সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

কণিষ্কের রাজনৈতিক অবদান | Political Contrubution of Kanishka

কণিষ্কের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে কুষান শাসকদের রাজনৈতিক অবদান আলোচনা কর। খ্রিস্টিয় প্রথম শতক নাগাদ উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এলাকার উপর শকদের কর্তৃত্ব ক্রমশ অন্তর্হিত হতে থাকে এবং একটি নতুন শক্তির অভ্যুদ্বয় হয়। এই নতুন রাজশক্তি হল কুষাণ। মধ্য এশিয়া থেকে বেরিয়ে যে সমস্ত যাযাবর গোষ্ঠী পশ্চিম দিকে অভিপ্রয়ান করে আফগানিস্তান এবং উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তদেশে উপস্থিত হল তাদের মধ্যে একটি গোষ্ঠী ছিল ইউ-চি। সাম্প্রতীক গবেষণায় দেখা গেছে এরা ইন্দো-ইউরোপীয় 'তোখারীয়' ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এই ইউ-চি গোষ্ঠীর ৫ টি শাখার মধ্যে একটি শাখা ছিল কুষান, যাদের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের সূচনা হয়েছিল ব্যাকট্রিয়া থেকে এবং ধীরে ধীরে তারা উপমহাদেশের বিরাট ভূখন্ডের উপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক কণিষ্ক, যিনি কেবল রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের জন্যই খ্যাতি অর্জন করেননি, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।  কুষাণদের রাজনৈতিক ইতিবৃত্তের পরিচয় পাওয়া যাবে মুদ্রাগত সাক্ষ্য, বিভিন্ন লেখ এবং চিনা বিবরণ থেকে। প্রথম কুষাণ শাসক ছিলেন মিয়াওস। তাঁর অধিকার ...

ম্যানর ব্যবস্থার স্বরূপ | Manorialism

ম্যানর ব্যবস্থার স্বরূপ  উৎপাদন ব্যবস্থাকে অব্যাহত রাখার জন্য সমাজের নিচুস্তরে প্রভূ ও অধীনস্থ প্রজার সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে যে প্রাচীনতর ও দীর্ঘায়ু প্রতিষ্ঠান ইউরোপের সামন্ততান্ত্রিক কাঠামোতে স্বাভাবিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল তা 'ম্যানর' নামে পরিচিত। ম্যানারগুলিকে ফ্রান্সে অবশ্য সেঁইন্যারি (Seigneurie) বলা হত। মার্ক ব্লকের ভাষায়, ম্যানর ছিল প্রধানত এস্টেট, যার সীমানার মধ্যে বাস করতেন লর্ডের প্রজারা। আর লর্ড বা ভূস্বামীর জমিতে প্রজা কর্তৃক উৎপাদিত খাদ্যশস্যের ভাগীদার হাওয়াই ছিল লর্ডের কর্তৃত্ব প্রয়োগের মূল লক্ষ্য। অধীনস্থ প্রজার উপরে ভূস্বামীর অধিকারের মাত্রা ও ব্যাপকতার বিচারে ম্যানর গুলিকে সামন্ততান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার স্থানীয় বিভাগ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সাধারণত আকারে বিশাল এবং স্বনির্ভর এই প্রতিষ্ঠান ইউরোপের সর্বত্র একইভাবে বা একই সময়ে গড়ে ওঠেনি। কোথাও কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণরূপে ম্যানর নিয়ন্ত্রিত, কোথাও অসংখ্য ছোট ছোট ক্ষেত মালিক বিচ্ছিন্নভাবে কৃষিকাজ সম্পন্ন করতেন। জার্মানি ও ইংল্যান্ডের বহু আগেই ফ্রান্স ও ইতালিতে কয়েকটি এলাকায় ম্যানর ব্যবস্থার বিকা...

সামন্ততন্ত্রের প্রকৃতি | Nature of Feudalism

সামন্ততন্ত্রের প্রকৃতি নবম ও দশম শতকে ইউরোপে কেন্দ্রীয় শাসন ভেঙে পড়লে ভূমিনির্ভর অভিজাত ও সরকারি কর্মচারীরা রাজতন্ত্রের বদলে এক ধরনের বিকল্প রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলে যার নাম সামন্ত প্রথা। ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভাঙনের মধ্য দিয়ে সামন্ত ব্যবস্থার উৎপত্তি হয় এবং শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার পূনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থার অবসান হয়। মোটামুটি ৮০০ থেকে ১৩০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালে প্রায় ৫০০ বছর ধরে এই ব্যবস্থা ইউরোপে স্থায়ী ছিল। ইংরাজিতে Feudalism শব্দের বাংলা অনুবাদ হল সামন্ততন্ত্র। 'ফিউড' কথার অর্থ জমি। অর্থাৎ এই ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে জমিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি ব্যবস্থা। সামন্ততন্ত্র মূলত একটি সরকারি ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের হাতে কেন্দ্রীয় প্রশাসন থাকে না, ভুস্বামীদের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীভূত থাকে। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের ধনী অভিজাতরা অধীনস্থদের রক্ষার দায়িত্ব নিত এবং বিনিময়ে অধীনস্থ ব্যাক্তি প্রভুকে সেবা ও সীমাহীন আনুগত্য দিত। প্রভু ও অধীনস্থের এই সম্পর্কই ছিল সামন্ত ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। মার্ক ব্লখ মনে করেন ভ্যাস...

রোম-ভারত বাণিজ্য | Indo-Roman Trade

 রোম-ভারত বাণিজ্য রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রনের অভাব মানেই আর্থিক অবনতি যে নয় তার প্রমান উপমহাদেশে খ্রিঃ পূঃ দ্বিতীয় শতক থেকে খ্রিঃ  তৃতীয় শতক পর্যন্ত সময়কাল। মৌর্য সাম্রাজ্যের মত শক্তিশালী সাম্রাজ্যের পতনের পর উপমহাদেশে আর কোনো একক বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি গড়ে ওঠে নি। এর ফলে আলোচ্য পর্বে অর্থনৈতিক জীবনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়, কৃষি, কারিগরি উৎপাদন এবং বাণিজ্যে ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগের প্রসার ঘটে। সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি ঘটে জলপথে দুরপাল্লার বাণিজ্যিক ক্রিয়াকলাপে।  ভারত কিভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করল তার প্রেক্ষিত বোঝার জন্য সমসাময়িক পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার পরিস্থিতি অনুধাবন করা দরকার। খ্রিঃ পূঃ দ্বিতীয় শতক নাগাদ এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য শুরু হয়। এই বাণিজ্যের একদিকে ছিল পশ্চিমে রোম সাম্রাজ্য ও পূর্বে চিনের হান সাম্রাজ্য। রোম সাম্রাজ্যে রাজা ও অভিজাতদের দরবারে চিনা বিলাস দ্রব্যের ব্যপক চাহিদা ছিল। এর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল চিনের রেশম। এছাড়া ছিল চা আর চিনামাটির পাত্র। এই রেশম দীর্ঘ স্থলপথ পাড়ি দিয়ে মধ্য এশিয়ার টাকলামাকান মরুভূমির মধ...

চিনে মুক্ত দ্বার নীতি | Hay Doctrine

 চিনে মুক্ত দ্বার নীতি  পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি মাঞ্চু রাজতন্ত্র শাসিত চীনে যে সমস্ত শোষণ মূলক পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করেছিল তার  চূড়ান্ত  পরিণতি হল চীনের মুক্তদ্বার নীতি (১৮৯৯) । আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের তদানীন্তন বিদেশ সচিব জন  হে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে এই নীতি ঘোষণা করেছিলেন। এই নীতি তাই "হে ডকট্রিন" নামেও পরিচিত। এই নীতির মূল বক্তব্য ছিল:  ১. পশ্চিমী শক্তিগুলির প্রভাবাধীন অঞ্চলের স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় তারা হস্তক্ষেপ করবে না। ২. মুক্ত বন্দর গুলিতে চীনের শুল্ক বিভাগ চুক্তি অনুযায়ী কর আদায় করবে এবং এই বিষয়ে বিদেশীরা হস্তক্ষেপ করবে না। ৩) প্রভাবাধীন অঞ্চলে কোনো বিদেশি শক্তি অন্য দেশের বাণিজ্যিক পণ্যের উপর বৈষম্য মূলক শুল্ক চাপাবে না। ৪) হে একটি দ্বিতীয় সড়কপত্র প্রকাশ করে বলেন যে, পশ্চিমী শক্তিগুলির চীনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা রক্ষা করে চলবে। মুক্তদ্বার নীতির পশ্চাতে একটি সুনির্দিষ্ট পটভূমি ছিল। মাঞ্চু রাজতন্ত্র তাইপিং বিদ্রোহ দমনের পর যখন চীনের অভ্যন্তরে নিজেকে শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছিল তখন ঔপনিবেশিক শক...