সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জুন, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০–১৯৩৪) | Civil Disobedience Movement (1930–1934)

  আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০–১৯৩৪) ১. পটভূমি ভারতের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে আইন অমান্য আন্দোলন (Civil Disobedience Movement) ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। ১৯২০-২২ সালের অসহযোগ আন্দোলনের পর কিছুদিন রাজনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিলেও ১৯২০-এর দশকের শেষভাগে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ১৯২৭ সালে সাইমন কমিশন ভারতে আগমন করলে তার বিরুদ্ধে সর্বত্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, কারণ কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য ছিল না। একই সময়ে নেহরু রিপোর্ট (১৯২৮), জিন্নাহর চৌদ্দ দফা এবং সাংবিধানিক প্রশ্নে মতপার্থক্য ভারতীয় রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বর মাসে লাহোর অধিবেশনে জওহরলাল নেহরুর সভাপতিত্বে কংগ্রেস “পূর্ণ স্বরাজ”-কে জাতীয় লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে। সিদ্ধান্ত হয় যে ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস পালন করা হবে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার ভারতের স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। ফলে গান্ধিজি আন্দোলনের পথ বেছে নেন। তিনি ভাইসরয় লর্ড আরউইনকে ১১ দফা দাবি সম্বলিত চিঠি পাঠান। দাবিগুলি উপেক্ষিত হলে তিনি আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২. লবণ সত্যা...

দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কালে ভারতে শ্রমিক আন্দোলন (১৯১৯-১৯৩৯) | Working Class Movement in India During the Inter-War Period (1919–1939)

দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কালে ভারতে শ্রমিক আন্দোলন ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কাল (১৯১৯-১৯৩৯) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর পরিবর্তন ঘটে। যুদ্ধকালীন মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিকদের কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। অন্যদিকে রুশ বিপ্লব (১৯১৭)-এর প্রভাব, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উত্থান ভারতীয় শ্রমিকদের সংগঠিত হতে অনুপ্রাণিত করে। ফলে এই সময়ে শ্রমিক আন্দোলন শুধু অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী বছরগুলিতে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নতুন জোয়ার এবং রুশ বিপ্লবের সাফল্য শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা জাগিয়ে তোলে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা নিজেদ...

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে ভারতের রাজনৈতিক সংগঠন | Political Organizations in India Before the Establishment of the Indian National Congress

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে ভারতের রাজনৈতিক সংগঠন উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশে আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠনের উত্থান ঘটে। ইংরেজি শিক্ষার প্রসার, পাশ্চাত্য উদারনৈতিক চিন্তাধারার প্রভাব, সংবাদপত্রের বিকাশ, রেল ও টেলিগ্রাফের সম্প্রসারণ এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নীতির ফলে শিক্ষিত ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। এই নতুন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি উপলব্ধি করতে শুরু করে যে বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন না করে সংগঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব। ফলে বিভিন্ন প্রদেশে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে, যেগুলি পরবর্তীকালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। ভারতে আধুনিক রাজনৈতিক সংগঠনের ইতিহাস শুরু হয় জমিদার সভা (Landholders’ Society) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ১৮৩৭ সালে রাজা রাধাকান্ত দেবের নেতৃত্বে গঠিত এই সংগঠন বাংলার, বিহারের ও উড়িষ্যার জমিদারদের স্বার্থরক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও এটি সাধারণ মানুষের সংগঠন ছিল না, তবুও প্রথমবারের মতো ভারতীয়রা সাংবিধানিক উপায়ে সরকারের নিকট নিজেদের দাবি-দাও...