সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাকাটক | Bakataka

 বাকাটক দের উপর সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ 

উত্তর ভারতে যখন গুপ্তরা রাজত্ব করছিল প্রায় একই সময়ে দক্ষিণ ভারতের মধ্যাংশে রাজত্ব করছিলেন বাকাটকরা। লেখমালা থেকেই একমাত্র বাকাটকদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। বাকাটকদের নামাঙ্কিত কোনো রকম মুদ্রা পাওয়া যায়নি। ২৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি কোনো এক সময় বিন্ধ্যশক্তি নামে কোনো এক শাসক বাকাটক রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি সম্ভবত বিন্ধ্য পার্বত্য এলাকায় শাসন করতেন। তাঁর পরবর্তী শাসক প্রবরসেন। প্রবরসেনের পরবর্তী বাকাটক রাজা শর্বসেনের সময় থেকে সাম্রাজ্য দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি শাখা হল নন্দীবর্ধন, আরেকটি শাখা হল বৎসগুল্ম।

বাকাটকদের নন্দীবর্ধন শাখার প্রথম উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন প্রথম রুদ্রসেন। তাঁর পুত্র ছিলেন প্রথম পৃথিবীষেণ। মধ্যপ্রদেশের বাঘেলখন্ড পর্যন্ত উত্তর অভিমুখে বাকাটক শক্তির প্রসার ঘটাতে তিনি সক্ষম হন। পরবর্তী শাসক ছিলেন দ্বিতীয় রুদ্রসেন। দ্বিতীয় রুদ্রসেনের সঙ্গে গুপ্ত রাজকন্যা প্রভাবতী গুপ্তার বিবাহ হয়েছিল। রাজার মৃত্যুর পর ১৩ বছর ধরে প্রভাবতী গুপ্তা শাসনকার্য পরিচালনা করেছিলেন। এই সময় বাকাটক দরবারে গুপ্তদের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে মনে করা হয়। তাঁর পরবর্তী শাসক ছিলেন দ্বিতীয় প্রবরসেন। তিনি যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলেন। তিনি ২৫ বছর রাজত্ব করেছিলেন। তিনি ত্রিপুরী অঞ্চলে তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, প্রবরপুর শহর (বর্তমানে ওয়ারধা) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কদম্বদের সঙ্গে তিনি বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। কদম্বরা তখন বাকাটক দের অন্য শাখা বৎসগুল্ম শাখার শত্রু। ৫০০ খ্রিস্টাব্দ থেক বাকাটকদের নন্দীবর্ধন শাখা সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।  

বৎসগুল্ম শাখার অন্যতম শাসক ছিলেন দ্বিতীয় বিন্ধ্যশক্তি। তিনি মহারাষ্ট্রের নান্দের অঞ্চলে তার প্রতিপত্তি বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার সময়ে বাকাটক দের কদম্ব জয়ের কথাও জানা যায়। এই শাখার শেষ শাসক ছিলেন হরিষেন। তার ক্ষমতা পশ্চিমে খান্দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।  যাইহোক দুই শাখা মিলিয়ে যে এলাকার উপর বাকাটক রাজবংশের কর্তৃত্ব চলত তা কম নয়। আর একারনেই খ্রিঃ চতুর্থ ও পঞ্চম শতকে বাকাটকদের গুপ্তরাও পর্যন্ত অবহেলা করতে পারেনি। 

A Brief Note on the Vakatakas

While the Guptas ruled northern India, around the same period, the Vakatakas ruled the central region of southern India. Information about the Vakatakas is primarily derived from inscriptions, as no coins bearing their name have been discovered. Around 250 CE, a ruler named Vindhyashakti is believed to have founded the Vakataka dynasty. He probably ruled over the Vindhya mountain region. His successor was Pravarasena. During the reign of his successor, Sarvasena, the Vakataka Empire was divided into two branches: Nandivardhana and Vatsagulma.

The first notable ruler of the Nandivardhana branch was Rudrasena I, whose son, Prithivishena I, expanded Vakataka power northward up to Baghelkhand in Madhya Pradesh. The next ruler was Rudrasena II, who married the Gupta princess Prabhavati Gupta. After Rudrasena II's death, Prabhavati Gupta governed for 13 years, during which the influence of the Guptas increased in the Vakataka court. The next significant ruler was Pravarasena II, a powerful king who ruled for 25 years. He established his dominance over the Tripuri region and founded the city of Pravarapura (modern-day Wardha). He also formed marital alliances with the Kadambas, who were rivals of the Vatsagulma branch of the Vakatakas. After 500 CE, there is no further historical record of the Nandivardhana branch.

A prominent ruler of the Vatsagulma branch was Vindhyashakti II, who expanded his influence over the Nanded region in Maharashtra. During his reign, the Vakatakas are also known to have defeated the Kadambas. The last known ruler of this branch was Harishena, whose power extended westward up to Khandesh.

Despite being divided into two branches, the vast territory controlled by the Vakatakas was significant. As a result, even the mighty Guptas could not afford to neglect them during the 4th and 5th centuries CE.

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আরবদের সিন্ধু অভিযান | কারণ ও তাৎপর্য

আরবদের সিন্ধু অভিযান | কারণ ও তাৎপর্য Please visit our Homepage and subscribe us. Suggested Topics || Ghajnavid Invasion || গজনী আক্রমণ || || মামুদের সোমনাথ মন্দির লুণ্ঠন || Somnath Temple Plunder || || তরাইনের যুদ্ধ ও তার গুরুত্ত্ব || মহম্মদ ঘুরির ভারত আক্রমন ও তার চরিত্র || সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে আরবদেশে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে। ইসলাম আরবদের নতুন করে জীবনীশক্তির সঞ্চার করে । ইসলাম ক্রমশ: একটি ধর্ম থেকে রাজনৈতিক শক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তারা আরবীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। ভারতবর্ষের সঙ্গে আরবদের যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। বাণিজ্যিক সূত্রে তারা নিয়মিত ভারতের উপকূল গুলিতে, বিশেষ করে মালাবার উপকূলে আসত। ভারতীয় ও চীনা পণ্য 'ধাও' নামক বিশেষ জাহাজে করে নিয়ে তারা ইউরোপের বাজারে বিক্রি করত। 712 খ্রিস্টাব্দে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর সেনাপতি ও জামাতা মোহাম্মদ বিন কাসেম সিন্ধু দেশে একটি সফল অভিযান করেন এবং সিন্ধুদেশ আরবীয় মুসলমানদের অধীনে চলে যায়। অভিযানের(প্রত্যক্ষ) কারণ ভারতবর্ষের প্রতি আরবদের দীর্ঘদিনের নজর ছিল। এর আ...

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ | Category of Archives

মহাফেজখানার শ্রেণীবিভাগ মহাফেজখানা বা লেখ্যাগারগুলি সাধারণ জনতার জন্য নয় মূলত গবেষক, ঐতিহাসিক, আইনবিদ, চিত্র পরিচালক প্রভৃতি পেশার লোকজন তাদের গবেষণার কাজে লেখ্যাগারে নথি পত্র দেখতে পারেন।  লেখ্যাগার পরিচালনা ও সংরক্ষিত নথির ভিত্তিতে লেখ্যাগগুলিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।   1. সরকারি লেখ্যাগার:- কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে যে লেখ্যাগারগুলি গড়ে ওঠে। সেগুলিকে সরকারি লেখ্যাগার বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরকম সরকার পরিচালিত এক বা একাধিক লেখ্যাগার থাকে। যেমন, আমেরিকার Natonal Archive And records Administration (NARA)। ভারতবর্ষে র কেন্দ্রীয় লেখ্যাগার National Archive of India নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঐতিহাসিক, প্রশাসনিক ও আইনগত নথি, মানচিত্র, নক্সা,  পাণ্ডুলিপি প্রভৃতি সংরক্ষিত থাকে। 2. বানিজ্যিক লেখ্যাগার:-  এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানের লেখ্যাগার বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান   মূলত তাদের সংস্থার ঐতিহাসিক এবং বানিজ্যিক নথি সংরক্ষিত রাখে। যেমন, ভারতের প্রথম বানিজ্যিক লেখ্যাগার হলো পুনার Tata Centrel Archive। 3. অলাভজনক লেখ্যাগ...

ষোড়শ শতকীয় ইউরোপে মূল্যবিপ্লব | Price Revolution

 ষোড়শ শতকের ইউরোপে মূল্য বিপ্লব   16 শতাব্দীতে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো মূল্য বিপ্লব। নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মূল্য প্রায় 150 বছর সুস্থির থাকার পর ঊর্ধ্বমুখী হতে আরম্ভ করে, এবং 16 শতাব্দীর শেষে খাদ্যপণ্যের মূল্যের প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। পশ্চিম ইউরোপের অর্থনীতিতে এমন অভাবনীয় এবং সুদুরপ্রসারী ফলাফলসম্পন্ন ঘটনা মূল্য বিপ্লব নামে পরিচিত। মূল্য বিপ্লবের কতগুলি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যথা--    (১) কৃষিজ পণ্যের তুলনায় শিল্পজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ছিল কম, এবং খাদ্যশস্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। (২) ভূমি রাজস্ব সহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক, তোলা ইত্যাদির হার বৃদ্ধি এবং ফটকাবাজির আবির্ভাব। (৩) মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় মজুরির হার খুবই কম ছিল বলে প্রকৃত আয় হ্রাস পেয়েছিল। (৪) ভূমি বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত হওয়া। (৫) গ্রামীণ বুর্জোয়াজি শ্রেণীর আবির্ভাব। ষোড়শ শতকের আগেও প্রাকৃতিক কারণে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, তবে তা ছিল 2, 3 শতাংশের মতো, যা অস্বাভাবিক মনে হতো না। কিন্তু ষোল শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে যে নিরবিচ্ছিন্ন মূল্যবৃদ্ধি হ...