সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঐতিহাসিক পর্যটনস্থল হিসাবে অজন্তা গুহা | Ajanta Caves as a Historical Tourist Destination

 অজন্তা গুহা 

মহারাষ্ট্রের জালগাঁও শহর থেকে ৫৯ কিলোমিটার দূরে, ঔরঙ্গাবাদ থেকে ১০৭ কিলোমিটার উত্তরে ওয়াঘোরা নদীর তীরে, পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় পূর্বঢালে অজন্তা পাহাড়ে অবস্থিত ভারতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান ও প্রত্নক্ষেত্র  তথা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হল অজন্তার গুহামন্দির।ঘোড়ার খুরের মতো বাঁকানো অজন্তা পাহাড়ের গায়ে পাথর কেটে এই গুহাগুলি তৈরি করা হয়েছে। এখানে মোট ৩০টি বৌদ্ধ গুহা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু গুহার নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়েছিল এবং কিছু অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছে। অজন্তা প্রাচীন ভারতের সমাজ, ধর্ম, স্থাপত্য, পোশাক, অলংকার, সামাজিক রীতিনীতি এবং রাজনৈতিক জীবনের নানা তথ্য জানতে সাহায্য করে। অজন্তার শৈল্পিক সৌন্দর্য, ধর্মীয় গুরুত্ব এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিকে নজর রেখে ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে অজন্তা গুহাকে UNESCO-র World Heritage Site-এর স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে এটি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকেন্দ্র।

১৮১৯ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মাদ্রাজ রেজিমেন্টের এক সেনা কর্মকর্তা জন স্মিথ শিকারে বেরিয়ে এই গুহাগুলি আবিষ্কার করেন। ১৮৪৪ সালে প্রাচ্যবাদী শিল্প বিশেষজ্ঞ জেমস ফারগুসন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অফিসার রবার্ট গিলকে প্রেরণ করেন অজন্তার গুহাচিত্রের অনুলিপি তৈরির জন্য। তাঁর ২০ বছরের শ্রমের ফল ৩০ টি ছবি, কিন্তু ১৮৬৬ তে সিডেনহ্যাম প্রাসাদের প্রদর্শনীতে এক অগ্নিকান্ডে ২৫ টি ছবিই নষ্ট হয়ে যায়। এরপর ১৮৭৫ সালে জর্জ গ্রিফিথের নেতৃত্বে একটি দল অজন্তার গুহাচিত্রের ৩৩৫টি প্রতিলিপি তৈরি করেন। এভাবে বিশ্ব দরবারে অজন্তার গুহাচিত্র নিয়ে অগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ১৯০৩ সালে ব্রিটিশ সরকার অজন্তা রক্ষা আইন করে এবং ১৯২০ এর দশকে নিজাম সরকারের অনুদানে ইতালি থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে এসে গুহাচিত্রের সংস্কার সাধনে উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৫৩ সালে ASI আনুষ্ঠানিকভাবে অজন্তা গুহার রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের অধীনে নেয়। যদিও বেশকিছু দেওয়ালের চিত্র ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে। গুহাগুলির আশপাশের সংরক্ষিত অঞ্চলের ব্যবস্থাপনায় বন দপ্তর এবং মহারাষ্ট্র সরকারও সহযোগিতা করে। 

অজন্তার নির্মাণকাল মোটামুটি খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতক পর্যন্ত। এর নির্মাণকালকে দুটি পর্বে ভাগ করা যায়- প্রথম পর্ব অর্থাৎ হীনযান পর্ব, যা খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে সাতবাহন রাজাদের সময়কালে নির্মিত হয়েছিল এবং এগুলি ছিল হীনযান ধারার নির্মাণ, যেখানে স্তুপ ও অন্যান্য প্রতীকের মাধ্যমে বুদ্ধকে বোঝার চেষ্টা করা হয়। প্রথম পর্বের প্রায় চার শতাব্দী পর খ্রিষ্টীয় পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতকে বাকাটক ও সামন্ত রাজাদের সময়ে দ্বিতীয় পর্বের নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এই পর্বের নির্মাণ মহাযান ধারার নির্মাণ, যার অন্তর্ভুক্ত বুদ্ধ ও বোধিসত্বের মূর্তি নির্মাণ। 

আগ্নেয় পাহাড়ের শিলা কেটে মোট ৩০ টি গুহা নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি গুহা (গুহা নম্বরঃ ৯, ১০, ১৯, ২৬ ও ২৯ ) চৈত্যগৃহ অর্থাৎ উপাসনাস্থল এবং বাকিগুলি  বিহার অর্থাৎ বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সন্ন্যাসীদের থাকা ও জ্ঞানচর্চার জায়গা। এর মধ্যে ৯ ও ১০ নম্বর চৈত্যগৃহ এবং ৮, ১২, ১৩ ও ১৫A নম্বর বিহার হীনযান পর্বের। ১০ নম্বর গুহাটি সবথেকে প্রাচীনতম নির্মাণ। এই পর্যায়ের নির্মাণগুলি তুলনামূলকভাবে সরল ও অনাড়ম্বর। দেওয়ালচিত্রও খুব অল্প পরিমাণে রয়েছে।

এই সময়ের চৈত্যগৃহগুলির কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল—

  • ছাদ সাধারণত খিলানযুক্ত বা বাঁকানো;
  • গুহার পিছনের অংশ ছিল অর্ধবৃত্তাকার;
  • গুহার সম্মুখভাগে একটি বড় ঘোড়ার খুরের মতো আকৃতির জানালা থাকত, যাকে চৈত্য জানালা বলা হয়;
  • ভিতরে সারিবদ্ধ স্তম্ভের মাধ্যমে গুহাকে একটি মধ্যবর্তী প্রধান অংশ এবং দুই পাশের অংশে ভাগ করা হতো;
  • দুই পাশের অংশ পিছনের অর্ধবৃত্তাকার অংশের চারপাশে ঘুরে যাওয়ার পথ তৈরি করত, যাতে ভক্তরা স্তূপকে প্রদক্ষিণ করতে পারতেন;
  • গুহার পিছনের কেন্দ্রে পাথর কেটে তৈরি চৈত্য বা স্তূপ থাকত। এটিই ছিল উপাসনার প্রধান বিষয়।

এই পর্যায়ের বিহারগুলি ছিল ভিক্ষুদের বসবাস ও সমবেত হওয়ার স্থান। সাধারণত একটি বড় স্তম্ভহীন হল থাকত এবং তার তিন দিকে ছোট ছোট কক্ষ থাকত। এই কক্ষগুলিই ছিল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বাসস্থান।

দ্বিতীয় পর্যায়ের মহাযান নির্মাণে আগের পর্যায়ের স্থাপত্যরীতি বজায় থাকলেও স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে নতুন উদ্যম দেখা যায়। এই সময় গুহার দেওয়ালগুলি অত্যন্ত সুন্দর দেওয়ালচিত্রে সজ্জিত করা হয়। চিত্রগুলি মূলত টেম্পেরা পদ্ধতিতে আঁকা হয়েছিল। একই সঙ্গে স্তম্ভ, স্তম্ভের উপরের অলংকরণ, দরজার চৌকাঠ, উপাসনাকক্ষ এবং গুহার সম্মুখভাগে সমৃদ্ধ ভাস্কর্য ও অলংকরণ যুক্ত করা হয়।

অজন্তার ৫, ২৪ ও ২৯ নম্বর অসম্পূর্ণ গুহা। এগুলি প্রাচীন শিল্পীরা কীভাবে পাথর কেটে গুহা তৈরি করতেন, তার পদ্ধতি ও প্রযুক্তি বোঝার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অসম্পূর্ণ গুহাগুলি থেকে গুহা নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

অজন্তার কাঠামোর বাহ্যিক দৃশ্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একটি অশ্বক্ষুরাকৃতি পাহাড়, যার উচ্চতা ৭৬ মিটার এবং নিচে থেকে একটি সরু জলধারা বয়ে যাচ্ছে। গুহাগুলি থেকে পাথর কেটে সিড়ি নির্মিত আছে যেগুলি নদীতে এসে নামছে। সম্ভবত উপত্যকার নিরিবিলি ও শান্ত পরিবেশ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য খুব উপযোগী ছিল। বর্ষাকালে তাঁরা বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই নির্জন গুহাগুলিতে আশ্রয় নিতেন। এই সময় তাঁরা ধর্মীয় অনুশীলন, আলোচনা ও বৌদ্ধ দর্শন নিয়ে চিন্তাভাবনা করার সুযোগ পেতেন।

১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে অজন্তা গুহাকে UNESCO-র World Heritage Site এর তকমা দিয়েছে চারটি মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য। সেগুলি হল; মানদন্ড-১: অনন্য শিল্প কীর্তি; মানদন্ড-২ ভারত ও ভারতের বাইরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার, যেমন জাভা শিল্পের উপর প্রভাব; মানদন্ড-৩ঃ ভারতীয় শিল্পের বিকাশ এবং সাতবাহন ও বাকাটক যুগে বৌদ্ধ ধর্মীয় ও শিক্ষাকেন্দ্রগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার অসাধারণ প্রমাণ এবং মানদন্ড - ৬ঃ বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি ও গভীরভাবে যুক্ত। 

অজন্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এখানকার বৌদ্ধ ঐতিহ্য, প্রাচীন স্থাপত্য এবং অসাধারণ চিত্রকলা দেখার জন্য আসেন। পর্যটনের ফলে স্থানীয় গাইড, পরিবহণকর্মী, হোটেল ও পর্যটনকর্মী, কারুশিল্পী এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে পর্যটন ভারতের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করে। তবে পর্যটন অবশ্যই দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করতে হবে। অজন্তার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, কার্বন ডাই-অক্সাইড, ধুলিকণা, আলো এবং জীবাণুর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। সাম্প্রতীক একটি গবেষণায় দেখা গেছে বেশিমাত্রায় পর্যটকের আগমনের ফলে অজন্তায় আদ্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নির্মাণকে ক্ষতিগ্রিস্ত করছে। তাই অজন্তার ক্ষেত্রে টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এর উদ্দেশ্য হবে একদিকে পর্যটকদের অজন্তা দেখার সুযোগ দেওয়া এবং অন্যদিকে এর মূল্যবান শিল্পকর্ম ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আরবদের সিন্ধু অভিযানঃ প্রত্যক্ষ কারণ ও তাৎপর্য | Arab Conquest of Sindh: Immediate Causes and Significance

আরবদের সিন্ধু অভিযানঃ প্রত্যক্ষ কারণ ও তাৎপর্য সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে আরবদেশে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে। ইসলাম আরবদের নতুন করে জীবনীশক্তির সঞ্চার করে । ইসলাম ক্রমশ: একটি ধর্ম থেকে রাজনৈতিক শক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তারা আরবীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। ভারতবর্ষের সঙ্গে আরবদের যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। বাণিজ্যিক সূত্রে তারা নিয়মিত ভারতের উপকূল গুলিতে, বিশেষ করে মালাবার উপকূলে আসত। ভারতীয় ও চীনা পণ্য 'ধাও' নামক বিশেষ জাহাজে করে নিয়ে তারা ইউরোপের বাজারে বিক্রি করত। 712 খ্রিস্টাব্দে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর সেনাপতি ও জামাতা মোহাম্মদ বিন কাসেম সিন্ধু দেশে একটি সফল অভিযান করেন এবং সিন্ধুদেশ আরবীয় মুসলমানদের অধীনে চলে যায়। অভিযানের(প্রত্যক্ষ) কারণ ভারতবর্ষের প্রতি আরবদের দীর্ঘদিনের নজর ছিল। এর আগেও বহুবার ভারতের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পাঠানো হয়েছিল। তবে এই(712 খৃ:) অভিযানের একটি প্রত্যক্ষ কারণ ছিল। জানা যায় যে সিংহলের রাজা ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কে কয়েকটি জাহাজে করে উপঢৌকন পাঠাচ্ছিলেন কিন্তু পথে সিন্ধু দেশের জলদস্যুরা দেবল বন্দরে এ...

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ | Category of Archives

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ মহাফেজখানা বা লেখ্যাগারগুলি সাধারণ জনতার জন্য নয় মূলত গবেষক, ঐতিহাসিক, আইনবিদ, চিত্র পরিচালক প্রভৃতি পেশার লোকজন তাদের গবেষণার কাজে লেখ্যাগারে নথি পত্র দেখতে পারেন।  লেখ্যাগার পরিচালনা ও সংরক্ষিত নথির ভিত্তিতে লেখ্যাগগুলিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।   1. সরকারি লেখ্যাগার:- কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে যে লেখ্যাগারগুলি গড়ে ওঠে। সেগুলিকে সরকারি লেখ্যাগার বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরকম সরকার পরিচালিত এক বা একাধিক লেখ্যাগার থাকে। যেমন, আমেরিকার Natonal Archive And records Administration (NARA)। ভারতবর্ষে র কেন্দ্রীয় লেখ্যাগার National Archive of India নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঐতিহাসিক, প্রশাসনিক ও আইনগত নথি, মানচিত্র, নক্সা,  পাণ্ডুলিপি প্রভৃতি সংরক্ষিত থাকে। 2. বানিজ্যিক লেখ্যাগার:-  এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানের লেখ্যাগার বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান   মূলত তাদের সংস্থার ঐতিহাসিক এবং বানিজ্যিক নথি সংরক্ষিত রাখে। যেমন, ভারতের প্রথম বানিজ্যিক লেখ্যাগার হলো পুনার Tata Centrel Archive। 3. অলাভজনক লেখ্যাগ...

ষোড়শ শতকীয় ইউরোপে মূল্যবিপ্লব | Price Revolution

 ষোড়শ শতকের ইউরোপে মূল্য বিপ্লব   16 শতাব্দীতে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো মূল্য বিপ্লব। নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মূল্য প্রায় 150 বছর সুস্থির থাকার পর ঊর্ধ্বমুখী হতে আরম্ভ করে, এবং 16 শতাব্দীর শেষে খাদ্যপণ্যের মূল্যের প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। পশ্চিম ইউরোপের অর্থনীতিতে এমন অভাবনীয় এবং সুদুরপ্রসারী ফলাফলসম্পন্ন ঘটনা মূল্য বিপ্লব নামে পরিচিত। মূল্য বিপ্লবের কতগুলি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যথা--    (১) কৃষিজ পণ্যের তুলনায় শিল্পজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ছিল কম, এবং খাদ্যশস্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। (২) ভূমি রাজস্ব সহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক, তোলা ইত্যাদির হার বৃদ্ধি এবং ফটকাবাজির আবির্ভাব। (৩) মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় মজুরির হার খুবই কম ছিল বলে প্রকৃত আয় হ্রাস পেয়েছিল। (৪) ভূমি বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত হওয়া। (৫) গ্রামীণ বুর্জোয়াজি শ্রেণীর আবির্ভাব। ষোড়শ শতকের আগেও প্রাকৃতিক কারণে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, তবে তা ছিল 2, 3 শতাংশের মতো, যা অস্বাভাবিক মনে হতো না। কিন্তু ষোল শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে যে নিরবিচ্ছিন্ন মূল্যবৃদ্ধি হ...