সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

CC1 লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

উপমহাদেশে নব্যপ্রস্তর যুগ | Neolithic Period in the Indian Subcontinent

উপমহাদেশে নব্যপ্রস্তর যুগ শুধু  ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস এই নয়, সমগ্র মানবজাতির ইতিহাসে নব্য প্রস্তর যুগ এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। উপমহাদেশে নব্য প্রস্তর যুগের সবচেয়ে ভালো নিদর্শন পাওয়া যাবে মেহেরগড়ে। মানব সভ্যতার এই স্তরে হাতিয়ার তৈরীর কৌশল উন্নততর হওয়ার পাশাপাশি সমাজে একাধিক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিল, যার দিকে নজর রেখে জি. চাইল্ড নব্য প্রস্তর যুগকে বিপ্লব বলে অভিহিত করেছেন। এই পর্বে মধ্য প্রস্তর যুগের ক্ষুদ্রাশ্মীয় আয়ুধের ব্যবহার অব্যহত ছিল, তবে তার বৈচিত্র্য ক্রমশ বৃদ্ধি পেল। নব প্রস্তর যুগের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো কৃষির উন্মেষ। এশিয়ার জেরিকোতে ৮ হাজার কিংবা ৭ হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রথম কৃষির প্রকাশ দেখা গিয়েছিল। উপমহাদেশেও এর রেশ দেখা গেল।  কৃষির অবিস্কারের ফলে মানুষ খাদ্য সংগ্রাহক থেকে হয়ে গেল খাদ্য উৎপাদক। এই ঘটনা মানুষের জীবনযাত্রায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনল। চাষের জন্য বীজ বোনা থেকে ফসল কাটা পর্যন্ত সমগ্র প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিনের ব্যাপার। তাই মানুষ এবার ক্রমশ স্থায়ী বসতি গড়ে তুলল। কৃষি উৎপাদন সঞ্চয় করে রাখা যায়। শিকার নির্ভর ও পশুপালন নির্ভর জীবনে সামাজিক...

ষোড়শ মহাজনপদ | Sixteen Mahajanapadas

ষোড়শ মহাজনপদ  খ্রীঃ পূঃ ষষ্ঠ ও পঞ্চম শতক নাগাদ উত্তর ভারতে ১৬ টি মহাজনপদের আবির্ভাব ঘটে। বৈদিক সাহিত্যে 'জন' শব্দের উল্লেখ রয়েছে। 'জন' বলতে বোঝায় একটি কৌম বোঝাত। 'জন' শব্দ থেকে এসেছে 'জনপদ'। 'জনপদ' কথার অর্থ জন যেখানে পা রেখেছে। অর্থাৎ 'জন'ক্রমশ বিস্তৃত হয়ে যে আকার ধারন করেছে তাকে বলা হয় 'জনপদ'। জনপদ কেবল ভৌগলিক সংজ্ঞা নয়, তা অবশ্যই জনবসতি অধ্যুষ্যিত হতে হবে। জনপদ রাষ্ট্রের অন্যতম উপাদান। অর্থাৎ জনপদ বলতে কোনো রাজশক্তির শাসনাধীন জনবসতিসম্পন্ন এলাকা বোঝাবে। জনপদের আকার যখন আরও বড় হয়েছে তখন তাকে বলা হয়েছে 'মহাজনপদ'। সমকালীন ভারতে এরকম ১৬ টি মহাজনপদের অস্থিত্বের কথা জানা যায়। বৌদ্ধ গ্রন্থ   অঙ্গুত্তরনিকায়   অনুসারে এই ষোলটি জনপদ নিম্নরূপ।   কাশীঃ বর্তমান উত্তর প্রদেশের বারানসী ও সন্নিহিত এলাকায় অবস্থিত ছিল। এর রাজধানী বারানসী। কোশলঃ উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌ, গোন্ডা, ফৈজাবাদ, বেহারাইচ এলাকায় নিয়ে অবস্থিত ছিল। এর রাজধানী ছিল শ্রাবস্তী। অঙ্গঃ বিহারের পূর্ব দিকে বর্তমানে ভাগলপুরের কাছে অবস্থিত ছিল। এর রাজধানী ছিল চম্পা।  মগধঃ দক্...

মগধের উত্থান | Rise of Magadha

 মগধের উত্থান  খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ট শতকে ভারতবর্ষে বিশেষ করে উত্তর ভারতে ১৬ টি বৃহৎ জনপদের উত্থান ঘটে এগুলিকে মহাজনপদ বলা হয়। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল কাশী , কোশল, বৎস ও অবন্তী। পূর্ব ভারতে বিহারের  দক্ষিণ দিকে অবস্থিত মগধ তখনও একটি গৌন জনপদ হিসাবে পরিচিত ছিল। মহাজনপদ গুলি পারস্পরিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল এবং মগধ এই দ্বন্দ্বে অন্যান্যদের পরাজিত করে এক বিরাট সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হিসাবে মগধের উত্থানের পিছনে ভোগলিক অনুকুল পরিবেশের পাশাপাশি হরযঙ্ক, শৈশুনাগ এবং নন্দ বংশের রাজাদের যোগ্য নেতৃত্ব উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল। নদী ও পাহাড় দিয়ে ঘেরা মগধ ছিল প্রাকৃতিক ভাবে নিরাপদ একটি জায়গা। এর রাজধানী রাজগৃহ ছিল পাঁচটি পাহাড় এবং একটি প্রস্তর প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। গঙ্গা, শোন ও গণ্ডক নদী বিধৌত উর্বর পলিমাটি এই এলাকায় কৃষিজ উদবৃত্ত সৃষ্টি করেছিল। আবার এই নদীগুলির অবস্থান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করে তুলেছিল। এই এলাকায় খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য ছিল। লোহা ও তামা এখানে প্রচুর পাওয়া যেত। রামশরন শর্মা ও রোমিলা থাপার মনে করেন, খৃঃ পূঃ সপ্তম শতক নাগাদ এই এলাকার লোহার ...

পরবর্তী বৈদিক যুগের রাজনৈতিক অবস্থা | Political Situation in the Later Vedic Period

 পরবর্তী বৈদিক যুগের রাজনৈতিক অবস্থা  পরবর্তী বৈদিক যুগে স্থায়ী কৃষিজীবী সমাজ ব্যবস্থার পত্তন ঘটলে সামাজিক উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হতে থাকে। এই উদবৃত্ত উৎপাদনের উপর ভর করে পরবর্তী বৈদিক যুগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ক্রমশ জটিল হতে থাকে। শাসকের ক্ষমতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ঐতরেয় ব্রাহ্মণ থেকে জানা যায় দেবাসুরের সংগ্রামে দেবতাদের পরাজয়ের পর দেবতারা রাজার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাঁরা ইন্দ্রকে রাজা নির্বাচিত করলেন। ঐতিহাসিক বেণীপ্রসাদের মতে নেতৃত্ব দেবার উদ্দেশ্য থেকে রাজার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হল। কিন্তু রাজার ক্ষমতা ক্রমশ নিরঙ্কুশ হল। সম্রাট, একরাট প্রভৃতি অধিক ক্ষমতাধর উপাধিগুলি তিনি ধারণ করলেন। পরবর্তী বৈদিক সাহিত্যে অশ্বমেধ, রাজপেয়, রাজসূয় প্রভৃতি যজ্ঞদির উল্লেখ রাজকীয় ক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তিনি ক্ষেত্রের অধিকারী, তাই ক্ষত্রিয়। তিনি বিশ এর মানুষকে ভক্ষণ করেন। তিনি সমগ্র পৃথিবী ও যাবতীয় প্রাণীর প্রভু- একথা সাহিত্যে উল্লেখিত। দেখা যায় বৈদিক যজ্ঞগুলি করে রাজা দেবত্বপ্রাপ্ত হচ্ছেন অর্থাৎ রাজার দৈব অধিকার দাবি করা হচ্ছে। তার নিয়োগ ক্রমশ বংশানুক্রমিক হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনিক জট...

হিস্ট্রি ও ইতিহাসের পার্থক্য | Difference between 'History' and 'Itihas'

হিস্ট্রি ও ইতিহাসের পার্থক্য সাধারণভাবে আমরা হিস্ট্রি ও ইতিহাসকে সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। তবে ইতিহাস ও হিস্ট্রির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।  ইতি , হ , আস এই তিনটি পদের সমন্বয়ে ইতিহাস শব্দটি গঠিত। এর আক্ষরিক অর্থ ' এই রূপ ছিল ' । ইতিহাস শব্দটির আভিধানিক অর্থ অতীতের সংগঠিত বাস্তব কাহিনী , প্রাচীন কাহিনী বা পুরাবৃত্ত। History শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ 'Histor' শব্দ থেকে যার অর্থ জ্ঞান , এবং গ্রিক শব্দ হিস্টোরিয়া থেকে যার অর্থ সযত্নে অনুসন্ধান করা। ব্যুৎপত্তিগত অর্থের দিক দিয়ে হিস্ট্রি শব্দের তাৎপর্য ব্যাপকতর। ইতিহাস বলতে যে কোনো পুরাকাহিনীকে বোঝানো হয় , কিন্তু হিস্ট্রি হল অতীতের বিষয়ে অনুসন্ধানলব্ধ জ্ঞান।   আধুনিক জ্ঞান চর্চায় যাকে হিস্ট্রি বলে অর্থাৎ অতীতের তথ্যনিষ্ঠ  কালানুক্রমিক পুনর্নির্মাণ -- প্রাচীন ভারতের তেমন কিছু ছিল কি ? একাদশ শতকের আরব পর্যটক আলবিরুনী ভারতে ' ইতিহাস চেতনার অভাব ' লক্ষ্য করেছেন। পরবর্তীকালে ঔপনিবেশিক যুগে প্রাচীন ভারতের বস্তু জগৎ সম্পর্কে উদাসীনতাকে ইতিহাস চেতনার অভাব হিসেবে তুলে ধরা হয়। প্রাচীন ইউরোপে রচিত...

হরপ্পার নগর পরিকল্পনা | Town Planning of Harappan Civilization

 হরপ্পার নগর পরিকল্পনা ১৯২২ সালে দয়ারাম সাহানী ও রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় যথাক্রমে দুই নগর হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পান। এর ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে তাম্রপ্রস্তর যুগে এক সু প্রাচীন  সভ্যতার অস্তিত্বের ব্যাপারে আর কোনো সন্দেহ থাকল না। এই সভ্যতার কালসীমা আনুমানিক ২৬০০ খ্রীঃ পূঃ থেকে ১৭৫০ খ্রীঃ পূঃ পর্যন্ত। এই সভ্যতার অধিকাংশ কেন্দ্র সিন্ধু নদের তীরে আবিস্কৃত হয়েছিল। প্রথম দিকে তাই এই সভ্যতা সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে ভারত ও পাকিস্তানের এক বিশাল এলাকা জুড়ে এই সভ্যতার ভোগলিক প্রসার আবিস্কৃত হয়েছে। প্রত্নতত্ত্বের নিয়মে তাই প্রথম আবিস্কৃত প্রত্নস্থল হরপ্পার নামে এই সভ্যতার নামকরণ হল হরপ্পা সভ্যতা।  হরপ্পা সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ঠ্য এর নগরকেন্দ্রীকতা। প্রায় ৫০ হাজার (মতান্তরে ৭০ হাজার) বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সভ্যতায় এতাবৎ প্রায় ১৪০০ টি নগর কেন্দ্র আবিস্কৃত হয়েছে। এটাই ভারতীয় উপমাহাদেশে প্রথম নগরায়ন। আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে প্রতিতি নগরের পরিকল্পনা প্রায় একই রকম। হরপ্পা ও মহেঞ্জদাড়ো এই দুটি নগর নিঃসন্দেহে দুই বৃহত্তম নগর। এদের আয়তন যথা...

বৈদিক যুগে ধর্মীয় জীবনের বিবর্তন | Transformation in Religious Life in the Vedic Age

বৈদিক যুগে ধর্মীয় জীবনের বিবর্তন বৈদিক যুগের ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে জানতে হলে প্রধানত আমাদের নির্ভর করতে হবে বৈদিক সাহিত্যের উপর। রাজনীতি সমাজ ও অর্থনীতির মতই বৈদিক আমলের ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপ ও  ধ্যান-ধারণা ছিল পরিবর্তনশীল, যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় ঋকবেদের আমল থেকে পরবর্তী বৈদিক যুগ পর্যন্ত।   ঋক বৈদিক যুগ   বৈদিক যুগে কোথাও মূর্তি পূজার পরিচয় পাওয়া যায় না। ঋকবেদে দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে যে স্তুতি করা হয়েছে তার অন্যতম উদ্দেশ্য হল অতীতে দেবদেবীর সহায়তা লাভের স্মৃতিকে জাগ্রত করা এবং তারই ভিত্তিতে ঋষিগণ আশা করতেন যে দেবতার কৃপা আবার‌ও সাহায্য প্রার্থীর উপর পড়বে। জন্মান্তরবাদের ধারণা ঋগ্বেদে অনুপস্থিত। মৃত্যুর পর কি ঘটে সেই প্রশ্ন ঋষিদের আলোড়িত করেছিল। একটি মত অনুযায়ী  মৃত্যুর পর দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায়। অপর একটি মত অনুযায়ী মৃত্যুর পর মানুষের গতি হয় যমলোকে। মৃত্যুর পর সূর্য লোকেও যেতে পারে । অর্থাৎ মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থার স্বরূপ নিয়ে ঋকবেদে কোন নিশ্চিত ধারণা গড়ে ওঠেনি।  বিশ্ব সৃষ্টির প্রসঙ্গটি ঋকবেদে স্থান পেয়েছে। একটি সূক্তে প্রশ্ন করা হয়েছে...

বৈদিক যুগের অথনীতির রুপান্তরঃ পশুচারন অর্থনীতি থেকে কৃষি অর্থনীতি | Transformation of Vedic Economy: From Pastoral to Agrarian

বৈদিক যুগের অথনীতির রুপান্তর বৈদিক সাহিত্য ধর্মীয় সাহিত্য হলেও বেদের বহু প্রার্থনা একান্তভাবে পার্থিব কামনায় উচ্চারিত। তাই বৈদিক সাহিত্য থেকে এই পর্বের অর্থনৈতিক জীবনের পরিচয় পাওয়া যায়। বৈদিক যুগের প্রথম অর্ধ সহস্রাব্দ সময়কাল ঋক বৈদিক যুগ হিসাবে পরিচিত। এই পর্বে অর্থনীতির মেরুদন্ড ছিল পশুচারন। তখনও পাকাপাকি কৃষিব্যবস্থার পত্তন হয় নি। কিন্তু পরবর্তী বৈদিক যুগে সমাজে এক ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়। এই পর্বে অর্থনীতি পশুপালন নির্ভর থেকে কৃষিভিত্তিক হয়ে ওঠে। ১. ঋক বৈদিক যুগের পশুচারণ নির্ভর অর্থনীতি ঋক বেদে পশুপালন ও কৃষি দুই-ই উল্লিখিত কিন্তু পশুপালন সংক্রান্ত শব্দ অনেক বেশি পরিমাণে উল্লিখিত। গো অর্থাৎ গবাদি পশু এবং তার ব্যুৎপত্তি জাত শব্দের উল্লেখ হয়েছে মোট ১৭৬ বার আর কৃষি বিষয়ক শব্দের উল্লেখ হয়েছে মাত্র ২১ বার। এর থেকেই অনুমান করা যায় অর্থনীতিতে গবাদি পশুর গুরুত্ব ছিল সবথেকে বেশি। একজন সম্পন্ন ব্যক্তিকে বোঝাতে গোমান শব্দ ব্যবহৃত হত। অর্থাৎ গবাদি পশুই ছিল সমাজের ধনসম্বল। রাজাকে বলা হচ্ছে গোপতি অর্থাৎ গবাদি পশুর মালিক, যুদ্ধকে বলা হত গাবিষ্টি  , অর্থাৎ গবাদি পশুর বাসনায় যুদ্ধ হত। গোস...