সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গথিক স্থাপত্য রীতি | Gothic Style of Architecture

গথিক স্থাপত্য রীতি 

মধ্যযুগের ইউরোপের স্থাপত্য বলতে মূলত গির্জা স্থাপত্যকে বোঝায়। প্রথমদিকে যে গির্জাগুলি তৈরি হত সেগুলি মূলত কাঠের তৈরি। নবম ও দশম শতকের অরাজক পরিস্থিতিতে সেগুলি ধ্বংস হয়ে যায়। একাদশ শতকে ক্লুনি সংস্কার আন্দোলনের সময় পুনরায় চার্চ নির্মাণের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। এই সময়ে মূলত রোমান রীতিতে চার্চ নির্মিত হত। রোমান রীতির বড় সমস্যা ছিল সূক্ষ্মতার অভাব। দেওয়াল গুলি এত মোটা হত যে জানালা কাটা যেত না। তাই চার্চে আলোর অভাব পরিলক্ষিত হত। রোমান রীতির এই সমস্যাগুলি দূর হয়েছিল গথিক রীতির বিকাশের ফলে।

গথিক রীতির মূল কেন্দ্র ছিল উত্তর ফ্রান্স। দ্বাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে গথিক রীতির আবির্ভাব হয় এবং ত্রয়োদশ শতকে এই রীতি তার উৎকর্ষের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছায়। পঞ্চদশ শতকের শেষ এবং ষোড়শ শতকের সূচনাকাল পর্যন্ত তার চাহিদা বজায় রাখতে পেরেছিল। গথিক রীতি মানে গথদের রীতি এমনটা নয়। আসলে পরাজিত ইতালীয়রা প্রচলিত নিয়মের বিরোধী সবকিছুকে 'গথিক' বলে উপহাস করত। তাই এই নতুন রীতি  গথিক রীতি নামে পরিচিত হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে গথিক রীতি ছিল একটি মিশ্র শিল্পরীতি। এই রীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল কৌণিক ও সুক্ষ খিলান। আড়াআড়িভাবে স্থাপিত খিলানের উপর কড়িকাঠ থাকত। এই কারণে গথিক রীতিতে নির্মিত গির্জায় অনেকগুলি জানালা থাকত। জানালা গুলিতে রঙিন কাঁচ বসানো থাকত, যার ফলে গির্জার মধ্যে ভালো রকমের আলো প্রবেশ করতে পারত। 

গথিক রীতিতে নির্মিত গির্জাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইংল্যান্ডের ক্যান্টেরবেরি চার্চ, প্যারিসের নটারডাম, জার্মানির বোলন চার্চ উল্লেখযোগ্য। গথিক রীতিতে নির্মিত চার্চ গুলি সব জায়গায় একই ছাচের হতো না। আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অবশ্যই থাকতো, যেমন ইংল্যান্ডের গির্জাগুলির উচ্চতা কম হত এবং জানালায় পাথরের কাজ থাকত। আবার ফ্রান্সের চার্চে যুগল টাওয়ার বানানো হত অন্যদিকে যেখানে ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে একটি করে টাওয়ার থাকত। ফ্রান্সে উদ্ভূত গথিক রীতি ইংল্যান্ড , স্পেন, জার্মানি, সুইডেন এমনকি ইতালিতেও বিস্তৃতি লাভ করে। গথিক রীতির এই জনপ্রিয়তার পিছনে একদিক থেকে যেমন নবজাগরণের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, অন্যদিকে ধনী মানুষের দানের টাকা ছাড়া এই রীতির এত প্রয়োগ সম্ভব ছিল না।

Gothic Style of Architecture

Medieval European architecture primarily refers to church architecture. Initially, churches were mainly built of wood. However, during the anarchical conditions of the 9th and 10th centuries, many of these structures were destroyed. In the 11th century, during the Cluniac Reformation movement, efforts to rebuild churches became evident. At that time, churches were mainly constructed in the Romanesque style. However, a major drawback of the Romanesque style was its lack of refinement. The walls were so thick that windows could not be carved, leading to a significant lack of light inside the churches. These issues of the Romanesque style were resolved with the development of the Gothic style.

The Gothic style primarily emerged in northern France. It appeared around the mid-12th century and reached its peak of excellence in the 13th century. This architectural style remained in demand until the late 15th and early 16th centuries. The term "Gothic" does not imply that it was the style of the Goths. In reality, defeated Italians used to mock anything that deviated from the established norms by calling it "Gothic." As a result, this new style became known as the Gothic style. In essence, Gothic architecture was a fusion of different artistic influences.

The key features of the Gothic style included pointed and intricate arches. The ceilings were supported by cross-ribbed vaults, which allowed for the construction of numerous windows in Gothic churches. These windows were fitted with stained glass, enabling ample light to enter the interiors of the churches.

Some of the most notable Gothic-style churches include the Canterbury Cathedral in England, Notre-Dame in Paris, and Cologne Cathedral in Germany. However, Gothic-style churches did not follow a uniform design everywhere; they had regional characteristics. For example, churches in England were generally shorter in height and featured elaborate stonework on the windows. In contrast, French churches often had twin towers, whereas English churches typically had a single tower. Originating in France, the Gothic style spread to England, Spain, Germany, Sweden, and even Italy. This architectural style's popularity was driven by the influence of the Renaissance and the generous financial contributions of wealthy patrons, without which such extensive construction would not have been possible.

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আরবদের সিন্ধু অভিযান | কারণ ও তাৎপর্য

আরবদের সিন্ধু অভিযান | কারণ ও তাৎপর্য Please visit our Homepage and subscribe us. Suggested Topics || Ghajnavid Invasion || গজনী আক্রমণ || || মামুদের সোমনাথ মন্দির লুণ্ঠন || Somnath Temple Plunder || || তরাইনের যুদ্ধ ও তার গুরুত্ত্ব || মহম্মদ ঘুরির ভারত আক্রমন ও তার চরিত্র || সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে আরবদেশে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে। ইসলাম আরবদের নতুন করে জীবনীশক্তির সঞ্চার করে । ইসলাম ক্রমশ: একটি ধর্ম থেকে রাজনৈতিক শক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তারা আরবীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। ভারতবর্ষের সঙ্গে আরবদের যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। বাণিজ্যিক সূত্রে তারা নিয়মিত ভারতের উপকূল গুলিতে, বিশেষ করে মালাবার উপকূলে আসত। ভারতীয় ও চীনা পণ্য 'ধাও' নামক বিশেষ জাহাজে করে নিয়ে তারা ইউরোপের বাজারে বিক্রি করত। 712 খ্রিস্টাব্দে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর সেনাপতি ও জামাতা মোহাম্মদ বিন কাসেম সিন্ধু দেশে একটি সফল অভিযান করেন এবং সিন্ধুদেশ আরবীয় মুসলমানদের অধীনে চলে যায়। অভিযানের(প্রত্যক্ষ) কারণ ভারতবর্ষের প্রতি আরবদের দীর্ঘদিনের নজর ছিল। এর আ...

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ | Category of Archives

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ মহাফেজখানা বা লেখ্যাগারগুলি সাধারণ জনতার জন্য নয় মূলত গবেষক, ঐতিহাসিক, আইনবিদ, চিত্র পরিচালক প্রভৃতি পেশার লোকজন তাদের গবেষণার কাজে লেখ্যাগারে নথি পত্র দেখতে পারেন।  লেখ্যাগার পরিচালনা ও সংরক্ষিত নথির ভিত্তিতে লেখ্যাগগুলিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।   1. সরকারি লেখ্যাগার:- কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে যে লেখ্যাগারগুলি গড়ে ওঠে। সেগুলিকে সরকারি লেখ্যাগার বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরকম সরকার পরিচালিত এক বা একাধিক লেখ্যাগার থাকে। যেমন, আমেরিকার Natonal Archive And records Administration (NARA)। ভারতবর্ষে র কেন্দ্রীয় লেখ্যাগার National Archive of India নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঐতিহাসিক, প্রশাসনিক ও আইনগত নথি, মানচিত্র, নক্সা,  পাণ্ডুলিপি প্রভৃতি সংরক্ষিত থাকে। 2. বানিজ্যিক লেখ্যাগার:-  এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানের লেখ্যাগার বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান   মূলত তাদের সংস্থার ঐতিহাসিক এবং বানিজ্যিক নথি সংরক্ষিত রাখে। যেমন, ভারতের প্রথম বানিজ্যিক লেখ্যাগার হলো পুনার Tata Centrel Archive। 3. অলাভজনক লেখ্যাগ...

ষোড়শ শতকীয় ইউরোপে মূল্যবিপ্লব | Price Revolution

 ষোড়শ শতকের ইউরোপে মূল্য বিপ্লব   16 শতাব্দীতে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো মূল্য বিপ্লব। নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মূল্য প্রায় 150 বছর সুস্থির থাকার পর ঊর্ধ্বমুখী হতে আরম্ভ করে, এবং 16 শতাব্দীর শেষে খাদ্যপণ্যের মূল্যের প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। পশ্চিম ইউরোপের অর্থনীতিতে এমন অভাবনীয় এবং সুদুরপ্রসারী ফলাফলসম্পন্ন ঘটনা মূল্য বিপ্লব নামে পরিচিত। মূল্য বিপ্লবের কতগুলি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যথা--    (১) কৃষিজ পণ্যের তুলনায় শিল্পজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ছিল কম, এবং খাদ্যশস্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। (২) ভূমি রাজস্ব সহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক, তোলা ইত্যাদির হার বৃদ্ধি এবং ফটকাবাজির আবির্ভাব। (৩) মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় মজুরির হার খুবই কম ছিল বলে প্রকৃত আয় হ্রাস পেয়েছিল। (৪) ভূমি বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত হওয়া। (৫) গ্রামীণ বুর্জোয়াজি শ্রেণীর আবির্ভাব। ষোড়শ শতকের আগেও প্রাকৃতিক কারণে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, তবে তা ছিল 2, 3 শতাংশের মতো, যা অস্বাভাবিক মনে হতো না। কিন্তু ষোল শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে যে নিরবিচ্ছিন্ন মূল্যবৃদ্ধি হ...