সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কোণার্ক সূর্য মন্দির | Konark Sun Temple

কোণার্ক সূর্য মন্দির | Konark Sun Temple 

ভারতের পূর্ব দিকে উড়িষ্যায় বঙ্গোপসাগরের উপকূলে পুরী থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে এবং ভুবনেশ্বর থেকে ৬৫ কি মি দক্ষিণ পূর্বে চন্দ্রভাগা বীচের কাছে অবস্থিত কোণার্ক সূর্য মন্দির ভারতের একটি অন্যতম Built Heritage এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থল। কোণার্ক সূর্য মন্দির প্যাগোডা স্টাইলে নির্মিত রথের আকৃতির একটি মন্দির। তেরো শতকে উড়িষ্যার গঙ্গা রাজাদের দ্বারা নির্মিত এই মন্দির কলিঙ্গ স্থাপত্য রীতির চুড়ান্ত নিদর্শন। এই মন্দির বিদেশী বণিক ও নাবিকদের কাছে ব্ল্যাক প্যাগোডা নামেও পরিচিত। এই মন্দিরের নির্মাণ শৈলি ও মন্দিরগাত্রে রিলিফ ভাস্কর্য একে বিশেষজ্ঞ ও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পুরীতে ভ্রমণকারী প্রায় সমস্ত রকমের পর্যটকদের ভ্রমনসূচিতে কোণার্ক সূর্য মন্দির অবশ্যই যুক্ত থাকে। 

কোণার্ক কথাটি ভাঙলে হয় কোণ + অর্ক। কোণ বলতে সম্ভবত 'কোন' বা 'কর্নার' বোঝায় এবং সূর্যদেবের আরেক নাম অর্ক। অর্থাৎ, অর্থ দাঁড়ায় সূর্যের বিভিন্ন কোনের অবস্থান। খুব সম্ভবত  মন্দিরটি সূর্যের বিভিন্ন অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে, তাই এমন নামকরণ। গঙ্গা রাজাদের সূত্র থেকে জানা যায় যে, বঙ্গদেশের সুলতানরা উড়িষ্যার জন্য যথেষ্ট চিন্তার কারন হয়ে উঠেছিল। গঙ্গা রাজা প্রথম নরসিংহদেব কলিঙ্গের সিংহাসনে বসে বাংলার বিরুদ্ধে একটি সফল অভিযান পরিচালনা করেন এবং বঙ্গদেশের শাসক তুঘ্রিল খাঁকে পরাস্ত করেন (১২৪২-৪৩ খ্রিঃ)। এই বিজয়ের স্মারক হিসাবে তিনি মিত্রাবনে (অধুনা কোণার্ক) এই সূর্যমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন (১২৪৩-৫৫ খ্রিঃ)। 

কোণার্ক সূর্য মন্দিরের তিনিটি মুল অংশ- শিখর বা বিমান, জগমোহন এবং নাটমন্দির। বিমানের উচ্চতা ছিল ১২০ ফুট যেটি ১৮৬৯-এ ধ্বসে যায়। একাধিক সংস্কারের পর ৬০ ফুট উচ্চতার জগমোহনটি এখনো টিকে আছে। জগমোহনে ওঠার সিঁড়ি আছে, এর বারান্দায় আছে তিনটি সূর্য মূর্তি। মন্দিরের ছাদ পিরামিডের মত। মুল প্রবেশদ্বারে ২০ টন ওজনের একটি ভাস্কর্যখোচিত পাথর ছিল, যেটি সংলগ্ন মিউজিয়ামে রাখা আছে। মন্দিরের প্রবেশপথেই রয়েছে বিশাল দুটি সিংহের মূর্তি যারা লড়াই করছে দুটি রণহস্তীর সঙ্গে। সামগ্রিক কাঠামোটি যেন সমুদ্র থেকে উঠে আসা সূর্যদেবের বিশাল রথ, তার সামনে রয়েছে সাত জোড়া ঘোড়া। সাতটি ঘোড়া সপ্তাহের সাত দিনের প্রতিক। ১২ জোড়া বিশাল চাকার ওপর পুরো মন্দিরটি নির্মিত। ২৪ টি চাকা বছরের ২৪ টি পক্ষের প্রতীক। প্রতিটি চাকা একেকটি সূর্যঘড়ি। চাকার ভেতরের স্পোকগুলো (৮ টি করে) সূর্যঘড়ির কাঁটা। ৮ টি স্পোক দিনের অষ্টপ্রহরের সূচক। এই সূর্যঘড়িতে এখনো নিখুঁতভাবে সময় নির্ণয় করা যায়। আজও ভোরের সূর্যোদয়ের প্রথম আলো মন্দিরের প্রাঙ্গনে এসে পড়ে। 

মন্দিরের ভাস্কর্য অনুপম। বেদী থেকে শুরু করে চূড়া পর্যন্ত সর্বত্র কারুকার্য রয়েছে। রিলিফ ভাস্কর্যে দেব দেবী, চার মাথা ও ছয় মাথা বিশিষ্ট শিব, নানান বাদ্যযন্ত্র সহযোগে নাচ গানের দৃশ্য, মৈথুন দৃশ্য, রাজার শিকার যাত্রা, যুদ্ধ যাত্রা, দরবার, নৃত্যরত ভৈরব মূর্তি, বিভিন্ন পশু প্রভৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 
ভাস্কর্যের মানবিক আবেদন ও লীলায়িত ভঙ্গি শিল্পকলার চরম উৎকর্ষের নিদর্শন।

কোণার্ক সূর্য মন্দিরের অসামান্য শৈল্পিক সৌন্দর্য, এর ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্যের জন্য  UNESCO এই মন্দিরকে World Heritage এর মর্যাদা দিয়েছে। তিনটি মানদণ্ডে কোণার্ক সূর্য মন্দির এই মর্যাদা লাভ লরেছে। এগুলি হলঃ Criterion (i): A unique artistic achievement, Criterion (iii): Outstanding testimony to the 13th-century kingdom of Orissa এবং Criterion (vi): Directly and materially linked to the Brahman beliefs

কোণার্ক সূর্য মন্দির একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছে। ১৫৬৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুলতান সুলেমান কারনানির সেনাপতি কালাপাহাড় আক্রমণ করেন। খুরদার রাজা পুরুষোত্তমদেবের পুত্র নরসিংহদেব ১৬২৬ সালে আক্রমণ করে সূর্যদেবের বিগ্রহ এবং আরও অন্যান্য অংশ লুঠ করে নিয়ে যান। এর পর থেকে এখানে পূজা বন্ধ হয়ে যায়। মারাঠা শাসনকালে ভোঁসলে শাসকেরা কোণার্ক মন্দিরের অনেক ক্ষতি করে। এর নাট মন্ডপটি ভেঙে দেয় এবং অরুণ স্তম্ভটি খুলে নেয়। পর্তুগীজ জলদস্যুরাও এখানে আক্রমণ চালিয়েছিল। এছাড়া ভুমিকম্প এবং সামুদ্রিক জলচ্ছ্বাস, নোনা হাওয়া এই মন্দিরের অনেক ক্ষতি করেছে। এ সত্ত্বেও কোণার্ক সূর্য মন্দির ১৮ শতক পর্যন্ত তার অস্তিত্ব বজায় রাখতে পেরেছিল। এর পর এটি পরিত্যক্ত স্থানে পরিণত হয়। 

১৮ শতক থেকে পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ার পর এই মন্দির বালিতে ঢাকা পড়ে এবং জঙ্গল হয়ে যায়। ১৮৯৩ খ্রিঃ এর উদ্ধার শুরু হয়। জগমোহনটিকে তার সস্থানে রাখার ব্যবস্থা করেন ছোটলাট উডবার্ন। ১৯০৪ সালে বড়লাট কার্জনের সময় ASI -এর অধিকর্তা স্যার জন মার্শালের উৎসাহে মন্দিরের সংস্কার ও সংরক্ষন চলতে থাকে। ১৯৫০ ও ৫২ সালে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশে লবণাক্ত বাতাস থেকে বাঁচানোর জন্য বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝাউ ও কাজু গাছ লাগানোর ব্যবস্থা হয়। সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট, রুরকে-এর সুপারিশে ASI জগমোহনের ভিতরে বালি ভরে এর কাঠামোটি রক্ষা করার ব্যবস্থা করে।  

কোণার্ক সূর্য মন্দিরে পর্যটনের একটি অতীত ইতিহাস রয়েছে। অবুল ফজলের রচনায় এই মন্দিরের উল্লেখ আছে এবং বলা হয়েছে যে এই মন্দিরের সৌন্দর্য পর্যটকদের বিস্মিত করত। এই এলাকা ছিল বাণিজ্য সমৃদ্ধ এলাকা। পেরিপ্লাসে এখানকার একটি বন্দরের কথা আছে। এর নাম কাইনাপারা। মধ্যযুগে এখানে বাণিজ্য করতে আসা একটি বণিক ও নাবিকেরা এখানে আসত। জনশ্রুতি অনুশারে এই মন্দিরের একটি বিশাল চুম্বক, যা পুরো মন্দিরকে ধরে রাখত, তার টানে পর্তুগীজ জলদস্যুরা এখানে আসত এবং এটি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পর মন্দিরটি ভেঙে যায়। যদিও এই জনশ্রুতি কোনো ঐতিহাসিক প্রমান পাওয়া যায় নি।

কোণার্ক-এর পর্যটক আগমন অন্যান্য ঐতিহাসিক পর্যটনস্থল থেকে অনেক বেশি। এর কারণ, কোণার্ক কেবল গবেষক, ছাত্রছাত্রী, ইতিহাস ও ঐতিহ্য প্রেমী মানুষজনের কাছে আকর্ষণীয় নয়, এর ধর্মীয় গুরুত্ব এবং সমুদ্রতীরবর্তী অবস্থান, বিশেষ করে নিকটবর্তী পুরী সমুদ্র সৈকতের অবস্থান এবং বিখ্যাত জগন্নাথ মন্দিরের প্রতি ভক্তি এই স্থানের পর্যটনকে অনেক বেশি টেকসই করেছে। তাছাড়া প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে (১ম থেকে ৫ম) কোণার্ক-এ নাট্য উৎসব হয় এবং জানুয়ারি মাসে সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে চন্দ্রভাগা মেলা আয়োজিত হয়, যার ঐতিহ্য পুরানের সাথে জড়িত। এর ফলে এখানকার পর্যটন আরও পুষ্ট হয়। উড়িষ্যা পর্যটন বিভাগের দেওয়া তথ্যানুশারে প্রতি বছর গড়ে ২.৫ থেকে ৩ মিলিয়ন পর্যটক আসেন। ২০২৪-২৫ অর্থ বৎসরে এই সংখ্যা ৩.৫ মিলিয়ানে পৌঁছেছে, যা পর্যটন স্থল হিসাবে কোণার্ক-এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে প্রমান করে। তবে বিদেশী পর্যটকের অনুপাতে কম। এখানে প্রতি বছর গড়ে ১৫ থেকে ২৫ হাজার বিদেশী পর্যটক আসে।  ২০২৪ সালের শুধুমাত্র ডিসেম্বর মাসেই এএসআই কোনার্কে আগত বিদেশী পর্যটকদের অফলাইন টিকিট থেকে ২.৫৮ লক্ষ টাকার বেশি রাজস্ব সংগ্রহ করেছিল। 

পরিশেষে বলা যায়, কোণার্ক কেবল একটি ধর্মীয় ঐতিহ্য নয়; এটি অনন্য শিল্পকলা, শৈল্পিক সংমিশ্রণ, ব্রাহ্মণ্য ও বৌদ্ধ ভাবধারার মিথস্ক্রিয়া এবং ভারতীয় সভ্যতার বহুমাত্রিকতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। একাধিক ঘাত-প্রতিঘাত, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও অবক্ষয়ের পরও কোণার্ক যেভাবে আজও টিকে রয়েছে এবং ভারতের পর্যটন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে এই অমূল্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য বিংশ শতাব্দী থেকে যে প্রচেষ্টা চলে আসছে, তা অব্যাহত ও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারের মাধ্যমে কোণার্ককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা প্রয়োজন, যাতে আরও বেশি বিদেশি পর্যটক এখানে আকৃষ্ট হন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আরবদের সিন্ধু অভিযানঃ প্রত্যক্ষ কারণ ও তাৎপর্য | Arab Conquest of Sindh: Immediate Causes and Significance

আরবদের সিন্ধু অভিযানঃ প্রত্যক্ষ কারণ ও তাৎপর্য সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে আরবদেশে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে। ইসলাম আরবদের নতুন করে জীবনীশক্তির সঞ্চার করে । ইসলাম ক্রমশ: একটি ধর্ম থেকে রাজনৈতিক শক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তারা আরবীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। ভারতবর্ষের সঙ্গে আরবদের যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। বাণিজ্যিক সূত্রে তারা নিয়মিত ভারতের উপকূল গুলিতে, বিশেষ করে মালাবার উপকূলে আসত। ভারতীয় ও চীনা পণ্য 'ধাও' নামক বিশেষ জাহাজে করে নিয়ে তারা ইউরোপের বাজারে বিক্রি করত। 712 খ্রিস্টাব্দে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর সেনাপতি ও জামাতা মোহাম্মদ বিন কাসেম সিন্ধু দেশে একটি সফল অভিযান করেন এবং সিন্ধুদেশ আরবীয় মুসলমানদের অধীনে চলে যায়। অভিযানের(প্রত্যক্ষ) কারণ ভারতবর্ষের প্রতি আরবদের দীর্ঘদিনের নজর ছিল। এর আগেও বহুবার ভারতের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পাঠানো হয়েছিল। তবে এই(712 খৃ:) অভিযানের একটি প্রত্যক্ষ কারণ ছিল। জানা যায় যে সিংহলের রাজা ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কে কয়েকটি জাহাজে করে উপঢৌকন পাঠাচ্ছিলেন কিন্তু পথে সিন্ধু দেশের জলদস্যুরা দেবল বন্দরে এ...

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ | Category of Archives

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ মহাফেজখানা বা লেখ্যাগারগুলি সাধারণ জনতার জন্য নয় মূলত গবেষক, ঐতিহাসিক, আইনবিদ, চিত্র পরিচালক প্রভৃতি পেশার লোকজন তাদের গবেষণার কাজে লেখ্যাগারে নথি পত্র দেখতে পারেন।  লেখ্যাগার পরিচালনা ও সংরক্ষিত নথির ভিত্তিতে লেখ্যাগগুলিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।   1. সরকারি লেখ্যাগার:- কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে যে লেখ্যাগারগুলি গড়ে ওঠে। সেগুলিকে সরকারি লেখ্যাগার বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরকম সরকার পরিচালিত এক বা একাধিক লেখ্যাগার থাকে। যেমন, আমেরিকার Natonal Archive And records Administration (NARA)। ভারতবর্ষে র কেন্দ্রীয় লেখ্যাগার National Archive of India নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঐতিহাসিক, প্রশাসনিক ও আইনগত নথি, মানচিত্র, নক্সা,  পাণ্ডুলিপি প্রভৃতি সংরক্ষিত থাকে। 2. বানিজ্যিক লেখ্যাগার:-  এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানের লেখ্যাগার বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান   মূলত তাদের সংস্থার ঐতিহাসিক এবং বানিজ্যিক নথি সংরক্ষিত রাখে। যেমন, ভারতের প্রথম বানিজ্যিক লেখ্যাগার হলো পুনার Tata Centrel Archive। 3. অলাভজনক লেখ্যাগ...

ষোড়শ শতকীয় ইউরোপে মূল্যবিপ্লব | Price Revolution

 ষোড়শ শতকের ইউরোপে মূল্য বিপ্লব   16 শতাব্দীতে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো মূল্য বিপ্লব। নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মূল্য প্রায় 150 বছর সুস্থির থাকার পর ঊর্ধ্বমুখী হতে আরম্ভ করে, এবং 16 শতাব্দীর শেষে খাদ্যপণ্যের মূল্যের প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। পশ্চিম ইউরোপের অর্থনীতিতে এমন অভাবনীয় এবং সুদুরপ্রসারী ফলাফলসম্পন্ন ঘটনা মূল্য বিপ্লব নামে পরিচিত। মূল্য বিপ্লবের কতগুলি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যথা--    (১) কৃষিজ পণ্যের তুলনায় শিল্পজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ছিল কম, এবং খাদ্যশস্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। (২) ভূমি রাজস্ব সহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক, তোলা ইত্যাদির হার বৃদ্ধি এবং ফটকাবাজির আবির্ভাব। (৩) মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় মজুরির হার খুবই কম ছিল বলে প্রকৃত আয় হ্রাস পেয়েছিল। (৪) ভূমি বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত হওয়া। (৫) গ্রামীণ বুর্জোয়াজি শ্রেণীর আবির্ভাব। ষোড়শ শতকের আগেও প্রাকৃতিক কারণে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, তবে তা ছিল 2, 3 শতাংশের মতো, যা অস্বাভাবিক মনে হতো না। কিন্তু ষোল শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে যে নিরবিচ্ছিন্ন মূল্যবৃদ্ধি হ...