সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পিরেন থিসিস | Pirenne's Thesis on Medieval Europe

মধ্যযুগের ইউরোপের উপর পিরেনের তত্ত্ব

মধ্যযুগে খ্রীষ্টান জগৎ, ইসলামীয় সাম্রাজ্য এবং ক্যারােলিঞ্জিয় রাজ্যের বিকাশের উপর আরবদের সম্প্রসারণের প্রভাব সম্পর্কে বেলজিয়ান ঐতিহাসিক হেনরী পিরেনের অভিমত ঐতিহাসিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ‘Medieval Cities' নামক গ্রন্থে পিরেন-এর মতবা প্রথম প্রকাশিত হয়। তারপর ‘ Muhammad And Charlemagne গ্রন্থে তার সিদ্ধান্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান দ্বারা সমর্থিত হয়। তার বক্তব্য ইউরােপীয় পণ্ডিত সমাজকে বিস্মিত করেছিল। হেনরী পিরোনাের মূল বক্তব্য হল খ্ৰীষ্টীয় চতুর্থ ও পঞ্চম শতকে বর্বর জাতির আক্রমণে পশ্চিম ইউরােপের ভূমধ্যসাগর কেন্দ্রিক যে জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়নি, তা সপ্তম শতকে ইসলামর শক্তির অসামান্য বিস্তারে বিপর্যস্ত হয়ে যায়। পরােক্ষভাবে ইসলামই ছিল ফ্রাঙ্করাজ শার্লামেনের সম্রাটের মর্যাদায় ভূষিত হবার মূল কারণ।

পিরেন প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইউরােপের মধ্যে ভেদরেখাকে কৃত্রিম ও অবান্তর বলে মনে করতেন। তাঁর পূর্ববর্তী ঐতিহাসিকরা ৪৭৬ খ্ৰীষ্টাব্দে রােমান সাম্রাজ্যের পতনকে প্রাচীন ইউরােপের ইতিহাসের ছেদ চিহ্ন বলে মনে করতেন। পিরেন এই মত মেন নেননি। তাঁর মতে, বর্বর আক্রমণের ফলে পশ্চিম রােমান সাম্রাজ্যের আয়তন হ্রাস পেলেও তার রাষ্ট্রীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়নি। রােমান সভ্যতা ও সংস্কৃতির মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলি অক্ষত থাকে। বৃদ্ধি পায় ভূমধ্যসাগরের উপর নির্ভরতা, ভূমধ্যসাগরের আমদানী বাণিজ্য অব্যাহত থাকে। রােমানদের জীবনে বর্বরদের রীতিনীতি ও আচার অনুষ্ঠানের অনুপ্রবেশ ঘটলেও তাদের সাময়িক জয়ের ফলে জার্মান সংস্কৃতি রােমান সংস্কৃতির স্থান দখল করতে পারেনি। রােমান সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন ছিল। ৪৭৬ খ্রীঃ থেকে ফ্রাঙ্ক শাসক শার্লামেনের আবির্ভাব পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর কেন্দ্রিক ইতিহাসের মধ্যে কোন ছেদ হেনরী পিরেন দেখতে পাননি। মেরােভিঞ্জিয়ান আমলে আগের মতই প্রাচ্য দেশগুলির সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন অব্যাহত ছিল। হেনরী পিরেন মনে করেন, বর্বর আক্রমণের ব্যাপকতা ও প্রচণ্ডতা পশ্চিম ইউরােপের অর্থনৈতিক জগতের শ্রীবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি হ্রাস করলেও কৃষিভিত্তিক সমাজের প্রতিষ্ঠা ও ব্যবসা বাণিজ্যের অপমৃত্যু ঘটেনি। বর্বর আক্রমণে রােমান সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী নগরগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বেশিরভাগ নগরের সজীবতা বজায় ছিল। নগরগুলির পৌর চরিত্র বিনষ্ট হয়নি। পিরেন পরবর্তীকালের নগরগুলিতেও রােমান নামে অস্তিত্বের সন্ধান পেয়েছেন।

পিরেন মনে করেন, বর্বর আক্রণ সত্ত্বেও পশ্চিম ইউরােপের ভূমধ্যসাগর কেন্দ্রীক জীবনযাত্রার অব্যাহত গতি কেবলমাত্র সপ্তম শতকে ইসলামীয় শক্তির অভিঘাতে স্তব্ধ হয়ে যায়। ইসলামের দিগ্বিজয় অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটায়। পঞ্চাশ বছরের মধ্যে চীন সাগর থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত ভূভাগে মুসলমান সাম্রাজ্য স্থাপিত হয় অপ্রতিহত গতিতে। মুসলমানদের অকস্মাৎ আক্রমণ ও অভূতপূর্ব সাফল্যে ইউরােপের ইতিহাসের ধ্রুপদী অধ্যায় শেষ হয়ে যায়। মুসলমান অধিকৃত অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রবর্তিত হয়। রােমান আইনের জায়গা দখল করল মুসলমান আইন-কানুন। গ্রীক ও লাতিনের স্থান অধিকার করল আরবী। সুদীর্ঘকালের রােমন প্রভাবাধীন ভুমধ্যসাগর মুসলমান হ্রদে পরিণত হল। ভূমধ্যসাগরের উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ৬৫০ খ্রীঃ থেকে আরবদের হস্তগত হবার ফলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে পশ্চিম ইউরােপের যােগাযােগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পিরেন মনে করেন, অষ্টম শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরােপের বিপর্যয় শুরু হয়েছিল। পশ্চিম ইউরােপ হয়ে পড়েছিল নিঃসঙ্গ অবরুদ্ধ। পশ্চিম ইউরােপের কেন্দ্রবিন্দু ভূমধ্যসাগর থেকে সরে গেল উত্তর ইউরােপে। রােমের জায়গা দখল করল আখেন। বহু শতাব্দীর পুরানাে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামাে সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। ছিন্ন হল পশ্চিম ইউরােপের ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। হেনরী পিরেন মনে করেন, এভাবেই ইউরােপে ধ্রুপদী যুগের অবসান ঘটেছিল এবং মধ্যযুগ শুরু হয়েছিল।
ঐতিহাসিক পিরেন-এর মতে, ক্যারোলিঞ্জিয় অধ্যায়ের উল্লেখযােগ্য সমস্ত ঘটনাই ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে মুসলমান শক্তির বিস্তারের প্রতিক্রিয়া মাত্র। ইসলামের বিজয় ক্যারোলিঞ্জিয় ফ্রাঙ্কদের ইউরােপের ভাগ্যবিধাতা হতে সাহায্য করেছিল। যে ফ্রাঙ্করা এতদিন লাতিন ইউরােপে অনুজ্জ্বল ভূমিকায় ছিল, তারা ইতিহাসের পাদপ্রদীপের সামনে আসার সুযােগ পেল। ইসলামীয় অভিঘাতে সৃষ্ট ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের শূন্যতা পূর্ণ করার দায়িত্ব ফ্রাঙ্কদেরই নিতে হয়েছিল। ভূমদ্যসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে পশ্চিম ইউরােপের বিচ্ছিন্নতার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমী সভ্যতার অবশিষ্টকে কেন্দ্র করে রােমে এক নতুন সাম্রাজ্যের জন্ম হয়। সৃষ্টি হয় পবিত্র রােমান সাম্রাজ্যের, যা ছিল সম্পূর্ণরূপে প্রাচীন পুর্ব রােমান সাম্রাজ্যের প্রভাবমুক্ত। সুতরাং পরােক্ষভাবে মুসলমানগণই ছিল ফ্রাঙ্ক রাজ শার্লামেনের সম্রাটের মর্যাদায় ভূষিত হবার মূল কারণ। অর্থাৎ “মুহম্মদ-ই শার্লামেনকে সম্রাট করেছিলেন। পিরেন মনে করেন, ইসলামী আক্রমণের ফলেই অষ্টম শতকের শুরুতে প্রাচ্যের বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তার ফলে পশ্চিম ইউরােপ অবরুদ্ধ হয়। এই অবরুদ্ধ অর্থনীতির ফলে উদ্ভব হয় সামন্ততন্ত্রের । পিরেন-এর মতে শার্লামেন সামন্ততন্ত্রের ফল। এ প্রসঙ্গে পিরেনের বিখ্যাত মন্তব্যটি স্মরণীয় "Without Islam, the Frankish Empire would probably never have existed and Charlemagne without Muhammad would be inconceivable.” তাঁর মতে, কতকগুলি অর্থনৈতিক কারণ এবং ঘটনাবলী এই দুই ব্যক্তির জীবনকে যুক্ত করেছিল। পিরেন-এর সব শেষ বক্তব্য হল – সকল ক্ষেত্রেই শার্লামেনের যুগকে পুনরুজ্জীবনের যুগ বলে মেনে নেওয়া হলেও দুর্ভাগ্যবশতঃ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই ধারণা সঠিক নয়।
হেনরী পিরেনের বক্তব্য নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ। কিন্তু অনেক ঐতিহাসিকই তা গ্রহণ করতে রাজী নন। আধুনিক গবেষণায় পিরেন-এর মতামত সমালোচিত হয়েছে।
প্রথমতঃ, ঐতিহাসিক আর, এইচ. সি. ডেভিস যুক্তি দেখিয়েছেন যে মুসলমান আক্রমণের আগেই ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যের অবনতি দেখা দিয়েছিল। তাঁর মতে ভুমধ্যসাগরের বাণিজ্য চতুর্থ শতক থেকে হ্রাস পেতে থাকে এবং সপ্তম শতকের শেষে তা চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য ডেভিস মনে করেন যে মুসলমান আক্রমণকে এই বাণিজ্যিক অবক্ষয়ের জন্য দায়ী করা সমীচীন হবে না।

দ্বিতীয়তঃ, রবার্ট লােপেজ ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্য থেকে কতকগুলি পণ্যদ্রব্যের অন্তর্হিত হওয়া সম্পর্কে পিরেনের বক্তব্যের তীব্র বিরােধিতা করেছেন। লােপেজের মতে, পিরেন কর্তৃক উল্লিখিত চারটি অন্তর্হিত হওয়া দ্রব্যের মধ্যে তিনটি—স্বর্ণমুদ্রা, বস্ত্র ও প্যাপিরাসের উপর মেরেভিঞ্জিয়ান সরকারের একচেটিয়া বাণিজ্যিক অধিকার ছিল। পিরেন বলেছেন, আরবরা ৬৩৯ খ্রীঃ থেকে ৬৪২ খ্রীঃ এর মধ্যে মিশর অধিকার করে এবং একমাত্র মিশরেই প্যাপিরাস তৈরী হত। এই বক্তব্যের বিরােধিতা করে লােপেজ দেখিয়েছেন যে ৬৯২ খ্রঃ পর্যন্ত মেরেভিঞ্জিয়ান চ্যান্সারিতে সরকারী কাজে প্যাপিরাস ব্যবহৃত হত।
তৃতীয়তঃ, ড্যানিয়েল সি, ডেনেট ও এ্যান রাইসিং যুক্তি দেখিয়েছেন যে সপ্তম অথবা অষ্টম শতকে আরবদের ভুমধ্যসাগর বন্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল এবং তারা ভুমধ্যসাগরীয় বাণিজ্য থেকে পশ্চিমকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল এমন কোন প্রমাণ নেই।
চতুর্থতঃ, ডেভিস প্রশ্ন তুলেছেন যে, যদি ধরেও নেওয়া হয় যে অষ্টম শতকের প্রথমে ভুমধ্যসাগরের বাণিজ্য হয়েছিল, তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে এই প্রমাণ কি আছে যে মুসলমান আক্রমণের ফলেই এই বাণিজ্য বন্ধ হয়েছিল ?
সুতরাং, হেনরী পিরেন-এর ‘catastrophic' বা 'আকস্মিক বিপর্যয়’-এর তত্ত্বটি মেনে নেওয়া কঠিন। আরবদের অতর্কিত আক্রমণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ধ্বংস হয়নি। পিরেন যতটা অনুমান করেছিলেন মহম্মদ-এর জীবন ইউরােপের ঘটনাবলীকে ততটা প্রভাবিত করেনি। তবুও একথা বলা যায় যে, যদিও পশ্চিমী বাণিজ্যের আকস্মিক বন্ধ হওয়ায় ঘটনাটি অতিরঞ্জিত তবুও আগের তুলনায় অষ্টম ও নবম শতাকে যে বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছিল সেদিকে পিরেন সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Pirenne's Thesis on Medieval Europe

The views of Belgian historian Henri Pirenne regarding the impact of Arab expansion on the development of the Christian world, the Islamic empire, and the Carolingian realm during the Middle Ages have sparked debates among historians. Pirenne’s ideas were first presented in his book *Medieval Cities* and later substantiated with evidence and statistics in *Muhammad and Charlemagne*. His arguments astonished European scholars. Pirenne’s central thesis was that while the barbarian invasions of the fourth and fifth centuries did not disrupt the Mediterranean-centered way of life in Western Europe, the unprecedented expansion of Islamic power in the seventh century brought about its collapse. Indirectly, Islam was the primary reason behind the Frankish king Charlemagne’s rise to imperial status. Pirenne rejected the conventional distinction between ancient and medieval Europe as artificial and unfounded. Earlier historians considered the fall of the Roman Empire in 476 CE as a decisive break in European history, but Pirenne disagreed. He argued that although barbarian invasions reduced the Western Roman Empire’s territory, its political unity remained intact. The fundamental aspects of Roman civilization and culture persisted, and Mediterranean trade continued to thrive. Despite the infiltration of barbarian customs, Germanic culture did not replace Roman traditions. The continuity of Roman civilization remained unbroken. From 476 CE until the rise of Charlemagne, Pirenne saw no disruption in Mediterranean-centered history. During the Merovingian period, trade with Eastern countries continued as before. Pirenne believed that while barbarian invasions weakened Western Europe’s economic prosperity, they did not destroy its agrarian society or commerce. Although border cities suffered, most urban centers retained their vitality. The municipal character of these cities remained unchanged, and Pirenne found traces of Roman influence in later medieval towns. According to Pirenne, it was only in the seventh century, under the impact of Islamic expansion, that Western Europe’s Mediterranean-centered life came to a halt. The rapid conquests of Islam—from the China Sea to the Atlantic within fifty years—fundamentally altered the situation. The sudden Muslim victories ended the classical phase of European history. In conquered regions, Islamic law replaced Roman law, and Arabic supplanted Greek and Latin. The Mediterranean, long under Roman dominance, became a "Muslim lake." By 650 CE, key coastal areas fell under Arab control, severing Western Europe’s connections with the wider world. Pirenne argued that Europe’s crisis began in the second half of the eighth century. Western Europe became isolated and blockaded, shifting its center from the Mediterranean to Northern Europe. Rome was replaced by Aachen, and the old social, political, and economic structures were completely transformed. The continuity of Western European history was broken, marking the end of the classical era and the beginning of the Middle Ages. Pirenne contended that all significant events of the Carolingian period were reactions to Muslim expansion in the Mediterranean. Islam’s conquests helped the Carolingian Franks emerge as Europe’s dominant power. The Franks, previously marginal in Latin Europe, now took center stage. The vacuum created by Islamic expansion in the Mediterranean had to be filled by the Franks. The separation of Western Europe from the Mediterranean led to the formation of a new empire centered on the remnants of Western civilization—the Holy Roman Empire, free from the influence of the ancient Eastern Roman Empire. Thus, Muslims were indirectly responsible for Charlemagne’s imperial coronation. In Pirenne’s famous words: *"Without Islam, the Frankish Empire would probably never have existed, and Charlemagne without Muhammad would be inconceivable."* He believed economic factors linked their destinies. Pirenne’s final argument was that while Charlemagne’s era is celebrated as a revival in many fields, this was unfortunately not true for commerce. Pirenne’s arguments were undoubtedly striking, but many historians have rejected them, and modern research has critiqued his views. 1. R.H.C. Davis argued that Mediterranean trade had already declined before Muslim invasions. He claimed that trade began diminishing in the fourth century and ended by the seventh, making it unjust to blame Muslims for this decline. 2. Robert Lopez strongly opposed Pirenne’s claim about the disappearance of certain goods from Mediterranean trade. Lopez noted that three of the four items Pirenne mentioned—gold coins, textiles, and papyrus—were under Merovingian state monopoly. Pirenne stated that Arabs conquered Egypt (639–642 CE), the sole producer of papyrus, but Lopez countered that papyrus was still used in Merovingian chanceries until 692 CE. 3. Daniel C. Dennett and Anne Rising argued that there is no evidence Arabs deliberately closed the Mediterranean or isolated the West from trade in the seventh or eighth century. 4. Davis questioned: Even if Mediterranean trade ceased in the early eighth century, where is the proof that Muslim invasions caused it? Thus, Pirenne’s "catastrophic theory" of sudden disruption is difficult to accept. International trade did not collapse due to Arab invasions, and Muhammad’s influence on European events was not as decisive as Pirenne suggested. However, Pirenne did draw attention to the decline in trade during the eighth and ninth centuries, even if he exaggerated its abruptness.

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আরবদের সিন্ধু অভিযান | কারণ ও তাৎপর্য

আরবদের সিন্ধু অভিযান | কারণ ও তাৎপর্য Please visit our Homepage and subscribe us. Suggested Topics || Ghajnavid Invasion || গজনী আক্রমণ || || মামুদের সোমনাথ মন্দির লুণ্ঠন || Somnath Temple Plunder || || তরাইনের যুদ্ধ ও তার গুরুত্ত্ব || মহম্মদ ঘুরির ভারত আক্রমন ও তার চরিত্র || সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে আরবদেশে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে। ইসলাম আরবদের নতুন করে জীবনীশক্তির সঞ্চার করে । ইসলাম ক্রমশ: একটি ধর্ম থেকে রাজনৈতিক শক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তারা আরবীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। ভারতবর্ষের সঙ্গে আরবদের যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। বাণিজ্যিক সূত্রে তারা নিয়মিত ভারতের উপকূল গুলিতে, বিশেষ করে মালাবার উপকূলে আসত। ভারতীয় ও চীনা পণ্য 'ধাও' নামক বিশেষ জাহাজে করে নিয়ে তারা ইউরোপের বাজারে বিক্রি করত। 712 খ্রিস্টাব্দে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর সেনাপতি ও জামাতা মোহাম্মদ বিন কাসেম সিন্ধু দেশে একটি সফল অভিযান করেন এবং সিন্ধুদেশ আরবীয় মুসলমানদের অধীনে চলে যায়। অভিযানের(প্রত্যক্ষ) কারণ ভারতবর্ষের প্রতি আরবদের দীর্ঘদিনের নজর ছিল। এর আ...

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ | Category of Archives

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ মহাফেজখানা বা লেখ্যাগারগুলি সাধারণ জনতার জন্য নয় মূলত গবেষক, ঐতিহাসিক, আইনবিদ, চিত্র পরিচালক প্রভৃতি পেশার লোকজন তাদের গবেষণার কাজে লেখ্যাগারে নথি পত্র দেখতে পারেন।  লেখ্যাগার পরিচালনা ও সংরক্ষিত নথির ভিত্তিতে লেখ্যাগগুলিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।   1. সরকারি লেখ্যাগার:- কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে যে লেখ্যাগারগুলি গড়ে ওঠে। সেগুলিকে সরকারি লেখ্যাগার বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরকম সরকার পরিচালিত এক বা একাধিক লেখ্যাগার থাকে। যেমন, আমেরিকার Natonal Archive And records Administration (NARA)। ভারতবর্ষে র কেন্দ্রীয় লেখ্যাগার National Archive of India নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঐতিহাসিক, প্রশাসনিক ও আইনগত নথি, মানচিত্র, নক্সা,  পাণ্ডুলিপি প্রভৃতি সংরক্ষিত থাকে। 2. বানিজ্যিক লেখ্যাগার:-  এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানের লেখ্যাগার বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান   মূলত তাদের সংস্থার ঐতিহাসিক এবং বানিজ্যিক নথি সংরক্ষিত রাখে। যেমন, ভারতের প্রথম বানিজ্যিক লেখ্যাগার হলো পুনার Tata Centrel Archive। 3. অলাভজনক লেখ্যাগ...

ষোড়শ শতকীয় ইউরোপে মূল্যবিপ্লব | Price Revolution

 ষোড়শ শতকের ইউরোপে মূল্য বিপ্লব   16 শতাব্দীতে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো মূল্য বিপ্লব। নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মূল্য প্রায় 150 বছর সুস্থির থাকার পর ঊর্ধ্বমুখী হতে আরম্ভ করে, এবং 16 শতাব্দীর শেষে খাদ্যপণ্যের মূল্যের প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। পশ্চিম ইউরোপের অর্থনীতিতে এমন অভাবনীয় এবং সুদুরপ্রসারী ফলাফলসম্পন্ন ঘটনা মূল্য বিপ্লব নামে পরিচিত। মূল্য বিপ্লবের কতগুলি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যথা--    (১) কৃষিজ পণ্যের তুলনায় শিল্পজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ছিল কম, এবং খাদ্যশস্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। (২) ভূমি রাজস্ব সহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক, তোলা ইত্যাদির হার বৃদ্ধি এবং ফটকাবাজির আবির্ভাব। (৩) মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় মজুরির হার খুবই কম ছিল বলে প্রকৃত আয় হ্রাস পেয়েছিল। (৪) ভূমি বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত হওয়া। (৫) গ্রামীণ বুর্জোয়াজি শ্রেণীর আবির্ভাব। ষোড়শ শতকের আগেও প্রাকৃতিক কারণে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, তবে তা ছিল 2, 3 শতাংশের মতো, যা অস্বাভাবিক মনে হতো না। কিন্তু ষোল শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে যে নিরবিচ্ছিন্ন মূল্যবৃদ্ধি হ...