সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

GE1 লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হিস্ট্রি ও ইতিহাসের পার্থক্য | Difference between 'History' and 'Itihas'

হিস্ট্রি ও ইতিহাসের পার্থক্য সাধারণভাবে আমরা হিস্ট্রি ও ইতিহাসকে সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। তবে ইতিহাস ও হিস্ট্রির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।  ইতি , হ , আস এই তিনটি পদের সমন্বয়ে ইতিহাস শব্দটি গঠিত। এর আক্ষরিক অর্থ ' এই রূপ ছিল ' । ইতিহাস শব্দটির আভিধানিক অর্থ অতীতের সংগঠিত বাস্তব কাহিনী , প্রাচীন কাহিনী বা পুরাবৃত্ত। History শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ 'Histor' শব্দ থেকে যার অর্থ জ্ঞান , এবং গ্রিক শব্দ হিস্টোরিয়া থেকে যার অর্থ সযত্নে অনুসন্ধান করা। ব্যুৎপত্তিগত অর্থের দিক দিয়ে হিস্ট্রি শব্দের তাৎপর্য ব্যাপকতর। ইতিহাস বলতে যে কোনো পুরাকাহিনীকে বোঝানো হয় , কিন্তু হিস্ট্রি হল অতীতের বিষয়ে অনুসন্ধানলব্ধ জ্ঞান।   আধুনিক জ্ঞান চর্চায় যাকে হিস্ট্রি বলে অর্থাৎ অতীতের তথ্যনিষ্ঠ  কালানুক্রমিক পুনর্নির্মাণ -- প্রাচীন ভারতের তেমন কিছু ছিল কি ? একাদশ শতকের আরব পর্যটক আলবিরুনী ভারতে ' ইতিহাস চেতনার অভাব ' লক্ষ্য করেছেন। পরবর্তীকালে ঔপনিবেশিক যুগে প্রাচীন ভারতের বস্তু জগৎ সম্পর্কে উদাসীনতাকে ইতিহাস চেতনার অভাব হিসেবে তুলে ধরা হয়। প্রাচীন ইউরোপে রচিত...

হরপ্পার নগর পরিকল্পনা | Town Planning of Harappan Civilization

 হরপ্পার নগর পরিকল্পনা ১৯২২ সালে দয়ারাম সাহানী ও রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় যথাক্রমে দুই নগর হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পান। এর ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে তাম্রপ্রস্তর যুগে এক সু প্রাচীন  সভ্যতার অস্তিত্বের ব্যাপারে আর কোনো সন্দেহ থাকল না। এই সভ্যতার কালসীমা আনুমানিক ২৬০০ খ্রীঃ পূঃ থেকে ১৭৫০ খ্রীঃ পূঃ পর্যন্ত। এই সভ্যতার অধিকাংশ কেন্দ্র সিন্ধু নদের তীরে আবিস্কৃত হয়েছিল। প্রথম দিকে তাই এই সভ্যতা সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে ভারত ও পাকিস্তানের এক বিশাল এলাকা জুড়ে এই সভ্যতার ভোগলিক প্রসার আবিস্কৃত হয়েছে। প্রত্নতত্ত্বের নিয়মে তাই প্রথম আবিস্কৃত প্রত্নস্থল হরপ্পার নামে এই সভ্যতার নামকরণ হল হরপ্পা সভ্যতা।  হরপ্পা সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ঠ্য এর নগরকেন্দ্রীকতা। প্রায় ৫০ হাজার (মতান্তরে ৭০ হাজার) বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সভ্যতায় এতাবৎ প্রায় ১৪০০ টি নগর কেন্দ্র আবিস্কৃত হয়েছে। এটাই ভারতীয় উপমাহাদেশে প্রথম নগরায়ন। আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে প্রতিতি নগরের পরিকল্পনা প্রায় একই রকম। হরপ্পা ও মহেঞ্জদাড়ো এই দুটি নগর নিঃসন্দেহে দুই বৃহত্তম নগর। এদের আয়তন যথা...

প্রতিবাদী ধর্ম হিসাবে আজীবিক ধর্ম | Ajivika as Protestant Religion

আজীবিক ধর্ম খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে উত্তর ভারতে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের বিরুদ্ধে বহু প্রতিবাদী ধর্মমতের উদ্ভব হয়। এগুলির সংখ্যা ছিল আনুমানিক ষাট বা তার বেশি। এদের মধ্যে আজীবিক ধর্ম বেশি জনপ্রিয় ছিল। অশোকের শিলালিপি থেকে এ কথা জানা যায়। গুপ্ত যুগেও আজীবিকদের গুহা বা গুম্ফার কথা জানা যায়। আজীবিক ধর্মের প্রবক্তা ছিলেন গোশাল মঙ্খলিপুত্ত। তিনি জৈন ধর্মের প্রবর্তক বর্তমান মহাবীরের সমসাময়িক ছিলেন। গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুর অল্পকাল আগে সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ৪৮৪ অব্দে তার মৃত্যু হয়েছিল। অবশ্য উপকথা অনুসারে তিনি আরও আগের লোক ছিলেন বলে কেউ কেউ মনে করেন। আজিবিকদের ধর্মীয় কোন গ্রন্থ পাওয়া যায়নি। জৈন বা বৌদ্ধ রচনায় আজিবিকদের সম্পর্কে যে উল্লেখ আছে তা থেকে আমরা তাদের সম্পর্কে জানতে পারি। আজীবিক ধর্মবিশ্বাসে নাস্তিক্যবাদের প্রভাব বিশেষভাবে দেখা যায়। যাগযজ্ঞ বা দেবদেবীর পূজার কোনো নিয়ম তারা মানতেন না। আজীবিকরা বিশ্বাস করতো যে মানুষের কর্ম অখন্ডনীয়। এর হাত থেকে তার পরিত্রাণ নেই। নিয়তি মানুষের ভবিষ্যৎকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। মানুষ বহু জন্ম সৎ ভাবে কাটাতে পারলে তবে নিয়তি বা কর্মফলের হাত থেকে নিস্তার পেতে প...

অশোকের ধম্ম | Dhamma of Ashoka

অশোকের ধম্মের প্রকৃতি ধম্মনীতি ও বৌদ্ধ ধর্ম কি এক? সুবৃহৎ মৌর্য সাম্রাজ্যের সংহতি রক্ষার জন্য একটি ভাবাদর্শের একান্ত প্রয়োজন ছিল। সম্রাট অশোকই প্রথম সেই পদক্ষেপ নিলেন ধম্মনীতি গ্রহণ করে। অশোকের অনুশাসন গুলির মুখ্য উপজীব্য হল ধম্ম বা ধর্ম। লিপিগুলি ধম্মলিপি নামেও পরিচিত। এই ধম্ম বা ধর্মের প্রকৃতি কি, ধম্ম ও বৌদ্ধধর্ম এক কি না তা নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক বিদ্যমান। একদিকে রাধাগোবিন্দ বসাক মনে করেন ধম্ম এবং বৌদ্ধধর্ম এক। অন্যদিকে হেমচন্দ্র রায়চৌধুরী, নীলকন্ঠ শাস্ত্রী এবং রোমিলা থাপার মনে করেন ধম্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম এক নয়;ধম্ম হল সাধারন নীতিবাচক উপদেশাবলী, সকল ধর্মেই উপস্থিত থাকে। ধম্ম এবং বৌদ্ধ ধর্ম এক বলে যারা মনে করেন তাদের বক্তব্য হল কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের হৃদয়ে যে অনুতাপের সৃষ্টি করে তার ফলস্বরূপ তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন, হিংসাশ্রয়ী যুদ্ধের নীতি চিরতরে পরিহার করেন এবং শান্তিকামী নীতি অবলম্বন করে শাসন চালাতে থাকেন। অর্থাৎ কলিঙ্গ যুদ্ধের পরে অশোক একজন নিষ্ঠাবান বৌদ্ধ হিসাবে বৌদ্ধ রীতিনীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ শাসন করতে থাকেন। আরও মনে করা হয় যে তিনি বৌদ্ধ ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্...

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় ধর্মীয় সাহিত্যের অবদান | Ancient Indian Religious Texts as Historical Sources

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় ধর্মীয় সাহিত্যের অবদান প্রাচীন ভারতে প্রাচীন গ্রিসের মত হেরোডোটাস বা থুকিডিডিস ছিলেন না। প্রাচীন ভারতে কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থ রচিত হয়নি। বেশিরভাগই রচনা ছিল সাহিত্য। সাহিত্য গুলির মধ্যে আবার বেশির ভাগই ধর্মককেন্দ্রীক। ধর্মীয় সাহিত্যসম্ভার মূলত ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রচিত হলেও এগুলি থেকে ইতিহাসের বহু তথ্য সংগ্রহ করা যায়।  প্রাচীন ভারতের প্রধান ধর্মীয় সাহিত্য হল বৈদিক সাহিত্য। বেদ চারটি: ঋক, সাম, যজু ও অথর্ব। প্রতিটি বেদের আবার সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ। এই নিয়ে মোট বৈদিক সাহিত্য সম্ভার। ঋকবেদের রচনাকাল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব 1500 থেকে খ্রিস্টপূর্ব 1000 অব্দ পর্যন্ত। ঋগ্বেদ থেকে এই পর্বের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় জীবনযাত্রার পরিচয় পাওয়া যায়। এই পর্বকে ঋক বৈদিক যুগ বলা হয়। পরবর্তী বেদগুলি রচিত হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব 1000 অব্দ থেকে 500 খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে। এই সময়কালকে পরবর্তী বৈদিক যুগ বলা হয়। পরবর্তী বৈদিক যুগের ইতিহাস চর্চায় পরবর্তী বৈদিক সাহিত্যগুলি অনুরূপভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। বৈদিক সাহিত্যের পরেই উল্লেখ কর...

কলিঙ্গরাজ খারবেল | Kharavela of Kalinga

 কলিঙ্গরাজ খারবেল মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে কলিঙ্গ রাজ্য ছিল অশোকের নজরে একটি অবিজিত এলাকা। মৌর্যদের পতনের পর কাল ক্রমে কলিঙ্গে ক্ষমতাশালী রাজবংশের প্রতিষ্ঠিত হয়। এই রাজবংশ ছিল মহামেঘবান তথা চেদি বংশ। চেদি ছিল খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের অন্যতম মহাজনপদ। বর্তমান বুন্দেলখন্ড এলাকায় চেদি মহাজনপদের অস্তিত্ব ছিল। পরে কোন এক সময় এরা উড়িষ্যার কলিঙ্গে চলে আসে। কলিঙ্গে চেদি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মহামেঘবান এবং এই বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক হলেন খারবেল। খারবেল সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য আমরা পেয়ে থাকি প্রাকৃত ভাষায় রচিত ভুবনেশ্বরের নিকটস্থ হাতিগুম্ফা প্রশস্তি থেকে। খারবেল এর পিতা ছিলেন মহারাজবক্রদেব। খারবেল ছিলেন এই বংশের তৃতীয় শাসক। তবে মহামেঘবানের সাথে তার সম্পর্ক কি ছিল তা সঠিক জানা যায় না। খারবেলের রাজত্বকাল নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। খারবেল তার পঞ্চম রাজ্যবর্ষে তি বস শত পূর্বে নন্দ রাজা কর্তৃক নির্মিত একটি সেচ খাল সংস্কার করেছিলেন। এই তি বস শত কথাটিকে কাশি প্রসাদ জাসওয়াল 103 বছর অর্থে গ্রহণ করে খারবেল এর শাসনকাল চিহ্নিত করেছেন 223 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে। কিন্তু অধিক...

পুষ্যমিত্র শুঙ্গের রাজত্বকাল

পুষ্যমিত্র শুঙ্গের রাজত্বকাল মৌর্য পরবর্তী মগধ শাসকরা ছিলেন শুঙ্গ বংশীয়। শুঙ্গ রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পুষ্যমিত্র শুঙ্গ। মগধে মৌর্যদের শাসন 137 বছর স্থায়ী হয়েছিল। 232 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে অশোকের মৃত্যুর পর মৌর্য সাম্রাজ্য অবক্ষয় দেখা দিয়েছিল। মৌর্য সাম্রাজ্যের অসংহাতির সুযোগে মৌর্যদেরই সেনাধ্যক্ষ পুষ্যমিত্র শুঙ্গ শেষ মৌর্য শাসক বৃহদ্রথকে আনুমানিক 187 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে সিংহাসনচ্যুত ও হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। পুষ্যমিত্র সঙ্গের শাসনকাল 36 বছর স্থায়ী হয়েছিল। তবে তার রাজ্যসীমা মৌর্য শাসক দের মত অত বিস্তৃত ছিল না। জানা যায় যে দক্ষিনে নর্মদা নদী পর্যন্ত তার রাজ্য বিস্তৃত ছিল। এদিকে অযোধ্যা বিদিশা এবং পাটলিপুত্র এলাকায় তার কর্তৃত্ব ছিল। বৌদ্ধ গ্রন্থ দিব্যবদান এবং লামা তারানাথ এর রচনা থেকে জানা যায়, পশ্চিম ভারতে জলন্ধর এবং শাকল বা শিয়ালকোট তার রাজ্যভুক্ত ছিল। তবে এই তথ্য ঐতিহাসিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। পুষ্যমিত্র এর রাজত্বকালে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো দাক্ষিণাত্যে  বিদর্ভ বা বেরার রাজ্যের সঙ্গে সংঘাত। বিদর্ভ রাজ্যের সাথে মৌর্য শাসক দের আত্মীয়তা ছিল। তাই স্বাভাবিক কা...

মৌর্যত্তর ভারতের কৃষি ও কারিগরি অর্থনীতি

  মৌর্যত্তর ভারতের কৃষি অর্থনীতি মৌর্য পরবর্তী ভারতবর্ষের ইতিহাস অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মৌর্যদের পতনের পর উপমহাদেশে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সূচনা হয়। মৌর্যদের মত অত বড় সাম্রাজ্য আর কেউ স্থাপন করতে পারল না। উত্তর ভারতে শুঙ্গ, কান্ব, শক, পহ্লব, কুষান এবং দক্ষিণ ভারতে সাতবাহন, ইক্ষাকু প্রভৃতি রাজবংশ বিভিন্ন সময় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছিল। এদের মধ্যে কুষান এবং সাতবাহনদের শাসন ছিল অন্যদের তুলনায় আকারে এবং প্রকারে বৃহত্তর। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েন অর্থনৈতিক জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে নি। বরং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব হ্রাস পাওয়ার ফলে অর্থনৈতিক জীবনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হতে থাকে, যা অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে।   উত্তর ভারতে কৃষিই ছিল অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। আলোচ্য পর্বে কৃষি অর্থনীতির সুদৃঢ় ভিত্তি দক্ষিণ ভারতেও প্রসারিত হল। খাদ্যশস্যের মধ্যে অন্যতম ছিল ধান, গম ও যব। শালিধান রাজকীয় আহারের জন্য উপযুক্ত ছিল। অন্যদিকে অপরান্ত ও কুমুদভন্ডিকা ছিল দাস ও ভৃত্যদের জন্য। প্লিনির রচনা থেকে জানা যায় সে যুগে আখ ও তুলোর চাষ হত। দাক্ষিণাত্যের কালো মাটি তুলা চাষের জন্য...

দক্ষিণাত্যে শক-সাতবাহন দ্বন্দ্ব | Saka-Satabahana Rivalary

দাক্ষিণাত্যে শক-সাতবাহন দ্বন্দ্ব ভারতবর্ষের বাণিজ্য সমৃদ্ধ পশ্চিম উপকূল এবং খনিজ সমৃদ্ধ মালবকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ভারতে একাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ প্রাচীনকাল থেকে ঘটে এসেছে। এই সংঘর্ষের প্রথম উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হলো শক-সাতবাহন দ্বন্দ্ব। শক শাসকেরা ছিল বিদেশি। গ্রীকদের পর এরা ভারতে এসেছিল। ভারত ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজত্বকারী শকদের চারটি শাখা ছিল। একটি শাখা আফগানিস্তানের রাজত্ব করত, দ্বিতীয় শাখা পাঞ্জাবে, তৃতীয় শাখা মথুরায়, চতুর্থ শাখা পশ্চিম ভারতে। পশ্চিম ভারতের শক শাসন দীরঘস্থায়ী হয়েছিল। শক রাজাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন প্রথম রুদ্রদামন (১৩০-১৫০ খ্রীঃ)। দাক্ষিণাত্যে যারা প্রথম পরাক্রান্ত রাজশক্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল তারা হল সাতবাহন। সাতবাহন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সিমুক। পুরান-এ সাতবাহনদের অন্ধ্রভৃত্য বলা হয়েছে। তাই অনেকেই দাক্ষিণাত্যের পূর্বাংশকে সাতবাহনদের আদি বাসভূমি বলে মনে করেন। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে সাতবাহনদের উত্থান ঘটেছিল দাক্ষিণাত্যের পশ্চিম দিকে। এখানেই প্রতিষ্ঠান (পৈঠান) এলাকায় তাদের রাজধানী ছিল। গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী ছিলেন সাতবাহন বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ...

মৌর্যত্তর ভারতের কৃষি অর্থনীতি | Agriculture in Post Mauryan Period

মৌর্যত্তর ভারতের কৃষি অর্থনীতি মৌর্য পরবর্তী ভারতবর্ষের ইতিহাস অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মৌর্যদের পতনের পর উপমহাদেশে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সূচনা হয়। মৌর্যদের মত অত বড় সাম্রাজ্য আর কেউ স্থাপন করতে পারল না। উত্তর ভারতে শুঙ্গ, কান্ব, শক, পহ্লব, কুষান এবং দক্ষিণ ভারতে সাতবাহন, ইক্ষাকু প্রভৃতি রাজবংশ বিভিন্ন সময় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছিল। এদের মধ্যে কুষান এবং সাতবাহনদের শাসন ছিল অন্যদের তুলনায় আকারে এবং প্রকারে বৃহত্তর। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েন অর্থনৈতিক জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে নি। বরং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব হ্রাস পাওয়ার ফলে অর্থনৈতিক জীবনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হতে থাকে, যা অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। উত্তর ভারতে কৃষিই ছিল অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। আলোচ্য পর্বে কৃষি অর্থনীতির সুদৃঢ় ভিত্তি দক্ষিণ ভারতেও প্রসারিত হল। খাদ্যশস্যের মধ্যে অন্যতম ছিল ধান, গম ও যব। শালিধান রাজকীয় আহারের জন্য উপযুক্ত ছিল। অন্যদিকে অপরান্ত ও কুমুদভন্ডিকা ছিল দাস ও ভৃত্যদের জন্য। প্লিনির রচনা থেকে জানা যায় সে যুগে আখ ও তুলোর চাষ হত। দাক্ষিণাত্যের কালো মাটি তুলা চাষের জন্য উপযুক্ত ছিল।...

গৌতম পুত্র সাতকর্ণীর রাজনৈতিক অবদান | Gautamiputra Satakarni

গৌতম পুত্র সাতকর্ণীর রাজনৈতিক অবদান   দাক্ষিণাত্যে যারা প্রথম পরাক্রান্ত রাজশক্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল তারা হল সাতবাহন। সাতবাহন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সিমুক। পুরান-এ সাতবাহনদের অন্ধ্রভৃত্য বলা হয়েছে। তাই অনেকেই দাক্ষিণাত্যের পূর্বাংশকে সাতবাহনদের আদি বাসভূমি বলে মনে করেন। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে সাতবাহনদের উত্থান ঘটেছিল দাক্ষিণাত্যের পশ্চিম দিকে। নানাঘাট এবং নাসিকে তাদের প্রাচীনতম লেখগুলি পাওয়া গেছে। এখানেই প্রতিষ্ঠান (পৈঠান) এলাকায় তাদের রাজধানী ছিল। সাতবাহন রাজবংশের রাজনৈতিক বিস্তারের সূচনা হয়েছিল প্রথম সাতকর্ণীর সময়, যিনি খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকের দ্বিতীয়ার্ধ নাগাদ কলিঙ্গরাজ খারবেলের সমসাময়িক ছিলেন। তবে গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী ছিলেন সাতবাহন বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। প্রথম সাতকর্ণীর সময় সাতবাহনরা যখন তাদের রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করছিল সেই সময় পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ালো শক ক্ষত্রপ নহপান। নহপান সাতবাহন রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র নাসিক দখল করে নেয়। রোমিলা থাপার মনে করেন যে, আলোচ্য পর্বে পশ্চিম উপকূল একটি প্রতিযোগিতামূলক এলাকায় পরিণত হয়েছিল, যার পিছনে সক্রিয় ছিল ইন্দো রোমা...