারত...

বিপ্লবী আন্দোলনে নারী

  সমগ্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা আলোচনা কর।  বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন কে কেন্দ্র করে যে স্বদেশী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার অন্যতম দিক ছিল বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদ। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্যগুলি ছিল শস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটানো। প্রথমদিকে বিপ্লবী আন্দোলনে পুরুষদের প্রাধান্য থাকলেও পরবর্তীকালে বাংলার নারী রাও বিপ্লবী আন্দোলনে যোগদান করে। তারা অন্তঃপুরের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বিপ্লবীদের সহযোগিতা, গোপন সংঘ পরিচালনা করা, অস্ত্র ও অর্থ সংগ্রহ করা এবং বিভিন্ন বিপ্লবী কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।  স্বদেশী আন্দোলনের অন্যতম নেতা কৃষ্ণ কুমার মিত্র ও তার সুপ্রভাত পত্রিকার মাধ্যমে দেশপ্রেমের আদর্শ প্রচার করলে তা গৃহস্থের মধ্যবিত্ত নারীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং এই আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত মীরা দাশগুপ্ত, সরলা দেবী চৌধুরানী, কুমুদিনী মিত্র প্রমুখ মধ্যবিত্ত নারীরা বিপ্লবী আন্দোলনে যোগদান করতে শুরু করে।  সরলা দেবী চৌধুরানী প্রতিষ্ঠিত লক্ষীর ভান্ডার ও বীরাঙ্গনা ব্র...

গান্ধীবাদী জাতীয় আন্দোলনে নারী

 গান্ধীবাদী জাতীয় আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা আলোচনা কর।  ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ বলেছেন যে রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের ময়দানে নারীদের নিয়ে আসা ছিল গান্ধীজীর নারী জাগরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান। ইংরেজদের বেড়ি ছিঁড়ে বের হতে তিনি পুরুষদের পাশাপাশি চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ নারীদের ও মুক্ত আকাশের নিচে রাজপথে নামিয়ে এনেছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর সমাজ সংস্কার আন্দোলন এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে স্বদেশী আন্দোলনের মাধ্যমে নারীদের জন পরিসরে প্রবেশের যে ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল, তা 1920 এর দশকে গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ, আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সর্বভারতীয় রূপ লাভ করেছিল।  দক্ষিণ আফ্রিকায় সত্যাগ্রহ পরিচালনার সময় গান্ধীজী নারীদের আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নৈতিক মুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করেন এবং এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ভারতের নারীদের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেন। তার মতে অহিংসা সংগ্রামের জন্য ধৈর্য, সহানুভূতি, আত্মত্যাগ, আত্ম সংযম এর মত গুণাবলী গুলি বিশেষভাবে প্রয়োজন আর ভারতীয় নারীরা ঐতিহাসিকভাবে এই গুণাবলীর অধিকারী। এর...

ঊনবিংশ শতাব্দীর সমাজে নারী

  ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সমাজে নারীর অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা কর।  ঊনবিংশ শতকের ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থান ছিল সামাজিক বৈষম্য, পিতৃতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবর্তনশীলতার এক জটিল প্রতিচ্ছবি। তৎকালীন সমাজে নারীর পরিচয় প্রধানত কন্যা, স্ত্রী ও মাতা হিসেবে পিনির্ধারিত হতো এবং তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতার তুলনায় পারিবারিক কর্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, বিধবাদের দুর্দশা, নারীশিক্ষার অভাব ও সম্পত্তির অধিকারে সীমাবদ্ধতা নারীর জীবনকে নানা ক্ষেত্রে প্রভাবিত করেছিল। তবে ভারতীয় নারীদের অবস্থান সর্বত্র একরকম ছিল না; জাতি, ধর্ম, শ্রেণি, আঞ্চলিক বৈচিত্র্য ও অর্থনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে তাঁদের জীবনযাত্রায় পার্থক্য দেখা যেত। এই সময়ে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার, সমাজসংস্কার আন্দোলন এবং নারীশিক্ষার বিকাশের ফলে নারীর অবস্থার পরিবর্তনের পথও ক্রমশ উন্মুক্ত হতে থাকে। তাই ঊনবিংশ শতকের ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থান বিশ্লেষণ করতে হলে একদিকে যেমন সামাজিক বৈষম্য ও প্রচলিত বিধিনিষেধের আলোচনা প্রয়োজন, তেমনই অন্যদিকে নারীজীবনে পরিবর্তনের ধারাটিও বিবেচনা করা জরুরি। ঊনবিংশ শতকে বিশেষত উ...