সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

Cold War লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

The Nature of Cold War | ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রকৃতি

ঠান্ডা লড়াই কি আদর্শগত সংঘাত না রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতি হিসেবে ইউরোপের তথাকথিত শক্তিশালী দেশগুলি, যেমন- ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। এদের দুর্বলতার সুযোগে আপন প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃত্বে ইউরোপে দুটি পরস্পর বিরোধী শক্তি জোট গড়ে ওঠে। ফলে বিশ্বের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় এরা অবতীর্ণ হয়। তথাকথিত পরাশক্তিগুলি এখন এই দুই রাষ্ট্রের সাহায্যপ্রাপ্ত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, এই দুই রাষ্ট্রের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও হিটলারের আক্রমণ থেকে বিশ্বকে রক্ষা করার জন্য এরা একত্রে কাজ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পর্বে এদের মধ্যে মতাদর্শগত বিরোধ  মাথা ছাড়া দিয়ে ওঠে। তবে এই বিরোধ ছিল প্রভাব ও প্রতিপত্তি বিস্তারের প্রতিযোগিতা, সরাসরি সংঘর্ষ নয়। বিশ্ব ইতিহাসে আমেরিকা ও সোভিয়েতের মধ্যেকার এই সংঘর্ষ ঠান্ডা লড়াই নামে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিমের রাষ্ট্র গুলিকে একত্রিত করে একটি পশ্চিমী জোট গঠন করে। অন্যদিকে...

দ্বিমেরুতা কি? । What is Bi-polarity?

দ্বিমেরুতা দ্বিমেরুতা শব্দটি প্রথম প্রয়োগ করেন আর্নল্ড টয়েনবি। এরিক হবসবম মনে করেন দ্বিমেরুতা হল ঠান্ডা লড়াইয়ের রাজিনৈতিক পরিণতি, যা বিশ্বে দুটি পরস্পর বিরোধী শক্তিকেন্দ্রের জন্ম দিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ব্রিটেন ও ফ্রান্সের পরিবর্তে আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুটি বৃহৎ শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়। পুজিবাদের রক্ষক আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম ইউরোপের পুঁজিবাদী দেশগুলিকে নিয়ে একটি ঐক্যজোট গড়ে তোলে এবং বিশ্বে পুঁজিবাদ সম্প্রসারণ ও রক্ষার দায়িত্ব স্বেচ্ছায় গ্রহন করেন। এই উদ্দেশ্যেই একাধিক অর্থনৈতিক সহয়তা প্রকল্প ও সামরিক জোট গঠন করে। অন্যদিকে সমজতন্ত্রী ব্যবস্থার অভিভাবক সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপের কমিউনিষ্ট দেশগুলিকে নিয়ে জোট গঠন করে। এইভাবে আন্তর্জাতিক পরিসরে শক্তি ও মতাদর্শের নতুন মেরুকরণ ঘটেছিল। এই নতুন পরিস্থিতি দ্বিমেরুতা নামে পরিচিত।  দ্বিমেরুকৃত ব্যবস্থার প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে রাধারমণ চক্রবর্তী বলেছেন, এই মূল কাঠামোটি এমন যে দুটি অতিবৃহৎ শক্তিকে ঘিরে অন্যান্য রাষ্ট্র সমষ্টিবদ্ধ হতে থাকে। এইরকম অবস্থায় দুটি প্রধান শক্তি সর্বদা একে অপরের সঙ্গে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিত...

NATO

 NATO দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে এবং হিটলারকে পরাজিত করে সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়েছিল। অন্যদিকে, জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকির ওপরে পারমাণবিক বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র বোঝাতে চেয়েছিল যে, তারা সোভিয়েতের Red Army -র থেকেও শক্তিশালী। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধের বাতাবরণে 1949 সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সফল পারমাণবিক বিস্ফোরণ আমেরিকার একচেটিয়া পারমাণবিক আধিপত্যের অবসান ঘটায়। এই প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে 'সাম্যবাদী সম্প্রসারণ' প্রতিহত করতে এবং পুঁজিবাদের চরিত্র বজায় রাখতে 1949 সালে এপ্রিল মাসে আমেরিকা 12টি পশ্চিম ইউরোপীয় রাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে একটি সামরিক জোট গঠন করে। এই শক্তি জোট 'North Atlantic treaty organisation' (NATO) নামে পরিচিত।  NATO গঠনের উদ্যোগ দেখা গিয়েছিল 1948 সালে। ওই বছর মার্চ মাসে ব্রিটেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, লাক্সেম্বোর্গ এই পাঁচটি ইউরোপীয় রাষ্ট্র মিলে ব্রাসেলস -এ একটি যৌথ সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এর ...

মার্শাল পরিকল্পনা | Marshal Plan

মার্শাল পরিকল্পনা | Marshal Plan ট্রুম্যান নীতির পরিপূরক ও সম্প্রসারিত অর্থনৈতিক কর্মসূচি ছিল মার্শাল পরিকল্পনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিম ইউরোপের অর্থনৈতিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটেছিল। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে এমনকি ফ্রান্স ও ইতালিতেও কমিউনিস্টদের প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে গণতান্ত্রিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গভীর চিন্তা-ভাবনা শুরু করে। প্রথমে ডিন একিসন এবং পরে জর্জ মার্শাল ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এর মার্কিন সাহায্য প্রদানের পক্ষে জোর সওয়াল করেন। 1947 সালের 5 ই জুন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ মার্শাল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা এক বক্তৃতায় ইউরোপীয় অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এটিই সাধারণভাবে মার্শাল পরিকল্পনা নামে পরিচিত। মার্শাল পরিকল্পনা স্পষ্ট বলা হলো যে ক্ষুধা-দারিদ্র্য অর্থাভাব থেকে যুদ্ধোত্তর ইউরোপীয় দেশ গুলিকে রক্ষা করতে আমেরিকা উদারহস্তে অর্থনৈতিক সাহায্য দান করে যাবে। আরও বলা হল এই নীতি বা কর্মসূচি কোন দেশের বিরুদ্ধে নয়। অবশ্য প্রকাশ্যে না বলা হলেও এই পরিকল্পনার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যই ছ...

ট্রুম্যান নীতি | Truman Doctrine

ট্রুম্যান নীতি | Truman Doctrine 1947 এর 15 ই মার্চ ট্রুম্যান নীতি ঘোষিত হয়েছিল। এই নীতিতে বলা হয়েছিল বিশ্বের যে কোনো দেশ বা জাতি নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার প্রয়োজনে অথবা বিদেশি চাপ ও প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে নিজ নিজ রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও সংহতি অক্ষুন্ন রাখতে চাইলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পুরোমাত্রায় সাহায্য ও সহযোগিতা পাবে। এই বহিরাগত চাপ বলতে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শ ও তার সঞ্চালক সোভিয়েত রাশিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক তৎপরতার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেন আর্থিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। গ্রিস ও তুরস্ককে আর্থিক ও সামারিক ভাবে সহযোগিতা করা তার পক্ষে আর সম্ভব ছিল না। ব্রিটেন হাতগুটিয়ে নিলে পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন তার পূর্ব ইউরোপীয় বলয় গড়ে তোলার পর তুরস্কের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সচেষ্ট হয়। সাথে সাথে মস্কোর মদদপুষ্ট বামপন্থী গেরিলারা গ্রিসের দক্ষিণপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই পরিস্থিতিতে উক্ত দু'টি দেশে সোভিয়েত প্রভাব প্রতিরোধ করার জন্য গ্রিস ও তুরস্ককে আর্থিক সহায়তা প্রদান আমেরিকার পক্ষে অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। 1947 ...

কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট

কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট আমেরিকার ফ্লোরিডা উপকূল থেকে মাত্র 160 কিলোমিটার দূরত্বে ক্যারিবিয়ান উপসাগরের অন্যতম দ্বীপরাষ্ট্র হল কিউবা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে মার্কিন-সোভিয়েত স্নায়ু সংঘর্ষের ধারা চলে আসছিল 1962 সালে তা পারমাণবিক যুদ্ধ পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল মার্কিন মুলুকের একেবারে উঠানে কিউবাতে। কিউবা সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতায় মার্কিন মুলুকের দিকে তাক করে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যদিও আন্তর্জাতিক আলাপ-আলোচনার পর মার্কিন সোভিয়েত সমঝোতা হয়ে যায় এবং ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের অবসান ঘটে। তবে ঠান্ডা যুদ্ধের ইতিহাস কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট এক উল্লেখযোগ্য তাৎপর্যবাহী ঘটনা। পটভূমি কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে ল্যাটিন আমেরিকায় মার্কিন নীতি, মার্কিন সোভিয়েত সম্পর্কের গতিবিধি এবং কিউবার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি  বুঝতে হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বহু আগে থেকেই ল্যাটিন আমেরিকা এবং মধ্য আমেরিকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কায়েম ছিল পানামা খাল ক্যারিবিয়ান উপসাগর কার্যত আমেরিকার নিজস্ব হ্রদে পরিণত হয়েছিল। 1918 খ্রিস্টাব্দে স্...

ঠান্ডা যুদ্ধে সোভিয়েত পদক্ষেপ: কমিনফর্ম, মলোটভ প্ল্যান, কমেকন

ঠান্ডা যুদ্ধে সোভিয়েত পদক্ষেপ: কমিনফর্ম, মলোটভ প্ল্যান, কমেকন  কমিনফর্ম:  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ট্রুম্যান নীতি ও তার পরিপূরক মার্শাল পরিকল্পনা ঘোষণার মধ্য দিয়ে ঠান্ডা যুদ্ধে নিজের অবস্থান মজবুত করছিল সেই সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন একেবারে বসে ছিল না। সোভিয়েত ইউনিয়ন এর প্রথম জবাব ছিল Communist Information Bureau বা কমিনফর্ম গঠন।  1947 সালের সেপ্টেম্বর মাসে পোল্যান্ডের সাইলেশিয়াতে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ইউরোপের নয়টি রাষ্ট্রের কমিউনিস্ট দলগুলির একটি যৌথ সংগঠন গড়ে ওঠে। উইলফ্রিড ন্যাপ A History of War and Peace বলেছেন কমিনফর্ম এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব ইউরোপের কমিউনিস্ট শাসিত রাষ্ট্র গুলির মধ্যে সংহতি আনয়ন ও সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজনে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা। এর প্রধান রূপকার ছিলেন স্ট্যালিন ঘনিষ্ঠ রুশ নেতা ঝদানভ। পরবর্তীকালে কমিনফর্ম এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের কমিউনিস্ট দলগুলির কর্মসূচিতে সংহতি অসামঞ্জস্য আনার চেষ্টা করা হলো এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচার এর মাত্রা বাড়ানো হলো। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, 1948 সালে চেকোস্লোভাকিয়া কমিউন...

তৃতীয় বিশ্বের সংজ্ঞা, প্রকৃতি, তৃতীয় বিশ্বের উপর ঠাণ্ডাযুদ্ধের প্রভাব

তৃতীয় বিশ্বের সংজ্ঞা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রকোপ বেড়ে চলেছিল, সেই প্রেক্ষিতেই তৃতীয় বিশ্বের (Third World) অভ্যুদয় ঘটে ছিল। Third World শব্দবন্ধ প্রথম ব্যবহার করেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রাক্তন মহাসচিব ড্যাগ হ্যামার্সজোল্ড (Dag Hammerskjold)। তিনি এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার দরিদ্র ও অনুন্নত রাষ্ট্রগুলিকে বোঝাতেই তৃতীয় বিশ্ব শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। পিটার ক্যালভোকোরেসি অবশ্য তৃতীয় বিশ্ব বলতে মার্কিন এবং সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত দ্বিখন্ডিত বিশ্বের ধারণাকে যে সমস্ত দেশ নস্যাৎ করে দিয়েছিল তাদেরকেই বুঝিয়েছেন। সুতরাং তৃতীয় বিশ্বের সংজ্ঞা নির্ধারণ অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় বিশ্ব বলতে যে সমস্ত দেশগুলিকে বোঝায় সেগুলির বেশিরভাগই সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত। ডি-কলোনাইজেশন এর ফলস্বরূপ যে সমস্ত দেশ সাম্রাজ্যবাদী পরাধীনতা থেকে মুক্ত হয়েছিল তাদের একাধিক আর্থ-রাজনৈতিক-সমাজিক সমস্যা ছিল, যেমন দারিদ্র, অপুষ্টি, অশিক্ষা, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক পশ্চাদগামিতা, জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, নয়া-উপনিবেশবাদের প্রভাব, রাজনৈতিক...

NATO ব্যাতীত অন্যান্য মার্কিন সামরিক মোর্চা

 NATO ব্যাতীত অন্যান্য মার্কিন সামরিক মোর্চা  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক রাজনীতির চালিকাশক্তি ছিল ঠান্ডা লড়াই, যার একদিকে ছিল মার্কিন জোট এবং অন্যদিকে ছিল সোভিয়েত জোট। ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির অন্যতম অঙ্গ ছিল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সামরিক মোর্চা গঠন। আমেরিকার নেতৃত্বে একাধিক সামরিক জোট গড়ে উঠেছিল।  NATO ছিল প্রথম মোর্চা। এর পর একের পর এক যে সামরিক মোর্চাগুলি গড়ে উঠেছিল সেগুলি নিম্নরূপঃ SEATO সোভিয়েত রাশিয়া ও কমিউনিস্ট চীন যাতে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় তাদের প্রভাব বিস্তার করে সেখানে পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে না পারে সেজন্য আমেরিকা ১৯৫৪ সালের ৮ ই সেপ্টেম্বর South East Asian Treaty Organization বা SEATO গঠন করে। এর সদস্য ছিল ব্রিটেন, পঃ জার্মানি, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স ও অন্যান্য দঃ পূঃ এশীয় দেশসমূহ। বিশেষজ্ঞদের অভিমত SEATO ন্যাটোর মত আগ্রাসী ও জঙ্গী ছিল না।  ANZUS ১৯৫১ সালের ১ লা সেপ্টেম্বর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তার স্বার্থে আমেরিকা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সাথে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এটি Australia, New Zeela...