সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মধ্যযুগের ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার পটভূমি | The Background of the Rise of Universities in Medieval Europe

মধ্যযুগের ইউরোপে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে পটভূমি  

১০ম থেকে ১৩তম শতক ইউরপের ইতিহাসে এক প্রগতির পর্ব। বানিজ্যিক বিকাশের হাত ধরে ইউরোপে নগরায়ন আরম্ভ হয়। এবং নগরায়নের নবীনতম অঙ্গ হিসাবে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে। মুলত দ্বাদশ শতকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অত্মপ্রকাশ ঘটলেও এর সূচনাকে একেবারে ক্যরোলিঞ্জিয় যুগ পর্যন্ত টেনে দেওয়া যায়। ক্যারোলিঞ্জিয় যুগ থেকে প্রগতিশীল বৌদ্ধিক বিকাশের একটি ধারা আত্মপ্রকাশ করেছিল। এই সময়েই শার্লামেন আখেনে একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছিলেন। তাই বলা যায় ক্যরোলিঞ্জিয় সময় থেকেই জ্ঞানের প্রসারের ছত্রছায়া তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার মত মৌলিক চেতনা সেই সময় ছিল না। 

একাদশ দ্বাদশ শতকে ইউরোপীয় সমাজ তিন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল। প্রথমত, চার্চের কুসংস্কার এবং তার কর্তৃত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিপরীত চিন্তা ধারা, দ্বিতীয়ত, একটি বৌদ্ধিক উন্নয়নের আবির্ভাব, যা দ্বাদশ শতকীয় রেনেসাঁ নামে পরিচিত, তৃতীয়ত, বাণিজ্যিক জোয়ার। এই সবগুলির সমন্বয়ে একটা নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, যা একটা নতুন প্রতিষ্ঠান, তথা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রয়োজন সৃষ্টি করেছিল।

সপ্তম শতকের দিকে ইউরপে যে শিক্ষাপদ্ধতি চালু ছিল তার মান ছিল অত্যন্ত নিম্ন, উদ্দেশ্যও ছিল সংকীর্ণ। ক্যাথিড্রাল ও মোনাস্টিক স্কুলগুলি শিক্ষার আলো প্রজ্জ্বলিত রেখেছিল।  শার্লামেন এই স্কুলগুলিকে অনুদান দিতেন। ফ্রান্সে তিনি কিছু সরকারি স্কুলও তৈরি করেছিলেন। ফলে শিক্ষার প্রসার নিয়ে একটা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ও সচেতনতার সূচনা হয়। শার্লামেনের পর এই ধারা বহমান থাকে। লুই দ্য ভেরোনিয়া ও চার্লস দ্য বল্ড একইভাবে অনুদান দিতেন। তাছাড়া এই সময় নগরগুলিতে একাধিক গিল্ড গড়ে উঠেছিল, যেখানে শিক্ষিত ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল। সামন্ত প্রভুদেরও গণিত জানা লোকের দরকার পড়ল। এর ফলে মানুষের মধ্যে শিক্ষিত হওয়ার আকাঙ্খা বৃদ্ধি পেতে থাকল। এই নতুন পরিস্থিতি ইউরোপে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার তাগিদ তৈরি করল। 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলি গড়ে ওঠার পিছিনে সামন্ত প্রভুদের দান ছিল অশেষ। সামন্ত প্রভুরা তার জমি দান করে এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন যেখানে ল্যাটিন ভাষা ও ল্যাটিন আইন পড়ানো হবে। কারণ সামন্ততান্ত্রিক প্রশাসনিক কাজে ল্যাটিন ভাষা আইন জানা ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল ফলে ওই সকল প্রতিষ্ঠানে ল্যাটিন ভাষা, আইন ও তর্কচর্চা বৃদ্ধি পেয়েছিল।

স্থানীয় নগর প্রশাসকেরাও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে সহযোগিতা করেছিল। তারা এমনিতেই ছিল স্বাধীনতাকামী এবং এর জন্য রাজার সঙ্গে তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হত। এই দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য তাদের আইন জানা ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে আইনের ধারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এদিকে বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে বণিক ও কারিগর শ্রেণীর সংখ্যা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাদের শারীরিক সুস্থতার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিকাশ জরুরি হয়ে পড়ে। এই কারণে উক্ত সময়ে দুটি বিশ্ববিদ্যালইয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ানো হতো।

স্পেনের পন্ডিত তারাগো মধ্যযুগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলির ওপর আরব দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থার প্রভাব খুঁজে পেয়েছেন। তার মতে এটা সম্ভব হয়েছিল মুসলমানদের দ্বারা স্পেন অধিকৃত হওয়ার ফলে। একাদশ শতকে স্পেনে বিভিন্ন মুসলমান শাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় এক বর্ণবহুল ও সজীব সংস্কৃতি জন্ম হয়েছিল। টলেডো , কর্ডোভা, মালাগা, ভালেন্সিয়া এবং সারাগোসা বিদ্যা চর্চার কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। স্পেনের বিদ্যা চর্চার কেন্দ্র হিসাবে টলেডো এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিল। টলেডো প্রমাণ করেছিল যে জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে কোন সংকীর্ণতা এবং ভেদাভেদ থাকা উচিত নয় এবং এই টলেডোর দৃষ্টান্তে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে মুক্ত, উদার এবং পরমতসহিষ্ণুতার পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীকালে আফ্রিকার দুর্ধর্ষ বর্বরদের আবির্ভাবের ফলে অসংখ্য ইহুদি এবং খ্রিস্টান পন্ডিত ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালিতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এদের সঙ্গে এক সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ঐতিহ্য যা অনেকাংশে মুসলমানদের সহায়তায় এবং পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠেছিল, তা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাহিত হয়ে যায়। 

ইউরোপে ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্রান্তে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে থাকে। পারস্পরিক মতবিনিময়, আলাপ আলোচনার সজীব কেন্দ্র হিসেবে মিলান, পিসা, সালার্নো, নেপেলস এবং পালের্ম অতি দ্রুত খ্যাতি অর্জন করেছিল। শিক্ষা বিস্তারের পরিবর্তনকে চার্চ প্রথমে ভালো চোখে দেখেনি, কারণ এখানে শেখানো বেশিরভাগ বিদ্যাই ছিল একান্তভাবে জাগতিক বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু পরবর্তীকালে যখন চার্চ বৃহত্তর হতে থাকে এবং তার ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি ক্রমশ বাড়তে থাকে তখন আইনজ্ঞ, হিসাবরক্ষক বা সম্পত্তি তদারকি করার মতো শিক্ষিত মানুষের প্রয়োজন হয়। ফলে চার্চই তখন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে থাকে। তবে এই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপর চার্চের নিয়ন্ত্রণ থাকতো অনেক বেশি।

সুতরাং ক্যারোলিঞ্জিয় সময় থেকে জ্ঞানচর্চার যে ধারার সূত্রপাত হয়েছিল তাকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ দেওয়ার জন্য সমাজের বিভিন্ন স্তরের যে বৈষয়িক তাগিদের প্রয়োজন ছিল তা উদ্ভূত হল দ্বাদশ শতকে এসে। দ্বাদশ শতকে সামন্ত প্রভু ও চার্চের মত রক্ষনশীল প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নগর প্রশাসন, বণিক, কারিগর এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠান গিল্ডগুলির তরফ থেকে বিচিত্র শিক্ষিত মানুষ নিয়োগ করার যে প্রক্রিয়া শুরু হল তা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে থাকল।

The Background of the Rise of Universities in Medieval Europe

The period from the 10th to the 13th century was one of progress in European history. With the expansion of commerce, urbanization began in Europe, and as a part of this urban development, multiple universities were established. Although the emergence of universities primarily took place in the 12th century, their origins can be traced back to the Carolingian era. A progressive intellectual movement had already begun in the Carolingian period. It was during this time that Charlemagne established a university in Aachen. Thus, the foundation for the spread of knowledge was laid during the Carolingian era. However, the fundamental consciousness required to establish universities was not yet present at that time.

During the 11th and 12th centuries, European society faced three major challenges. First, there was opposition to the Church’s superstitions, authority, and corruption. Second, an intellectual awakening took place, which came to be known as the 12th-century Renaissance. Third, there was a surge in commercial activity. The combination of these factors created a new environment that necessitated the establishment of a new institution—the university.

By the 7th century, the prevailing education system in Europe was of a very low standard and had a narrow purpose. The cathedral and monastic schools kept the light of education burning. Charlemagne provided financial support to these schools and also established some state-run schools in France. As a result, the spread of education received state patronage and conscious attention. This trend continued after Charlemagne, with Louis the Pious and Charles the Bald also providing similar support. Moreover, during this period, multiple guilds emerged in urban centers, requiring educated individuals. Feudal lords also needed people with knowledge of mathematics. Consequently, the desire for education grew among the people, creating the necessity for universities in Europe.

The role of feudal lords in the establishment of universities was significant. They donated land to build institutions where Latin language and law would be taught. Since knowledge of Latin and legal studies was essential for feudal administrative work, these institutions saw an increase in the study of Latin, law, and rhetoric.

Local urban administrators also contributed to the establishment of universities. They sought independence and often clashed with the king on various matters. To resolve these disputes, they required individuals knowledgeable in law, leading to the inclusion of legal studies in university curricula. Meanwhile, as trade expanded, the number and influence of merchants and artisans grew. To ensure their well-being, the development of medical science became essential. Consequently, during this period, medical studies were included in two major universities.

The Spanish scholar Tarago identified the influence of the Arab education system on medieval European institutions. According to him, this influence was made possible due to the Muslim conquest of Spain. During the 11th century, under the patronage of various Muslim rulers, a vibrant and diverse culture flourished in Spain. Cities such as Toledo, Cordoba, Malaga, Valencia, and Zaragoza emerged as centers of learning. Toledo, in particular, became an unparalleled example of intellectual pursuit, demonstrating that the pursuit of knowledge should not be constrained by narrow-mindedness or discrimination. Inspired by this example, an atmosphere of openness, liberalism, and tolerance developed in various parts of Europe. Later, due to the invasion of Africa’s fierce warriors, numerous Jewish and Christian scholars sought refuge in France, Germany, and Italy. Along with them, they carried a rich cultural heritage, much of which had been nurtured with the support and patronage of Muslims. This knowledge subsequently spread across different European countries.

Gradually, universities emerged in various parts of Europe. Cities such as Milan, Pisa, Salerno, Naples, and Palermo quickly gained fame as vibrant centers of intellectual exchange and discussion. Initially, the Church viewed the expansion of education with suspicion, as much of the knowledge being taught was secular in nature. However, as the Church grew in power and influence, it required educated individuals for roles such as legal advisors, accountants, and estate managers. Consequently, the Church itself began taking initiatives to establish universities, though it maintained significant control over these institutions.

Thus, although intellectual pursuits had begun during the Carolingian period, the material necessities required for shaping them into universities emerged in the 12th century. By this time, a wide range of social groups—including conservative institutions like the feudal lords and the Church, as well as urban administrators, merchants, artisans, and their guilds—began hiring educated individuals, leading to the gradual establishment of universities.

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আরবদের সিন্ধু অভিযান | কারণ ও তাৎপর্য

আরবদের সিন্ধু অভিযান | কারণ ও তাৎপর্য Please visit our Homepage and subscribe us. Suggested Topics || Ghajnavid Invasion || গজনী আক্রমণ || || মামুদের সোমনাথ মন্দির লুণ্ঠন || Somnath Temple Plunder || || তরাইনের যুদ্ধ ও তার গুরুত্ত্ব || মহম্মদ ঘুরির ভারত আক্রমন ও তার চরিত্র || সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে আরবদেশে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে। ইসলাম আরবদের নতুন করে জীবনীশক্তির সঞ্চার করে । ইসলাম ক্রমশ: একটি ধর্ম থেকে রাজনৈতিক শক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তারা আরবীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। ভারতবর্ষের সঙ্গে আরবদের যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। বাণিজ্যিক সূত্রে তারা নিয়মিত ভারতের উপকূল গুলিতে, বিশেষ করে মালাবার উপকূলে আসত। ভারতীয় ও চীনা পণ্য 'ধাও' নামক বিশেষ জাহাজে করে নিয়ে তারা ইউরোপের বাজারে বিক্রি করত। 712 খ্রিস্টাব্দে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর সেনাপতি ও জামাতা মোহাম্মদ বিন কাসেম সিন্ধু দেশে একটি সফল অভিযান করেন এবং সিন্ধুদেশ আরবীয় মুসলমানদের অধীনে চলে যায়। অভিযানের(প্রত্যক্ষ) কারণ ভারতবর্ষের প্রতি আরবদের দীর্ঘদিনের নজর ছিল। এর আ...

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ | Category of Archives

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ মহাফেজখানা বা লেখ্যাগারগুলি সাধারণ জনতার জন্য নয় মূলত গবেষক, ঐতিহাসিক, আইনবিদ, চিত্র পরিচালক প্রভৃতি পেশার লোকজন তাদের গবেষণার কাজে লেখ্যাগারে নথি পত্র দেখতে পারেন।  লেখ্যাগার পরিচালনা ও সংরক্ষিত নথির ভিত্তিতে লেখ্যাগগুলিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।   1. সরকারি লেখ্যাগার:- কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে যে লেখ্যাগারগুলি গড়ে ওঠে। সেগুলিকে সরকারি লেখ্যাগার বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরকম সরকার পরিচালিত এক বা একাধিক লেখ্যাগার থাকে। যেমন, আমেরিকার Natonal Archive And records Administration (NARA)। ভারতবর্ষে র কেন্দ্রীয় লেখ্যাগার National Archive of India নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঐতিহাসিক, প্রশাসনিক ও আইনগত নথি, মানচিত্র, নক্সা,  পাণ্ডুলিপি প্রভৃতি সংরক্ষিত থাকে। 2. বানিজ্যিক লেখ্যাগার:-  এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানের লেখ্যাগার বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান   মূলত তাদের সংস্থার ঐতিহাসিক এবং বানিজ্যিক নথি সংরক্ষিত রাখে। যেমন, ভারতের প্রথম বানিজ্যিক লেখ্যাগার হলো পুনার Tata Centrel Archive। 3. অলাভজনক লেখ্যাগ...

ষোড়শ শতকীয় ইউরোপে মূল্যবিপ্লব | Price Revolution

 ষোড়শ শতকের ইউরোপে মূল্য বিপ্লব   16 শতাব্দীতে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো মূল্য বিপ্লব। নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মূল্য প্রায় 150 বছর সুস্থির থাকার পর ঊর্ধ্বমুখী হতে আরম্ভ করে, এবং 16 শতাব্দীর শেষে খাদ্যপণ্যের মূল্যের প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। পশ্চিম ইউরোপের অর্থনীতিতে এমন অভাবনীয় এবং সুদুরপ্রসারী ফলাফলসম্পন্ন ঘটনা মূল্য বিপ্লব নামে পরিচিত। মূল্য বিপ্লবের কতগুলি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যথা--    (১) কৃষিজ পণ্যের তুলনায় শিল্পজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ছিল কম, এবং খাদ্যশস্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। (২) ভূমি রাজস্ব সহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক, তোলা ইত্যাদির হার বৃদ্ধি এবং ফটকাবাজির আবির্ভাব। (৩) মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় মজুরির হার খুবই কম ছিল বলে প্রকৃত আয় হ্রাস পেয়েছিল। (৪) ভূমি বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত হওয়া। (৫) গ্রামীণ বুর্জোয়াজি শ্রেণীর আবির্ভাব। ষোড়শ শতকের আগেও প্রাকৃতিক কারণে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, তবে তা ছিল 2, 3 শতাংশের মতো, যা অস্বাভাবিক মনে হতো না। কিন্তু ষোল শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে যে নিরবিচ্ছিন্ন মূল্যবৃদ্ধি হ...