সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Bell of Justice | বিচারের ঘন্টা

Abdul Mojaffar Mondal,
Assistant Professor, Sonarpur Mahavidyalaya.

Bell of Justice | বিচারের ঘন্টা

জাহাঙ্গীর ন্যায়বিচার প্রদানের জন্য সকলের প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এরকমই একটি পদক্ষেপ ছিল 'ন্যায় কা জাঞ্জির" বা ''বিচারের ঘণ্টা'' বা Bell of Justice . সাধারণ মানুষ যাতে রাজার কাছে সরাসরি বিচার চাইতে পারে, রাজকর্মচারীদের দ্বারা তারা যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হন তার জন্য তিনি আগ্রা দুর্গ এর ভিতর একটি ঘণ্টা টাঙিয়ে দেন এবং ঘন্টাতে যুক্ত একটি সোনার শিকল যমুনা নদীর তীর পর্যন্ত ত্রিশ গজ দূরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। জাহাঙ্গীর তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, যদি বিচার বিভাগীয় অফিসাররা নিপীড়িত ব্যাক্তির অভিযোগ তদন্তে ও তাকে যথাযথ বিচার প্রদানে ব্যর্থ হন তাহলে উক্ত ব্যাক্তি সম্রাটের কাছ থেকে সরাসরি বিচার পাওয়ার জন্য এই ঘণ্টার শিকলটি ধরে টানতে পারে।  উইলিয়াম ফিঞ্চের লেখা থেকে জানা যায়, সম্রাটের দরবারে বিচারপ্রার্থীকে ডাক করা হত এবং অন্যায়ের বিষয়টি তার মুখ থেকে শোনা হত।  তবে অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযোগকারীকে শাস্তি দেওয়া হত। ক্যাপ্টেন হকিন্সও উল্লেখ করেছেন যে, সম্রাটের কানে ঘন্টার আওয়াজ আসা মাত্রই উক্ত ব্যাক্তিকে সম্রাটের দরবারে আনার ব্যাবস্থা করা হত।
Jahangir was praised by many of his contemporaries for his effort to deliver justice. He took several steps to establish justice. One such move was the "Bell of Justice". He hung a bell inside the Agra fort so that the common people could seek justice directly from the king, so that they would not be hindered by the courtiers. A gold chain attached to the bell is hung thirty yards to the bank of the river Jamuna.  Jahangir wrote in his autobiography that, if the judicial officer failed to investigate the allegations and bring him to justice, the victim can shake the chain  to get justice directly from the emperor. According to William Finch, the victim was called and let him to say his grievances before the emperor. However, if the allegations were false, the complainant would have been punished. Captain Hawkins also said that as soon as the emperor heard the bells action was taken rapidly. 

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আরবদের সিন্ধু অভিযান | কারণ ও তাৎপর্য

আরবদের সিন্ধু অভিযান | কারণ ও তাৎপর্য Please visit our Homepage and subscribe us. Suggested Topics || Ghajnavid Invasion || গজনী আক্রমণ || || মামুদের সোমনাথ মন্দির লুণ্ঠন || Somnath Temple Plunder || || তরাইনের যুদ্ধ ও তার গুরুত্ত্ব || মহম্মদ ঘুরির ভারত আক্রমন ও তার চরিত্র || সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে আরবদেশে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে। ইসলাম আরবদের নতুন করে জীবনীশক্তির সঞ্চার করে । ইসলাম ক্রমশ: একটি ধর্ম থেকে রাজনৈতিক শক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তারা আরবীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। ভারতবর্ষের সঙ্গে আরবদের যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। বাণিজ্যিক সূত্রে তারা নিয়মিত ভারতের উপকূল গুলিতে, বিশেষ করে মালাবার উপকূলে আসত। ভারতীয় ও চীনা পণ্য 'ধাও' নামক বিশেষ জাহাজে করে নিয়ে তারা ইউরোপের বাজারে বিক্রি করত। 712 খ্রিস্টাব্দে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর সেনাপতি ও জামাতা মোহাম্মদ বিন কাসেম সিন্ধু দেশে একটি সফল অভিযান করেন এবং সিন্ধুদেশ আরবীয় মুসলমানদের অধীনে চলে যায়। অভিযানের(প্রত্যক্ষ) কারণ ভারতবর্ষের প্রতি আরবদের দীর্ঘদিনের নজর ছিল। এর আ...

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ | Category of Archives

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ মহাফেজখানা বা লেখ্যাগারগুলি সাধারণ জনতার জন্য নয় মূলত গবেষক, ঐতিহাসিক, আইনবিদ, চিত্র পরিচালক প্রভৃতি পেশার লোকজন তাদের গবেষণার কাজে লেখ্যাগারে নথি পত্র দেখতে পারেন।  লেখ্যাগার পরিচালনা ও সংরক্ষিত নথির ভিত্তিতে লেখ্যাগগুলিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।   1. সরকারি লেখ্যাগার:- কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে যে লেখ্যাগারগুলি গড়ে ওঠে। সেগুলিকে সরকারি লেখ্যাগার বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরকম সরকার পরিচালিত এক বা একাধিক লেখ্যাগার থাকে। যেমন, আমেরিকার Natonal Archive And records Administration (NARA)। ভারতবর্ষে র কেন্দ্রীয় লেখ্যাগার National Archive of India নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঐতিহাসিক, প্রশাসনিক ও আইনগত নথি, মানচিত্র, নক্সা,  পাণ্ডুলিপি প্রভৃতি সংরক্ষিত থাকে। 2. বানিজ্যিক লেখ্যাগার:-  এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানের লেখ্যাগার বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান   মূলত তাদের সংস্থার ঐতিহাসিক এবং বানিজ্যিক নথি সংরক্ষিত রাখে। যেমন, ভারতের প্রথম বানিজ্যিক লেখ্যাগার হলো পুনার Tata Centrel Archive। 3. অলাভজনক লেখ্যাগ...

ষোড়শ শতকীয় ইউরোপে মূল্যবিপ্লব | Price Revolution

 ষোড়শ শতকের ইউরোপে মূল্য বিপ্লব   16 শতাব্দীতে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো মূল্য বিপ্লব। নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মূল্য প্রায় 150 বছর সুস্থির থাকার পর ঊর্ধ্বমুখী হতে আরম্ভ করে, এবং 16 শতাব্দীর শেষে খাদ্যপণ্যের মূল্যের প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। পশ্চিম ইউরোপের অর্থনীতিতে এমন অভাবনীয় এবং সুদুরপ্রসারী ফলাফলসম্পন্ন ঘটনা মূল্য বিপ্লব নামে পরিচিত। মূল্য বিপ্লবের কতগুলি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যথা--    (১) কৃষিজ পণ্যের তুলনায় শিল্পজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ছিল কম, এবং খাদ্যশস্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। (২) ভূমি রাজস্ব সহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক, তোলা ইত্যাদির হার বৃদ্ধি এবং ফটকাবাজির আবির্ভাব। (৩) মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় মজুরির হার খুবই কম ছিল বলে প্রকৃত আয় হ্রাস পেয়েছিল। (৪) ভূমি বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত হওয়া। (৫) গ্রামীণ বুর্জোয়াজি শ্রেণীর আবির্ভাব। ষোড়শ শতকের আগেও প্রাকৃতিক কারণে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, তবে তা ছিল 2, 3 শতাংশের মতো, যা অস্বাভাবিক মনে হতো না। কিন্তু ষোল শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে যে নিরবিচ্ছিন্ন মূল্যবৃদ্ধি হ...