সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ভারতের ইতিহাসে যুগ বিভাজন

Please visit our  Homepage and Subscribe us. ভারতের ইতিহাসে যুগবিভাগ একটি জটিল ও বিতর্কিত বিষয়। প্রাচীন ঐতিহ্য পুরানে চক্রাকার কালচেতনা বিদ্যমান। কিন্তু ইউরোপীয় ধারণায় সময় হল রৈখিক। আধুনিক ইতিহাসচর্চায় অবশ্য এই রৈখিক কালচেতনাকেই গ্রহণ করা হয় এবং সেই ভাবেই ইতিহাসের যুগ বিভাজন করা হয়। ইতিহাস বলতে বোঝায় সেই বিষয়কে যা মানুষের ক্রমবিবর্তনের ধারাবাহিক বিবরণ দেওয়ার চেষ্টা করে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতাকে যদি আমরা মানি তাহলে যুগ বিভাজন অযৌক্তিক হয়ে দাড়ায়। কারণ যুগবিভাজন করতে হলে কোন একটি নির্দিষ্ট দিন বা বছর থেকে একটা নতুন যুগের সূচনা এবং আগেরটির সমাপ্তি মেনে নিতে হয়। আর মানব সভ্যতার বিবর্তন  ধীর অথচ চলমান একটি প্রক্রিয়া, যাকে কোনো একটি নির্দিষ্ট সময় দিয়ে বিচার করা যায় না। তবুও আলোচনার সুবিধার জন্য আমরা সমগ্র ইতিহাস কে বিভিন্ন পর্বে বিভক্ত করে, ভিন্ন ভিন্ন যুগ হিসেবে চিহ্নিত করে চর্চা করে থাকি। পুরান ঐতিহ্য 'কাল'কে চারটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে: সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর এবং কলি। সত্যযুগ সবচেয়ে উৎকৃষ্ট যুগ এবং কলিযুগ সবচেয়ে ঘৃণ্যতর। প্রতিটি পরবর্তী যুগ তার পূর্ববর্...

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজনৈতিক অবদান | Political Contributions of Chandragupta II

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজনৈতিক অবদান সমুদ্রগুপ্তের উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁর পুত্র দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ৩৭৬ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে বসেন। অনেকেই মনে করেন যে, সমুদ্রগুপ্তের ন্যায়সঙ্গত উত্তরাধিকারী ছিলেন রামগুপ্ত। আসলে এই ধারণাটির উদ্ভব হয়েছে বিশাখদত্তের দেবীচন্দ্রগুপ্তম   নাটক থেকে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে রামগুপ্ত শক  রাজার হাতে পরাজিত ও নিহত হলে তার ভাই দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত কৌশলে শক  শিবিরে ঢুকে শক রাজাকে হত্যা করে তাঁর বৌদি ধ্রুব দেবীর  পানি গ্রহণ করেন।  কিন্তু দীনেশচন্দ্র সরকার উপরোক্ত ধারণার অসারতা প্রমাণ করেছেন মথুরা স্তম্ভলেখর আলোকে। তাছাড়া রামগুপ্তের  মুদ্রাগুলি কোনো মতেই ষষ্ঠ শতকের আগের নয়। তাই রামগুপ্ত দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সমসাময়িক ছিলেন না এবং দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তই ছিলেন সমুদ্রগুপ্তের অব্যবহিত উত্তরাধিকারী। দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল পশ্চিম ভারতের ক্ষমতাসীন শক ক্ষত্রপদের উৎখাত। শক ক্ষত্রপ চষ্টন  গুজরাট, কাথিয়াবাড় এবং উজ্জয়িনী  এলাকায় রাজত্ব করছিলেন। মুদ্রাগত সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, ৪১০-৪১১ ...

স্কন্দগুপ্তের রাজনৈতিক কৃতিত্ব | Skandagupta: The Last Powerful Gupta Ruler

স্কন্দগুপ্তের রাজনৈতিক কৃতিত্ব গুপ্ত রাজবংশের শেষ শক্তিশালী শাসক ছিলেন স্কন্দগুপ্ত , যার সময় গুপ্ত সাম্রাজ্যের আয়তন অন্তত অবিকৃত ছিল।  জুনাগড়, ইন্দোর ও ভিতারি সহ মোট 5টি  লেখ এবং কিছু মুদ্রা স্কন্দগুপ্ত সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। প্রথম কুমার গুপ্তের পুত্র স্কন্দগুপ্ত; তবে তাঁর সিংহাসন আরোহন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে । জুনাগড় লেখতে গুপ্ত সম্রাট হিসাবে কুমারগুপ্তের পুত্র স্কন্দগুপ্তের নাম পাওয়া যায়; অন্যদিকে বিহার লেখতে কুমার গুপ্তের পুত্র ও উত্তরাধিকারী হিসেবে নাম রয়েছে পুরুগুপ্তের। ভিতারি লেখতেও অনুরূপ বিবরণ রয়েছে; কিন্তু সেখানে স্কন্দগুপ্তের নাম নেই। প্রথম কুমারগুপ্তর শাসনের অবসান এবং স্কন্দগুপ্তর শাসনের সূচনা সন তারিখ একই (136 গুপ্তাব্দ )। তাই মনে করা হয় স্কন্দগুপ্তই প্রথম কুমারগুপ্তের পরবর্তী শাসক। বতীন্দ্রনাথ মুখার্জীর মতে,  পুরুগুপ্ত  স্কন্দগুপ্তের পরবর্তী শাসক; কারণ পুরু গুপ্তের মুদ্রা 144 গ্রেন তৈলরীতির, যা স্কন্দগুপ্ত সূচনা করেছিলেন। অন্যদিকে রমেশচন্দ্র মজুমদার মনে করেন, ভাতৃবিরোধে জয়লাভের মাধ্যমে স্কন্দগুপ্ত সিংহাসন দখল করেন। অনুমান করা যায় যে, কুমা...

রাজপুত জাতির উত্থান: একটি ঐতিহাসিক বিতর্ক | Origin of Rajputa: A Historical Debate

রাজপুত জাতির উত্থান: একটি ঐতিহাসিক বিতর্ক সপ্তম থেকে দ্বাদশ  শতক পর্যন্ত ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাজপুতদের  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সমকালীন সাহিত্যে প্রায় 36 টি রাজপুত গোষ্ঠীর কথা জানা যায়। এদের মধ্যে অন্যতম হল- গুর্জর, প্রতিহার, চৌহান, পরমার, শিশোদিয়া, সোলাঙ্কি, চান্দেল্ল, তোমর, কলুচুরি, গহরবল প্রভৃতি। স্বাধীনতাপ্রিয়, দেশপ্রেমিক এবং হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির রক্ষাকর্তা হিসেবে রাজপুতরা সুবিদিত। তবে তাদের প্রধান দুর্বলতা ছিল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং অনৈক্য। রাজপুতদের উত্থান হয়েছে কিভাবে, তারা দেশি না বিদেশি এই নিয়ে বিতর্ক আছে। ঐতিহাসিক গৌরী শংকর হীরাচাঁদ ওঝা, দশরথ শর্মা প্রমুখ মনে করেন, রাজপুতরা এদেশীয়। তাদের আচার আচরণের সঙ্গে বিদেশি শক, হুন ও গুর্জরদের কিছু মিল থাকলেও তারা আসলে আর্য। কারণ তারা অশ্বমেধ যজ্ঞ করে, সতীদাহ প্রথা মেনে চলে এবং সূর্যের পূজা করে। মেবারের শিশোদিয়ারা নিজেদেরকে পরিচয় দেয় রামচন্দ্রের বংশধর বলে। গুর্জর প্রতিহাররা নিজেদের লক্ষণের বংশধর বলে মনে করে। রামায়ণ-মহাভারতের সূর্যবংশীয়- চন্দ্রবংশীয় রাজাদের সাথে রাজপুতদের  যোগাযোগের কথাও বলা হয়ে থাকে।...

গুপ্তযুগে কি স্বর্ণযুগ | Was the Gupta Period a Golden Age?

ভারতের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ বিতর্ক   পঞ্চদশ শতকীয় ইউরোপে রেনেসাঁর যুগে নবজাগরণের পণ্ডিতগন ইউরোপে স্বর্ণযুগের সন্ধানে রত হয়েছিলেন। মধ্যযুগের উত্তরাধিকারের কথা প্রায় বিস্মৃত হয়ে তারা প্রাচীন গ্রীক ও রোমান সংস্কৃতির মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছিলেন। মধ্যবর্তী শতকগুলি অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগের আখ্যা লাভ করেছিল। জ্ঞান চর্চা ও জীবনচর্চায় ধ্রুপদী সংস্কৃতিকে অনুসরণ করা হয়েছিল। ১৮ শতকে ভারততত্ত্ব আলোচনা করতে গিয়ে প্রথম যুগের প্রাচ্যবিদ্যা-বিশারদগণ প্রাচীন ভারতের এমন এক সংস্কৃতির সন্ধান লাভ করেছিলেন, যার মাহাত্ম্য ইউরোপীয় ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সঙ্গে তুলনীয়। এই সংস্কৃতি হল গুপ্ত যুগীয় সংস্কৃতি। গুপ্ত যুগকে ‘স্বর্ণযুগ’ বলে অভিহিত করা হল। 330 খ্রিস্টাব্দ থেকে 550 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময় কালে ভারতের বৃহৎ অঞ্চলে গুপ্ত বংশীয় শাসকেরা রাজত্ব করেছিলেন। গুপ্তদের  রাজত্বকালে ভাষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রকলায় অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছিল। এই সমস্ত উৎকর্ষতার দিকে তাকিয়ে পণ্ডিতরা এই যুগকে স্বর্ণযুগের আখ্যা দিয়েছেন। ভিন্সেন্ট স্মিথ, সমুদ্রগুপ্তকে ভারতের নেপোলিয়ন বলেছিলেন,-- গু...